Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

'যেখানে সংকট আছে, সেখানে সুযোগও আছে'

অস্থিতিশীল সময়ে বাংলাদেশের বেসরকারি খাত যেভাবে এগিয়ে যেতে পারে

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২২ এএম

বাংলাদেশ, ভুটান এবং নেপালের জন্য নিযুক্ত ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) কান্ট্রি ম্যানেজার মার্টিন হোল্টম্যানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা ট্রিবিউনের আবু সাঈদ আসিফুল ইসলাম।

বাংলাদেশের আর্থিক বাজারের ক্রমবর্ধমান অনেক কিছু রয়েছে। আমরা কোন বিষয়ে ভালো করছি এবং পরবর্তী সময়ে কী হতে হবে?

বাংলাদেশ সফল উন্নয়নের একটি বড় উদাহরণ – দেশটি আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং জনসংখ্যা কল্যাণের সূচকে ব্যাপক অগ্রগতি করেছে।

এই কৃতিত্বের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।

প্রথমত, সরকার একটি মজবুত সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের উদ্যোক্তা এবং সামাজিক উদ্যোক্তাদের একটি বৈশ্বিক-নেতৃস্থানীয় শ্রেণি রয়েছে।

তৃতীয়ত, দেশটির একটি বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে - ভারতের পর এটি এই অঞ্চলের বৃহত্তম বাজার।

চতুর্থ হলো- বাংলাদেশের শিল্পায়নের সাফল্য, যার নেতৃত্বে রয়েছে বিশ্বমানের তৈরি পোশাক খাত।

বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত স্থিতিশীল আর্থিক খাত রয়েছে। আমার জানামতে, দেশটির পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসে কখনো ব্যাংক বিপর্যয় হয়নি।

কিন্তু জিডিপিতে ব্যাংক ঋণের অনুপাত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে খুবই কম। কারণ, এখানে বেশ খণ্ডিত ব্যাংকিং খাত রয়েছে।

আমি আশা করব আগামী কয়েক দশকে এগুলোর একত্রীকরণ ঘটবে। ব্যাংকিংয়ে শক্তিশালী অর্থনীতি রয়েছে।

অনেক ব্যাংকের বর্তমানে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৬ বিলিয়ন সম্পদ রয়েছে; আমি আশা করি বাংলাদেশে শেষ পর্যন্ত ৫০ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন সম্পদের ব্যাংক থাকবে। সেই মাপের দুই বা তিনজন নেতৃত্ব থাকতে হবে।

বাংলাদেশের পরিবহন খাতে আইএফসি-এর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বলুন?

সম্প্রতি চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠকে তারা আমাকে বলেছিলেন যে, ১৯৬০ এর দশকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যেতে ৫ ঘন্টা সময় লাগত। এখন ৫-৭ ঘন্টা লাগে!

যদিও পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, তারপরও আমি মনে করি, দেশটি পরিবহন কাঠামো পিছিয়ে গেছে।সড়কে যানজট নিরসন এবং রেলে বিনিয়োগ প্রয়োজন। এটি এমন একটি জায়গা যা নিয়ে আইএফসি এবং বিশ্বব্যাংক সরকারি এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করছে।

বন্দরগুলো বাংলাদেশের শক্তিশালী সম্পদ। তবে চ্যালেঞ্জ হলো, এগুলোকে বৈচিত্র্যময় করা এবং আরও টার্মিনাল তৈরি করা।

বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহের সংকটের আলোকে আপনি কী মনে করেন যে কৃষি ব্যবসা এবং কোল্ড স্টোরেজ খাতের জন্য সহযেগিতা বাড়ানোর সময় এসেছে?

এটি বিশ্বব্যাংকের অগ্রাধিকারের শীর্ষে রয়েছে, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে। বাংলাদেশের বাজারে ফসলের সরবরাহ স্থিতিশীল করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে দুটি লেনদেনে যুক্ত হয়েছি – এর মধ্যে একটি হলো গম। একটি স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা লেনদেনকে ঝুঁকিমুক্ত করতে সাহায্য করেছি যা বাংলাদেশে ৫০%পর্যন্ত গম আমদানি নিশ্চিত করবে।

যেখানে সংকট আছে, সেখানে সুযোগও আছে। বাংলাদেশে প্রাণ এবং সিটি গ্রুপের মতো বিশ্বমানের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা এবং একটি বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে - যদি ভারতের না থাকতো তবে এই অঞ্চলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার হতো।

বর্তমানে আমরা আর্থিক খেলাপি, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও খাদ্য ব্যয় বৃদ্ধি দেখছি। এসব থেকে বাংলাদেশ কতটা বিচ্ছিন্ন?

কোনো দেশই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত নয়। আমি জার্মানি থেকে এসেছি, দেশটি সবসময় অর্থনৈতিকভাবে এতটা সফল ছিল না। যে দেশে এখন বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা ঋণের খরচ রয়েছে সেই দেশেই ১৯২০-এর দশকে সবচেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতি ছিল।

বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে তার সামষ্টিক অর্থনীতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করেছে। সরকারগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ পরিচালনা করেছে, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের অনুপাত বিশ্বের সবচেয়ে কম। সরকারি ঘাটতিও কয়েক বছর ধরে খুব ভালভাবে পরিচালনা করা হয়েছে।

আপনি কী বিনিময় হার ব্যবস্থাকে উদারীকরণ করতে বলবেন?

না, আমি বলব না যে, এখনই বিনিময় হার উদার করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কিন্তু যেহেতু অর্থনীতি বৃদ্ধি একটি গতিপথ অনুসরণ করে, আমরা সাধারণত নিয়মে দেখতে পাই  বিনিময় হার পরিচালিত প্রবাহের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক।

এখানে অত্যন্ত দক্ষ নীতি নির্ধারক আছেন এবং তারাই ভালোভাবে জানবেন যে, গত ত্রিশ বছরের বিবেচনায় অর্থনীতি কতটা সামলানো গেছে।

আইএফসি কীভাবে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু-বান্ধব এজেন্ডাকে সহযোগিতা করছে?

বাংলাদেশ অনেকের তুলনায় আবহাওয়া সংক্রান্ত দুর্যোগ মোকাবিলা করতে শিখেছে – জানমালের ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় সব জায়গার তুলনায় বাংলাদেশের বন্যা ব্যবস্থাপনা ভালো।

সম্মিলিতভাবে আমাদের আরও কিছু করতে হবে- বিশেষ করে গ্রিনহাউস গ্যাস এবং এর প্রভাব কমাতে।

আমরা আর্থিক বিনিয়োগসহ আমাদের সমস্ত বিনিয়োগকে সহজ করছি। আমরা জলবায়ু-স্মার্ট কৌশল নিয়ে অংশীজনদের সাহায্য করছি। আমরা এখানে গ্রিন বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগ করেছি। আমরা এখানে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু সংক্রান্ত বিনিয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিতে আঞ্চলিক বাণিজ্যকে উত্সাহিত করছি – যেমন ভুটান বা নেপাল থেকে বিদ্যুৎ শক্তি আমদানি করা।

About

Popular Links