Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ডলারে অতিরিক্ত চার্জে ১২ ব্যাংকের আয় ১,৪২৭ কোটি টাকা

বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন থেকে ব্যাংক এশিয়ার মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১৭৭ কোটি টাকা বেশি হয়েছে

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২২, ১২:৩১ পিএম

বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন থেকে অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জনের দায়ে ছয়টি ব্যাংককে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এর বাইরেও আরও কয়েকটি ব্যাংক ডলার বিক্রির সময় অতিরিক্ত চার্জ আদায় করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে যে ছয়টি ব্যাংককে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল সেগুলো হলো- ডাচ বাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

তবে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে আরও ছয় ব্যাংকে ডলার লেনদেন থেকে মুনাফা মার্জিন এবং শতাংশের পরিসংখ্যান দেখিয়েছে, অন্যরাও বড় মুনাফা করছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, সম্প্রতি ডলারের দাম ১২০ টাকা পর্যন্ত বাড়লে ১২টি ব্যাংক এই সুযোগকে কাজে লাগায়। এ কারণে গত ক্যালেন্ডার বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংকগুলো ১৪২৭ কোটি টাকা বেশি মুনাফা করেছে, যা আগের বছরে ছিল মাত্র ৪৬৫ কোটি টাকা।

একটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক এশিয়া এই বছরের শুরুর দিকে জানুয়ারি-জুন সময়কালে ১৭৭ কোটি টাকা আয় করেছে। এরপরেই আছে প্রাইম ব্যাংক। গত বছরের তুলনায় তাদের বার্ষিক আয় বেড়েছে ৫০৪%। ব্যাংকটি শুধুমাত্র ডলার বিক্রি করে আয়েছে ১২৬ কোটি টাকা।

এর পরে ৫০০% প্রবৃদ্ধি নিয়ে উপরে রয়েছে এনসিসি ব্যাংক। ২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসে তাদের আয় ২০ কোটি টাকা। ২০২২ সালের একই সময়ে আয় বেড়ে হয়েছে ১২০ কোটি টাকা।

ব্র্যাক ব্যাংকের ৪১৭% প্রবৃদ্ধিতে আয় ১৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৩ কোটি টাকা।

ডাচ বাংলা ব্যাংক ২৯ কোটি টাকা থেকে ৪০৩% প্রবৃদ্ধিতে আয় করেছে ১৪৬ কোটি টাকা। ঢাকা ব্যাংক ৩০ কোটি টাকা থেকে ৩৫৩% প্রবৃদ্ধিতে আয় বেড়ে করেছে ১৩৬ কোটি টাকা।

সিটি ব্যাংক ৩৪০% প্রবৃদ্ধিতে গত বছরের ৪০ কোটি টাকা থেকে আয়ের জায়গায় এ বছর আয় করেছে ১৭৬ কোটি টাকা। মার্কেন্টাইল ব্যাংক ২৪৫% প্রবৃদ্ধিতে ৪৯ কোটি টাকার জায়গায় এ বছর আয় করেছে ১৬৯ কোটি টাকা। 

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ২৩৪% প্রবৃদ্ধিতে ৪১ কোটি টাকার জায়গায় আয় বৃদ্ধি করেছে ১৩৭ কোটি টাকা।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ৬৬ কোটি টাকা থেকে ২০৫% প্রবৃদ্ধিতে আয় করেছে ২০১ কোটি টাকা।

ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি ১৫৯%। ২৭ কোটি টাকার জায়গায় তাদের আয় ৭০ কোটি টাকা।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ১৪০% প্রবৃদ্ধি করেছে। গত বছর ৯৭ কোটি টাকা আয় থাকলেও এ বছর সেটি হয়েছে ২৩৩ কোটি টাকা।

এখানে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন থেকে তাদের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১৭৭ কোটি টাকা বেশি হয়েছে। 

জানুয়ারি থেকে জুন ২০২১ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন থেকে ব্যাংক এশিয়ার মুনাফা ছিল মাত্র ২৩ কোটি টাকা, যা এই বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ের মধ্যে ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

এর ফলে ব্যাংকটি একটি অভূতপূর্ব ৭৭০% আয় বৃদ্ধির সাক্ষী হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক‍ মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, তারা সব ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন পরিদর্শন করবেন এবং কোনো অস্বাভাবিক মুনাফা পেলে ব্যবস্থা নেবেন। 

“ডলারে অতিরিক্ত মুনাফার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ছয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আপাতত এই ছয় ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ব্যাংককেও চিঠি দেওয়া হবে। এছাড়াও প্রতিটি ব্যাংক পরিদর্শন করা হবে, কারণ আরও অনেক ব্যাংক একই কাজ করেছে,” তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন।

“অনিয়মের জন্য দোষী ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন।

সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাফিলতির কারণে ব্যাংকগুলো এমন অস্বাভাবিক মুনাফা করার সুযোগ পেয়েছে। 

তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবহেলা ছাড়া ব্যাংকগুলো কখনোই এত অসাধারণ মুনাফা করতে পারত না। ডলারের কারসাজিসহ সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত আমদানি কমানোর পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো “

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক লেনদেনে বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তত ২০ বার টাকার অবমূল্যায়ন করেছে। ১ জানুয়ারী থেকে ৩০ জুন ২০২২ এর মধ্যে ১৬ বার।

মার্কিন ডলার বিক্রি করে বেশি লাভের অভিযোগে গত ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ছয়টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়।

তাদের ডলারের লেনদেন সম্পর্কে অস্বাভাবিক লাভ ও ক্রয়-বিক্রয় খরচের মধ্যে উচ্চ বিস্তার সহ দশটি বিষয় ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

তাদের সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, 8 আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছয়টি ব্যাংককে তাদের ট্রেজারি হেডকে অপসারণ করতে বলেছিল। তাদের বিু আক্রমনাত্মক বিনিময় লাভের কারণে যা বাজারে ডলারের সংকটকে তীব্র করেছে, মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি তালিকায় ছয়টি ব্যাংক ছিল ডাচ বাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

About

Popular Links