Saturday, June 15, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাইবার হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো

বিশেষজ্ঞ ও ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলা প্রতিহত করতে ও আর্থিক ক্ষতি এড়াতে বেশিরভাগ ব্যাংক কোনো সতর্কতা ব্যবস্থা নিচ্ছে না

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৫৫ পিএম

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘাটতি, ভঙ্গুর সাইবার-নিরাপত্তা ও বিশেষজ্ঞ না থাকায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো সাইবার হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলা প্রতিহত করতে ও আর্থিক ক্ষতি এড়াতে বেশিরভাগ ব্যাংক কোনো সতর্কতা ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২১ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৩-১৮ সালে ১ বিলিয়ন ডলার চুরির জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করেছিল কার্বানাক গ্রুপ। এসবের পেছনে রাষ্ট্রীয় মদদদাতা গ্যাংও রয়েছে।

২০২২ সালের জুনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) একটি সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে জানায়, দেশের ৫২% ব্যাংক সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। 

২০২০ সালের এপ্রিলে আর্থিক স্থিতিশীলতা বোর্ড (এফএসবি) সতর্ক করে জানায়, এমন সাইবার হামলা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে আর্থিক ব্যবস্থাগুলিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।

২০১৬ সালের মার্চে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দেশিকা জারি করে দেশের সব ব্যাংককে সাইবার নিরাপত্তা ক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়।

একইসঙ্গে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করার জন্য একটি নিরাপত্তা অপারেশন কেন্দ্র (এসওসি) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সূত্র বলছে, নির্দেশের পরেও ব্যাংকগুলো নিরাপত্তা অপারেশন কেন্দ্র (এসওসি) গঠন করতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকিং সেক্টরে সাইবার নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে নিয়ন্ত্রকদের আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া কর্মীদের সক্ষম করতেও জোর দেন তারা।

বাংলাদেশ ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (বিজিডি ই-গভর্নমেন্ট সিআইআরটি) বলছে, প্রায় ৯৯% বেসরকারি ও সরকারি ব্যাংক বড় সাইবার হামলার শিকার হতে পারে।

গবেষণায় কর্মচারীদের মোবাইল ডিভাইসের ভেতরে অ্যাপ্লিকেশন/পোর্টালের অনিরাপদ ব্যবহার ও অ্যাক্সেসও অনিরাপত্তা তৈরি করতে পারে।

মোবাইল বা কম্পিউটিং ডিভাইসগুলির অনিরাপদ ব্যবহারের কারণে ৭৫% নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়।

কমন ভালনারেবিলিটিস ইন সাইবার স্পেস অব বাংলাদেশের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে সাইবার স্পেসের দুর্বলতার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে।

আইবিএম এক্স-ফোর্সের গবেষণা বলছে, ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ৭০% আর্থিক প্রতিষ্ঠানই ব্যাংক। ১৬% বীমা সংস্থা ও ১৪% অন্যান্য আর্থিক সংস্থা।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে। এর আগে পরে বেশ কিছু ছোট ছোট সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে ব্যাংকিং খাতে।

গত আগস্টে বিগল বয়েজ নামের হ্যাকিং গ্রুপটি এটিএম বুথে সাইবার হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কায় দেশের বেশিরভাগ ব্যাংক, তাদের এটিএম ও কার্ড সেবা সাময়িক বন্ধ রাখে। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে ভোগান্তিকে পড়েন গ্রাহকরা।

About

Popular Links