Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানি বেড়েছে ৩৬.২৩%

২০২১ সালে পুরো বছরে যে রপ্তানি হয়েছিল তা এ বছরের ১০ মাসেই পূর্ণ হয়েছে

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৫০ পিএম

এ বছরের প্রথম দশ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) মার্কিন বাজারে ৮৩৯.১৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ডেনিম পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের তুলনায় এই পরিমাণ ৩৬.২৩% রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাণিজ্য বিভাগের অফিস অফ টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০২১ সালে একই সময়ে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৬১৫.৯৫ মিলিয়ন ডলারের ডেনিম পোশাক রপ্তানি করেছে।

তথ্য বলছে, ২০২১ সালে পুরো বছরে যে রপ্তানি হয়েছিল তা এ বছরের ১০ মাসেই পূর্ণ হয়েছে।

২০২১ সালে ৭৯৮.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ডেনিম পোশাক রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। ২০২০ সালে ছিল ৫৬১.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই বছরে ৪২.২৫% রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছিল।

মার্কিন ডেনিম বাজারে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মেক্সিকোকে পেছনে ফেলে ২০২১ সালে টানা দ্বিতীয় বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ ডেনিম রপ্তানিকারক হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, বাংলাদেশ ২০২২ সালের শেষের দিকে টানা তৃতীয়বারের মতো মার্কিন বাজারে ডেনিম পোশাকের সর্বোচ্চ সরবরাহকারী হবে।

ওটেক্সা বলছে, ২০২২ সালের উল্লিখিত সময়কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব থেকে ৩.৬২ বিলিয়ন মূল্যের ডেনিম পোশাক আমদানি করেছে। যা ২০২১ সালের একই সময়ের মধ্যে ২.৯৫ বিলিয়ন থেকে ২২.৬৬% বেশি।

শিল্পের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনও বাজারে নেতৃত্ব দিয়েছে। এছাড়া এ বছরের শেষ নাগাদ ঢাকা এই বাজারে প্রভাবশালী রপ্তানিকারক হওয়ার আশা করেছিল। কারণ বাংলাদেশি ডেনিম মার্কিন বাজারে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড ও মার্কিন ক্রেতারা বাংলাদেশি পণ্যকে অভিজাত হিসাবে বিবেচনা করে থাকেন।

বাংলাদেশ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সরবরাহকারী মেক্সিকো। সেখান থেকে ১৮.০৬% রপ্তানি বেড়ে ৬৩৭.৯১ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। ২০২১ সালের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৫৩৫.৭৬ মিলিয়ন ডলার।

২০২২ সালের প্রথম দশ মাসে দুর্যোগ-কবলিত পাকিস্তান থেকে আমদানি ৩৪.৮০% বেড়ে ৪১৯.১২ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। যা ২০২১ সালের (জানুয়ারি-অক্টোবর) তুলনায় ৩১০.৮৯ মিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

একই সময়ে ভিয়েতনাম থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য সরবরাহ ১৮.৮৫% থেকে বেড়ে ৩৮৩.৩৫ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। যা ২০২১ সালের জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ের মধ্যে ৩২২.৫৩ মিলিয়ন ডলার ছিল।

চীন থেকে গত বছরের একই সময়ে ৩২৫.২৩ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বছর ৩.৭৮% কমে তা ৩১২.৯২ মিলিয়ন ডলার হয়েছে।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেনিম পোশাক আমদানি সেপ্টেম্বর থেকে কিছুটা কমেছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, মার্কিন অর্থনীতি ধাক্কা খাওয়ায় পোশাক আমদানি যথেষ্ট কমেছে।

কারণ গত চার দশকের মধ্যে মার্কিন ভোক্তারা উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির সাথে লড়াই করছে। ফলে অন্যান্য প্রয়োজনীয়তার জন্য তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “কোভিড-১৯ ও বর্তমান অস্থির বৈশ্বিক অর্থনীতির সময়েও মার্কিন বাজারের প্রবৃদ্ধি সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

তিনি বলেন, “কিছু বৈশ্বিক সমীকরণ এখানে কাজ করেছে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে সমস্যা।”

“এছাড়া মহামারি চলাকালীন অনেক উত্পাদনকারী দেশ যথাযথভাবে পণ্য রপ্তানি করতে পারেনি। তখন বাংলাদেশ ব্যবসা চালিয়ে গেছে। এ কারণে বাজারে বাংলাদেশের আস্থা বেড়েছে।”

রুবেল আরও বলেন, “টেকসই ও কমপ্লায়েন্ট ফ্যাক্টরি এবং আমাদের হাই-এন্ড পণ্যের সাথে ইএসজি বজায় রেখেছি আমরা। এছাড়া ডেনিম উৎপাদনে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা আমাদের মার্কিন বাজারে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে। তবে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কাজ করতে হবে।”

বিজিএমইএর পরিচালক বলেন, “আমাদের প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে, প্রযুক্তির আপগ্রেডেশনে বিনিয়োগ করতে হবে। উদ্ভাবনে কাজ করতে হবে, বৈচিত্র্য আনতে হবে ও সময় ঠিক রাখতে হবে।”

About

Popular Links