Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এবার ইতালি যাচ্ছে বাঘার পেয়ারা ও কুল

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আমের পর এবার রপ্তানি শুরু হয়েছে পেয়ারা ও কুল

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:৪৮ পিএম

আমের পর এবার রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরের পেয়ারা ও কুল (বরই) যাচ্ছে ইতালিতে। বাঘার দুই কৃষকের কাছ থেকে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আদাব ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে প্যাকেজিং করে এক হাজার কেজি পেয়ারা ও ১০০ কেজি কুল ইতালিতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের সাদি এন্টারপ্রাইজের কার্যালয় থেকে পেয়ারা ও কুলের প্রথম চালান ঢাকায় পাঠানো হয়।

সোমবার (১৬ জানুয়ারি) বাঘা উপজেলা থেকে ঢাকার রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আদাব ইন্টারন্যাশনাল' এর মাধ্যমে উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের সফল কৃষক শফিকুল ইসলাম ছানা ৫০০ কেজি পেয়ারা রপ্তানি করেন ইতালিতে। এর পরদিন মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঐ একই কোম্পানির মাধ্যমে শফিকুল আরও ৫০০ কেজি পেয়ারা ঢাকায় পাঠান। এছাড়াও উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের কৃষক শাহিন ইকবালের বাগান থেকে রপ্তানি হয় ১০০ কেজি থাই কুল। এসব বাঘার পদ্মার চরাঞ্চলে চাষ করা হয়েছে।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সফিউল্লা সুলতান জানান, গত ৫-৬ বছর ধরে বাঘার আম রপ্তানি হচ্ছে ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, পর্তুগাল, ফ্রান্সসহ রাশিয়াতে। ফরমালিন ও কেমিক্যালমুক্ত এই আম ইতোমধ্যে বাঘার সুনাম বয়ে এনেছে। আমের পর এবার রপ্তানি শুরু হয়েছে পেয়ারা ও কুল।

তিনি বলেন, রপ্তানিকারকদের কাছে বাঘা উপজেলার এই দুই কৃষক ৮০ টাকা কেজি দরে পেয়ারা ও ১০০ টাকা কেজি দরে কুল বিক্রি করেছেন। যা স্থানীয় বাজারে পেয়ারা ৪০ টাকা ও কুল ৬০-৭০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকেন। রপ্তানিকারকদের কাছে তারা বেশি দাম পেয়ে খুশি। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে সারাবছর বিভিন্ন ধরনের ফলের চাষ করা হয়। এর মধ্যে কুল হচ্ছে অন্যতম একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। দেশের প্রায় সব জেলাতেই কমবেশি এটি চাষ হয়ে থাকে। তবে রাজশাহী, কুমিল্লা, খুলনা, বরিশাল, সাতক্ষীরা, বগুড়া, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও ময়মনসিংহে ভালো এবং উন্নত জাতের কুল চাষ হয়। এদিক থেকে স্বাদ ও গুণে ভরপুর বাঘার কুল। এ উপজেলা থেকে আমের পর এবার দেশের বাইরে রপ্তানি শুরু হয়েছে পেয়ারা ও কুল।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কেন্দ্রীয় প্যাকেজিং হাউসে পেয়ারা ও কুলগুলো মোড়কজাত করা হবে। তারপর কার্গো ফ্লাইটে এসব পেয়ারা ও কুল সরাসরি ইতালিতে চলে যাবে। প্রথম চালানে অল্প পরিমাণে পেয়ারা ও কুল পাঠানো হয়েছে। আরও বেশি পরিমাণে যেন রফতানি করা যায়, এজন্য ঢাকার বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে।

সাদি এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ও বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ছানা জানান, এবার ৫০ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ করেছেন। এর মধ্যে বাঘার পলাশীর চরে ৩০ বিঘা জমিতে পেয়ারা হয়েছে।

জানা গেছে, বাঘার চরাঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার বিঘা জমি অনাবাদী পড়ে থাকতো। মৌসুমি ফসল ছাড়া সে অর্থে সেখানে কোনো চাষাবাদই হতো না। তারা এসব জমি ইজারা নিয়ে ধীরে ধীরে পরিচর্যা করে আবাদে তুলেছেন। এখন এসব জমিতে আম, কুল ও পেয়ারা চাষ করা হচ্ছে। ফলনও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। চরের এসব জমিতে পেয়ারা ও বরই চাষ হওয়ার কারণে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। একশ্রেণীর মানুষ আধুনিক চাষ শিখে নিয়েছেন। কন্টাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে যাওয়ার কারণে বিদেশে রপ্তানির উপযোগী আম, পেয়ারা ও কুল বাঘায় উৎপাদিত হচ্ছে। এজন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

শফিকুল ইসলাম ছানা আরও বলেন, গত মৌসুমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে ৩০ মেট্রিক টন আম পাঠিয়েছেন। একইভাবে তারা পেয়ারা ও কুল চাষ করেছেন। আর প্রথমবারের মতো তারা বিদেশে পেয়ারা ও কুল রপ্তানি করছেন।

About

Popular Links