Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইউরোপে দশ মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৪১.৭৬%

২০২১ সালে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৩.৬৯ বিলিয়ন ডলার, তবে এ বছর তা বেড়ে ১৯.৪০ বিলিয়ন ডলার হয়েছে

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:২১ পিএম

দেশের পোশাক খাতের বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২০২২ সালের প্রথম দশ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) রপ্তানি বেড়েছে ৪১.৭৬%।

২০২১ সালে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৩.৬৯ বিলিয়ন ডলার। তবে এ বছর তা বেড়ে ১৯.৪০ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। 

ইউরোপীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় (ইউরোস্ট্যাট) ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির তৈরি করা পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইউরোস্ট্যাট বলছে, এ সময়ে ইউরোপের দেশগুলো বিশ্ব থেকে ৮৬.৭৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক পণ্য আমদানি করেছে। ২০২১ সালে এর পরিমাণ ছিল ৬৯.৭২ বিলিয়ন ডলার। 

তথ্য মতে, ২০২১ সালের তুলনায় ২৪.৪১% রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুসারে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় পোশাক রপ্তানিকারক চীন। দেশটি এ বছর ২২.৪৩% বেশি পোশাক পণ্য রপ্তানি করে ২৫.৪৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। যা ২০২১ সালের তুলনায় ২০.৮২% বেশি।

বাংলাদেশের পরে তৃতীয় স্থানে আছে তুরস্ক। দেশটির রপ্তানি ১২.৮২% বেড়েছে। ২০২২ সালের প্রথম দশ মাসে তুরস্কের আয় ১০.১২ বিলিয়ন ডলার। যা ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় ৮.৯৭ বিলিয়ন ডলার বেশি। 

২০২২ সালের জানুয়ারি-অক্টোবরে চতুর্থ স্থানে ছিল ভারত। ২০২১ সালের তুলনায় ৩.৪৩ বিলিয়ন ডলার আয় থেকে ২৩.৪৬% বেড়ে দেশটি আয় করেছে ৪.২৪ বিলিয়ন ডলার। 

৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। ২০২১ সালের ২.৮১ বিলিয়ন ডলার থেকে এটি বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৩.০৫%।

এছাড়া পোশাক প্রস্তুতকারকদের মধ্যে একই সময়ে পাকিস্তান ২৮.৫৫% রপ্তানি বৃদ্ধি করে আয় করেছে ৩.২৪ বিলিয়ন ডলার, কম্বোডিয়া ৩৯.৬৯% বৃদ্ধিতে পেয়েছে ৩.১৬ বিলিয়ন ডলার, মরক্কো ৩৯.৬৯% বৃদ্ধিতে পেয়েছে ২.৬৭ বিলিয়ন ডলার। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ দশটি পোশাক সরবরাহকারীর মধ্যে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির হার অর্জন করেছে। 

মূল্য ছাড়াও, পোশাকে পণ্যের ইউনিট মূল্যও প্রতি কেজিতে ২.২৯% বেড়ে ২২.২২ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। 

বাংলাদেশী পোশাক পণ্যের ইউনিট মূল্য প্রতি কেজি ১১.৫৯% বৃদ্ধি পেয়ে ১৭.১১ ডলার হয়েছে। যেখানে চীন, তুরস্ক, ভারত ও ভিয়েতনামের মূল্য ৪.৩৫% বেড়ে ২৩.০২ ডলার, ১.৫৬% থেকে ২৫.২৯ ডলার, ১.৭৬% থেকে ২৩.১৩ বিলিয়ন ও ২.৫৪% থেকে ৩৮ ডলার হয়েছে। 

বাংলাদেশের ইউনিট মূল্য এখনও শীর্ষ দশ সরবরাহকারীর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। শুধুমাত্র পাকিস্তানের চেয়ে (১৪.৪৯/কেজি)।

ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হলেও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ বরাবরই ভালো করছে।

“ইউরোস্ট্যাট ডেটা প্রকাশে প্রায় তিন মাসের ব্যবধান রয়েছে। ইউরোপীয় বাজার একটি অস্থির পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। যা ইতিমধ্যেই ডিসেম্বরে ইপিবির সর্বশেষ দেশভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে যেখানে ইউরোপীয় বাজারের বৃদ্ধি খুবই সংকীর্ণ,” তিনি যোগ করেছেন।

তবে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে ইউরোপের সামগ্রিক আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে গেলেও আমদানির মাত্রা নির্বিশেষে বাংলাদেশ তার প্রতিযোগীদের থেকে সবসময়ই এগিয়ে আছে। 

“বাজার যুদ্ধ ও মুদ্রাস্ফীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়।আমরা ইউরোপীয় বাজারেও একটি নেতিবাচক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছি তবে আমাদের প্রতি ক্রেতাদের মনোযোগ ও আস্থা এখনও ভাল, যে কারণে প্রবৃদ্ধি কমে গেলেও আমরা অন্তত প্রতিযোগীদের চেয়ে ভালো করবো।” তিনি যোগ করেছেন।

About

Popular Links