Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিদেশ থেকে জ্বালানি আনতে শত কোটি ডলার চায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকরা

সোমবার ‘বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন’ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে লেখা এক চিঠিতে এ কথা জানিয়েছে

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:৪৮ পিএম

আসন্ন গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট এড়াতে জ্বালানি আমদানির জন্য বাংলাদেশের বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের ১০০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা) দরকার হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, সোমবার “বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন” কেন্দ্রীয় ব্যাংককে লেখা এক চিঠিতে এ কথা জানিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, “জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির জন্য স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলার অনুমতি দিতে এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মার্কিন ডলার দিতে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।”

বিআইপিপিএ বলছে, “বার্ষিক ফসল কাটার মৌসুমে সেচ, পবিত্র রমজান মাস ও আসন্ন উৎসব এবং আসন্ন গ্রীষ্মে গরম আবহাওয়ার ফলে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার অভাব থাকলে ইউটিলিটিগুলো ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়তে পারে।”

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাতে সংকট দেখা গিয়েছিল। আর তাই বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ বছর বাংলাদেশে বিদ্যুতের অবস্থা আরও খারাপ হবে। কারণ বাংলাদেশের মুদ্রার মান এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দ্রুত পতনের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানির ক্ষমতা সীমিত হয়েছে।

আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ইতোমধ্যেই অনেকটা বিঘ্নিত হয়েছে। এর জেরে ওয়ালমার্ট, গ্যাপ ইনক, এইচঅ্যান্ডএম এবং ইন্ডিটেক্সস জারার মতো ক্রেতাদের কাছে লাভজনক পোশাক পণ্যের সরবরাহও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

বিআইপিপিএ গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি আমদানিতে অর্থ পরিশোধের জন্য মার্কিন ডলারের ঘাটতিকে দায়ী করেছে। সংস্থাটি বলছে, বেসরকারি উৎপাদকদের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অর্থ পরিশোধ করতে আগামী জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থের প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিষয়টির দিকে নজর রাখছে। অবশ্য এর বিস্তারিত আরও কোনো তথ্য তিনি সামনে আনেননি।”

বাণিজ্যিক ব্যাংকে ডলারের মজুত বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, “ডলার সংকট কমানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল।”

সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের নেতৃত্বে ছোট বেসরকারি উৎপাদক এবং পাবলিক/ প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা বাংলাদেশের অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। বিদ্যুতের জন্য যে জ্বালানি প্রয়োজন হয় তার সিংহভাগই আমদানি করে বাংলাদেশ।

রয়টার্স বলছে, বাংলাদেশে তাপমাত্রা সাধারণত মার্চের শেষ থেকে বাড়তে শুরু করে এবং বিআইপিপিএ অনুমান করছে, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে পরের চার মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের ২১ লাখ ২০ হাজার টন জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হবে।

“স্থানীয় গ্যাসের মজুত হ্রাস এবং পর্যাপ্ত কয়লা-চালিত সক্ষমতার অভাব বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি তেলের মতো দূষণকারী জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য করেছে।”

জ্বালানির উচ্চ বৈশ্বিক মূল্যের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি সত্ত্বেও ২০২২ সালে বাংলাদেশ তার তেল আমদানি কমাতে বাধ্য হয়। যার ফলে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেয় যা গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতি সপ্তাহে লাখ লাখ মানুষকে অন্ধকারে থাকতে বাধ্য করে।

About

Popular Links