Thursday, June 13, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গাছে থাকতেই বেচা হচ্ছে হাড়িভাঙ্গা, ৩০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা

এবার রংপুরে ১৯০৫ হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি আম বাণিজ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে

আপডেট : ১২ মে ২০২৩, ১১:০১ এএম

আমের রাজত্বে নতুন রাজা হয়ে ইতোমধ্যে জানান দিয়েছে রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আম। জাতটি দিয়ে দেশের ও বিদেশের আমের বাজারে নাম লিখিয়েছে রংপুর। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কাছেও উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে এই আম।

খুব দ্রুতই খ্যাতি ছড়িয়ে পড়া আমের এই প্রজাতিটি এখনো পুরোপুরি পুষ্ট হয়নি। তার আগেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে ৫০ কোটি টাকার আম রপ্তানির ক্রয়াদেশ পেয়েছেন বাগান মালিকেরা। আরও অর্ডার পাওয়ার আশা করছেন তারা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার রংপুরে ১৯০৫ হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আম চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৪০ হেক্টর বেশি। আমের ফলন এবার গতবারের চেয়ে ভালো হওয়ায় প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি আম বাণিজ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হাড়িভাঙ্গা আম দেখতে সুঠাম ও মাংসালো, শ্বাস গোলাকার ও একটু লম্বা। এর উপরিভাগ বেশি মোটা ও চওড়া, নিচের অংশ অপেক্ষাকৃত চিকন। আঁশমুক্ত আমের তুলনায় শ্বাস অনেক ছোট। আকারের তুলনায় ওজন বেশি। জেনেটিক পরিবর্তনের  কারণে আমের চামড়া কুঁচকে গেলেও পচে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আগামী জুন মাসের ২০ তারিখের পর হাড়িভাঙ্গা আম বাজারে আসবে। হাড়িভাঙ্গা আম পুরোপুরি পুষ্ট হতে সময় লাগে। তবে কোরবানি ঈদের আগেই পুরোপুরি বাজারে চলে আসার সম্ভবনা রয়েছে।”

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকায় হাড়িভাঙ্গা আম প্রথম উৎপাদন শুরু করেন কৃষক সালাম। বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার ৭০টি গ্রামের মানুষের ভাগ্যের চাকা খুলে দিয়েছে হাড়িভাঙ্গা আম।

এখন উপজেলার গোপালপুর, পদাগঞ্জ, কুতুবপুর, নাগেরহাট সর্দ্দারপাড়া, সদর উপজেলার সদ্যপুস্করনী ইউনিয়নের কাঁটাবাড়ি, মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান গড়ে উঠেছে। 

বদরগঞ্জে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলায় সারি সারি আমের বাগান। বাগান ছাড়াও প্রায় প্রত্যেকটা বাড়িতে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি করে হাড়িভাঙ্গা আমের গাছ। অনেক আমে পাক ধরেছে। 

পদাগঞ্জের বাসিন্দারা জানান, আট থেকে ১০ বছর আগেও এসব এলাকা ছিল চরম দরিদ্র্যপীড়িত। মানুষ তিন বেলা দূরে থাক এক বেলার খাবাও জোটাতে পারতো না। মাটি লাল হওয়ায় এখানে বছরে একবার ধান উৎপাদন হয়। বাকি ৮ মাস পতিত পড়ে থাকে। হাড়িভাঙ্গা আম তাদের ভাগ্যের চাকা খুলে দিয়েছে। এখন ধানের বদলে ওই জমিতে আমের বাগান গড়ে তুলেছেন তারা। বছরে উৎপাদিত আম বিক্রি করে সচ্ছলতা ফিরেছে তাদের সংসারে।

বাগান মালিক সোলায়মান আলী জানান, ঢাকা থেকে বেশ কয়েকজন আড়তদার এবার অগ্রিম টাকা দিয়েছেন। তার মতো আরও অন্তত ৬০টি বাগান মালিকদের সাথে আড়তদাররা চুক্তি করেছেন। মোট ৫০ কোটি টাকার ক্রয়াদেশ পেয়েছেন তারা।

জেলা প্রশাসক চিত্রলেখা নাজনীন বলেন, “সরাসরি বাগান থেকে আম কেনাবেচার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। টাকা লেনদেনের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ খেলা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হবে। পদাগঞ্জে ইতোমধ্যে নামকরা কুরিয়ার সার্ভিসগুলো শাখা খুলেছে। এগুলো মনিটরিং করা হবে।”

About

Popular Links