Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খামার ব্যবসা বাড়িয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেন সাগরী

গরু পালনের আয় থেকে ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন তিনি, পরিবর্তন ঘটেছে সংসারের আর্থিক অবস্থারও

আপডেট : ২০ জুন ২০২৩, ০৮:০৯ পিএম

স্বামী রিকশা-ভ্যান মেরামতের কাজ করেন। সংসারে টানাটানি। অবস্থা পরিবর্তনে তাই বাড়িতে থেকেই কী করা যায় ভাবছিলেন গৃহবধূ সাগরী সরকার। সেই ভাবনা থেকেই শুরু করেন গরু পালন। ৬৫ হাজার টাকায় কেনা গরুটি এক বছর পর ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। লাভ হয় ১ লাখ টাকা। ১০ বছর আগের সেই সাফল্য দেখে এখন প্রতি বছরই গরু পালন করছেন এই নারী। তার চাওয়া খামার ব্যবসা সম্প্রসারণ করা ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার খাটিয়াগড় গ্রামের বাসিন্দা সাগরী সরকারের সংসার স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে। গরু পালনের আয় থেকে ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছেন তিনি। সংসারের এসেছে স্বচ্ছলতাও।

সাগরী সরকার জানান, তার স্বামী পলাশ বালা বাড়ির পাশে ছোট একটি গ্যারেজ পরিচালনা করছেন। গ্যারেজে রিকশা, ভ্যান ও সাইকেল মেরামত করেন তিনি। তবে সেই আয়ে পরিবার চালানো কষ্টকর ছিল। সেই অবস্থা পরিবর্তন করেছে গরু পালন।

এ বছর অস্ট্রেলিয়ান জাতের চারটি ষাঁড় মোটাতাজা করেছেন তিনি।

গৃহবধূ সাগরী সরকার বলেন, “১০ বছর আগে ৬৫ হাজার টাকায় একটি গরু কিনে এক বছর পর কোরবানির সময় বিক্রি করি ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়। এরপর প্রতি বছরই গরু মোটাতাজা করছি। ২০২২ সালে চারটি গরু মোটাতাজা করেছিলাম। এ বছর অস্ট্রেলিয়ান জাতের চারটি ষাঁড় মোটাতাজা করেছি। এই চারটি ষাঁড় অন্তত ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবো আশা করি।”

তিনি বলেন, “এ বছর যদি ভারতীয় গরু না আসে, তাহলে আমাদের পালন করা গরুর ন্যায্য দাম পাবো।”

গরু বিক্রির টাকায় ভবিষ্যৎ গড়তে চান উল্লেখ করে এ গৃহবধূ বলেন, “এ বছরে গরু বিক্রির টাকা দিয়ে আবারও গরু কিনবো। সামনে ডেইরি খামার গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “স্বামী, সন্তান ও সংসার সামলে গরু পালন করে সাফল্য পেয়েছি। সবাইকে নিয়ে ভালো আছি। সামনে আমার এই ব্যবসা সম্প্রসারণ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই।”  এজন্য সরকারের সহায়তা কামনা করেন এই গৃহবধূ।

সাগরীর স্বামী পলাশ বালা বলেন, “আমি গ্যারেজের কাজে ব্যস্ত থাকি। আমার স্ত্রী খড়, ভূষি, কুড়া ও ঘাস খাইয়ে গরু মোটাতাজা করে। আমাদের গরুর মাংসের কোয়ালিটি ভালো। গরুতে কোনো প্রকার রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। এজন্য ক্রেতারাও আগ্রহী হয়ে আমাদের গরু কেনেন।”

এই গৃহবধূর সাফল্যের প্রশংসা করেছেন প্রতিবেশীরাও। নির্মল মন্ডল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “গরু মোটাতাজা করে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাকে দেখে আমিও একটি গরু পালন করেছি। আরও অনেকেই করছেন। বলা যায়, লাভজনক এই ব্যবসাকে আমাদের গ্রামে প্রচলিত করেছেন সাগরী সরকার।”

খাটিয়াগড় গ্রামের বাসিন্দা ইয়াকুব মুন্সি বলেন, “তিনি গরু পালনে প্রাকৃতিক পদ্ধতিই ব্যবহার করেন। কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করেন না। তার সুনামও রয়েছে। তাই ক্রেতারা আগ্রহী হয়ে তার গরু কেনেন। এ বছর তিনি চারটি গরু পালন করেছেন। সেগুলো কিনতে ক্রেতারা নিয়মিত তার বাড়িতে আসছেন।”

গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোবিন্দ চন্দ্র সরদার বলেন, “গরু পালন করে তিনি সংসারের অভাব দূর করতে পেরেছেন। অন্যরাও তাকে অনুসরণ করতে পারেন। তার খামার বড় করতে আমরা সহযোগিতা করছি। ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

About

Popular Links