Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আড়ৎদার সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় রংপুরের চামড়া ব্যবসায়ীরা

বিক্রেতাদের অভিযোগ, রংপুরে চামড়ার আড়ৎদারদের ১০ জনের সিন্ডিকেটের হাতেই ছিল চামড়ার বাজারের নিয়ন্ত্রণ

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৩, ০১:৪০ পিএম

সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও রংপুরে কোরবানি পশুর চামড়ার দাম নিয়ে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। বিক্রেতারা জানান, বেধে দেওয়া দাম অনুযায়ী গরুর একেকটি চামড়া ৭০০-১,২০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। আদতে তা বিক্রি হয়েছে ৪০০-৫০০ টাকায়।

এ নিয়ে চামড়া সংগ্রহকারী মৌসুমি ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও খুচরা বিক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি অনেকেই বিক্রি না করতে পেরে চামড়া ফেলে দিয়েছেন।

তাদের ভাষ্য, যে দাম হওয়ার কথা তার অর্ধেক মূল্যে বেচে দিতে হয়েছে চামড়া।

বিক্রেতাদের অভিযোগ, রংপুরে চামড়ার আড়ৎদারদের ১০ জনের সিন্ডিকেটের হাতেই ছিল চামড়ার বাজারের নিয়ন্ত্রণ। এ নৈরাজ্য বন্ধে প্রশাসনের কোনো তৎপরতাও দেখা যায়নি।

রংপুরের প্রধান চামড়ার আড়ৎ শাপলা চত্বর সংলগ্ন কামারপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই অনেকেই চামড়া নিয়ে অপেক্ষা করলেও আড়ৎদাররা কেনার আগ্রহ দেখাননি। কেউ কেউ দাম বললেও তা ছিল ন্যায্যমূল্যের অর্ধেক।

জেলার হাজিরাট এলাকা থেকে ১০০ চামড়া নিয়ে এসেছিলেন রহমান সরকার নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, “সরকার ৪৮ টাকা প্রতিফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। সেই হিসেবে মাঝারি গরুর চামড়া ৭০০-৮০০ টাকা ও বড় গরুর চামড়া ১,০০০-১,২০০ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু আড়ৎদাররা ৫০০ টাকার বেশি দামে চামড়া নিতে রাজি না।”

একই অবস্থার কথা জানান বদরগজ্ঞের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান, সিও বাজার এলাকার আরিফ, দর্শনা এলাকার আহসানুল হাবিবও। তারা প্রতিটি চামড়া কিনেছিলেন ৬০০ টাকা করে। কিন্তু তার কাছে থাকা চামড়ার দাম কেউই ৫০০ টাকার বেশি দিতে রাজি হয়নি।

তাদের অভিযোগ, চামড়ার আড়ৎদাররা সিন্ডিকেট করে এই দর তৈরি করেছেন। এতে সবাই জিম্মি হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের কোনো নজরদারি না থাকায় তারা সিন্ডিকেট অপ্রতিরোধ্য।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রি না করতে পেরে অনেকেই চামড়া ফেলে দিয়েছেন। আবার অনেকেই মাদ্রাসাগুলোতে বিনামূল্যে চামড়া দান করে দিয়েছেন।

তবে রংপুরের চামড়া আড়ৎদার ব্যাবসায়ী সমিতির নেতা আলী আকবর এজন্য দায়ী করেছেন ঢাকার ব্যবসায়ীদের। তিনি জানান, ঢাকার ব্যবসায়ীরা দাম নির্ধারণ না করায় তারা সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কিনতে পারছেন না। যদিও সিন্ডিকেট করে কম দামে চামড়া কেনার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

মমতাজুল ইসলাম নামে আরেক আড়ৎদার বলেন, “লবণ কেনা আর শ্রমিকদের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কেনা সম্ভব নয়।”

রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, “সরকার ফুট হিসেবে দাম নির্ধারণ করলেও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।”

এর আগে, গত ২৮ জুন রংপুরে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি চামড়ার দাম নির্ধারণ করার কথা জানিয়ে বলেন, “ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা।”

About

Popular Links