Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গভীর সমুদ্র থেকে ফিরছে মাছবোঝাই ট্রলার

ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও সংরক্ষণে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মৎস্য বিভাগ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৩, ০৯:৩৪ পিএম

৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যাচ্ছেন জেলেরা। ধরা পড়ছে আশানুরূপ মাছও। ট্রলার ভর্তি মাছ নিয়ে তীরে ফিরে আসছেন অনেকেই। মাছ পেয়ে খুশি জেলে, ট্রলার মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য বন্দরে ব্যাপক ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। বন্দরে দেখা যায়, একের পর এক মাছবোঝাই ট্রলার আসছে। জেলেরা সেই মাছ খালাস করছেন। ট্রলার মালিকরা মাছ পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন।

ইউসুফ আলী নামে এক জেলে বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরিনি। সংসার চালানো মুশকিল হতো। এখন ভালোই মাছ পাচ্ছি।” আবদুস সোবহান নামে আরেক জেলে বলেন, “সাগরে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। দামও ভালো পাচ্ছি।”

ইকবাল হোসেন নামে এক ট্রলার মালিক বলেন, “গত ২৩ জুলাই রাত থেকে মাছ ধরার ট্রলারগুলো সাগরে জাল ফেলতে শুরু করেছে। প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছের দাম কিছুটা কম। তবে লাভ হচ্ছে।”

আব্দুল মান্নান ব্যাপারী নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। ৩০০-৫০০ গ্রামের একেক মণ ইলিশ ২০-২৫ হাজার টাকায় ও ৮০০-১,০০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ৪০,০০০-৪৫,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”

মহিপুর বন্দর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার মোল্লা জানান, জেলেরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছেন। রবিবার রাতে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায় তারা। কয়েকটি ট্রলার আসতে শুরু করেছে, মাছ তাজা রাখতে বরফকল চালু করা হয়েছে। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমছে।

তিনি ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ায় নিবন্ধিত জেলেদের জন্য ঝুঁকি ভাতা চালু করার জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও সংরক্ষণে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মৎস্য বিভাগ। পটুয়াখালী জেলায় নিবন্ধিত জেলেদের সংখ্যা ৭৫,০০০। এছাড়া এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ৬৫ দিনের অবরোধ নির্বিঘ্নে পার হয়েছে। এ বছর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। আমাদের সমুদ্রসীমায় প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। সাগরে বেশি মাছ ধরলে জেলেদের আয় এবং দেশের জিডিপি দুই-ই বাড়বে।

About

Popular Links