Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাংলাদেশের প্রকৃত আমদানি বকেয়া কত?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বকেয়া ১২ বিলিয়নের তথ্য সঠিক নয়

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৩, ১২:৩১ এএম

পণ্য রপ্তানি থেকে প্রত্যাশিত আয় পাচ্ছে না বাংলাদেশ। আবার বেশি দেখিয়ে পণ্য আমদানির পর এখন দাম কম দেখিয়ে আমদানি হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, ব্যাংকগুলোর লেটার অফ ক্রেডিট (এলসি) খোলার তথ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনলাইন ইমপোর্ট মনিটরিং সিস্টেমের (ওআইএমএস) ড্যাশবোর্ডে এলসি খোলার তথ্যের কোনো মিল নেই।

এছাড়াও, বকেয়া আমদানি বিলের পরিমাণ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার বিল পরিশোধ বাকি আছে।

বুধবার (১৬ আগস্ট) ব্যাংকারদের একটি  সভায় বৈদেশিক বাণিজ্যের সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বকেয়া ১২ বিলিয়নের তথ্য সঠিক নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) অনুসারে, এর পরিবর্তে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই এই পরিমাণ  বিলিয়ন বা সাড়ে তিনশ’ কোটি ডলার।

তথ্যে বড় পার্থক্য

আমদানির বিল সম্পর্কিত বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ভুল তথ্য দিচ্ছে অনেক ব্যাংক।

একটি এলসি খোলার পরপরই, তথ্যটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন ইমপোর্ট মনিটরিং সিস্টেমে (ওআইএমএস) আপলোড করা হয়, যা দেখায় ৩০ জুন পর্যন্ত আমদানি বিলের পরিমাণ দেখাচ্ছে ৪০.০৯ বিলিয়ন (৪ হাজার ৯ কোটি) ডলার।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে আলাদাভাবে তথ্য সংগ্রহ করে এর পরিমাণ পেয়েছে ২৩.৭৩ বিলিয়ন (২ হাজার ৩৭৩ কোটি ডলার)।

অর্থাৎ ব্যাংকে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আমদানি তথ্যে ১,৬৩৬ কোটি ডলারের পার্থক্য দেখা দিয়েছে, টাকার অঙ্কে যা ১ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক অনুসারে, বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে ব্যাংকগুলোর পাঠানো তথ্য অনুযায়ী ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ বকেয়া বিল ছিল ৫১৬.১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওআইএমএস থেকে পাওয়া তথ্য দেখায়,  ওই সময় পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ বকেয়া বিল ছিল ১৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তথ্যে গড়মিলের কারণ জানতে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে যথাসময়ে ও সঠিকভাবে প্রতিবেদন দিতে বলেছে ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া প্রতিদিন প্রতিটি এলসির তথ্য আলাদাভাবে দেওয়ার পাশাপাশি একটি ব্যাংকের ওই দিনের সব এলসির তথ্য একসঙ্গে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৫ দিনের মধ্যে নির্দেশনা মেনে চলতে বললেও অনেক ব্যাংক নির্দেশনা মানছে না।

কী বলছেন ব্যাংকাররা, বিশেষজ্ঞরা

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, এত পার্থক্যের কারণ ব্যাংকগুলোই ভালো বলতে পারবে।

তিনি মনে করেন, ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট শাখার ভুল প্রতিবেদন তথ্য বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সমস্যা সমাধানে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যেই বিবির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, যত এলসি হয়, তার সব তথ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাশবোর্ডে জমা থাকে। তবে এলসি খোলার পরবর্তী সময়ে কোনও কোনও ব্যাংক হয়তো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে অসাবধানতাবশত ভুল করেছে। এ কারণে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বকেয়া আমদানি বিল নিয়ে যে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তা পরিষ্কার করা উচিত।

তিনি বলেন, অবিলম্বে ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে। এই বড় অঙ্কের পার্থক্যই সন্দেহ সৃষ্টি করে। হয়তো গ্যাপগুলো বকেয়ার মধ্যে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, এত বড় পার্থক্যের পেছনে কার বা কাদের গাফিলতি ছিল তা বের করতে হবে। কারণ, এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এই ব্যাংকার বলেন, জুন পর্যন্ত ড্যাশবোর্ডের হিসেবে থাকা ৪০ বিলিয়ন ডলার হয়তো বকেয়া হয়নি। কিন্তু কিছু তো লুকানো হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকগুলো বসে মিলিয়ে দেখতে হবে। পার্থক্যের বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া না গেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে অডিট করা। আমদানি বিল নিয়ে কোনো পার্থক্য থাকা উচিত হবে না।

বুধবারের বৈঠকে বিবি জানায়, আগে দাম বেশি দেখিয়ে পণ্য আমদানি করা হচ্ছিল। নানা পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সেটা এখন প্রায় ৮০% কমে গেছে। এখন দাম কম দেখিয়ে পণ্য আমদানি হচ্ছে।

এতে বলা হয়, ১ ডলারের পণ্য আমদানিতে ৩০ সেন্ট পাঠানো হচ্ছে। বাকি অর্থ পাঠানো হচ্ছে হুন্ডিতে। ফলে হুন্ডি কমছে না। এর সঙ্গে অর্থপাচারের বিষয়টি জড়িত। এই প্রবণতা কমাতে ব্যাংকারদের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

ব্যাংকারদের হুন্ডি পরীক্ষা করতে সহায়তা করার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয় ওই বৈঠকে।

বৈঠকে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি সভায় বলেন, রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের আগে কোন পণ্য কোথায় রপ্তানি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে ইএক্সপি ফরমের মাধ্যমে ঘোষণা দিতে হয় রপ্তানিকারদের। কিন্তু অনেক প্রভাবশালী রফতানিকারক তা পূরণ করছেন না। আমরাও তাদের কিছু বলতে পারছি না। এ সময় গভর্নর তাকে বলেন, আমার কাছে প্রভাবশালী বলে কিছু নেই। আপনারা আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন।

৫০ কোটি ডলার মাসিক ঘাটতি

বকেয়া আমদানি বিল এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে প্রতি মাসে যে ডলারের সংস্থান হওয়া দরকার তা হচ্ছে না। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৭০০ কোটি ডলারের আয় হচ্ছে। এর বিপরীতে তাৎক্ষণিক আমদানির দেনা মেটাতে যাচ্ছে ৬৫০ কোটি ডলার। ঋণ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে আরও কমপক্ষে ১০০ কোটি ডলার। এ হিসাবে মাসে ঘাটতি থাকছে ৫০ কোটি ডলার।

এছাড়া বিদেশে বিভিন্ন সেবা, রয়্যালটি, মুনাফা প্রত্যাবাসনসহ সব মিলে আরও বাড়তি খরচ হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে ডলারের ঘাটতি হচ্ছে।

এলসির দেনা এক ধরনের স্বল্পমেয়াদি ঋণ। এগুলোর মেয়াদ ৬ মাস থেকে এক বছর বাড়ানো যায়। এতে ঋণের সুদ বাড়ে। ফলে সুদসহ বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এতে ডলারের ওপর চাপ বাড়ে। কারণ, স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেশি হলে তা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকিপূর্ণ।

জ্বালানি আমদানিতে বড় ব্যয়

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেল ফার্নেস অয়েল। এসব জ্বালানির বেশিরভাগই আমদানিনির্ভর।

বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ জ্বালানি চাহিদার প্রয়োজন পড়ছে, তার বার্ষিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার।

দেশের জ্বালানি তেলের ৯২% আমদানিনির্ভর। বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য আমদানি করছে বিপিসি।

ডিজেল, জেট, ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যসহ বছরে ছয় মিলিয়ন টন (৬০ লাখ টন) জ্বালানি আমদানি হয়। বিপুল পরিমাণ এ জ্বালানি আমদানিতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছে জ্বালানি বিভাগ।

রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাঁচামাল আমদানির বকেয়া

ডলার সংকটের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য নিয়মিত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না।

ফলে এ খাতে মোটা অঙ্কের দেনা বকেয়া পড়ে গেছে। ডলারের জোগান কম থাকায় দেনা পরিশোধের মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে।

২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৮ কোটি ডলার।

২০২১ সালের ডিসেম্বর এ খাতে বকেয়া এলসির পরিমাণ ছিল ১১৩ কোটি ৪৯ লাখ ডলার।

অর্থাৎ গত এক বছরে এই খাতে বকেয়া এলসি বেড়েছে ২০.৫৫%। যদিও ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ খাতে কোনো বকেয়া ছিল না।

ডলারের ওপর চাপ বাড়ছে

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে প্রায় ১২ বিলিয়ন বা ১,২০০ কোটি মার্কিন ডলার।

সরকার ও সরকারি গ্যারান্টিতে নেওয়া ঋণের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে ৩১৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বাকিটা পরিশোধ করবে বেসরকারি খাত।

বেসরকারি খাতের ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণের মধ্যে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।

এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে ১৬২ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হবে। আর স্বল্পমেয়াদি ঋণের মধ্যে আরও প্রায় ৬০০ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হবে।

এ বছরের মার্চ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯,৫৭১ কোটি ডলার বা ৯৫.৭১ বিলিয়ন ডলার।

এ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) সরকার ও সরকারি গ্যারান্টিতে পাওয়া ঋণের যে ৩১৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে তার ২৪৩ কোটি ডলার আসল। বাকি ৭৬ কোটি ডলার সুদ।

ডলার সংকটের কারণ

এ বছরের জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে ২১৮ কোটি ডলার স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু এ মাসে তাদের ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে পরিশোধ করতে হয়েছে ৩২০ কোটি ডলারের বেশি। ফেব্রুয়ারিতে ১৮২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ঋণের বিপরীতে পরিশোধ ছিল ২৬৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এভাবে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসেই বিদেশি ঋণ প্রাপ্তির চেয়ে পরিশোধ বেশি ছিল।

এই বছরের প্রথম ছয় মাসে, বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা মোট ১,৩৬৯ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণ নেন, বিপরীতে পরিশোধ করেন ১,৬৭৪ কোটি ডলার। এর ফলে এ বছর প্রথম ছয় মাসে ঋণ নেওয়ার চেয়ে বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে ৩০৫ কোটি ডলার।

ঋণ পরিশোধে এই অতিরিক্ত ৩০৫ কোটি ডলারের জোগান দিতে হয়েছে দেশের ব্যাংকগুলোকে। এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য খাতে।

ডলার সংকটের এ সময়টাতে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ায় অনেক ব্যবসায়ী আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারেননি। আবার ডলার সংকটের কারণে নিয়মিত টাকার অবমূল্যায়ন করতে হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুনে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ছিল ২,৫৯৫ কোটি ডলার, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে ঋণ পরিশোধের তুলনায় ঋণ প্রাপ্তি কম থাকায় ধীরে ধীরে তা কমে আসছে।

একটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণের মধ্যে শুধু ডেফার্ড পেমেন্ট বেড়েছে। মূলত ডলার সংকটে অনেক এলসি সময়মতো নিষ্পত্তি করা যায়নি। তাই ডেফার্ড পেমেন্ট বেড়ে গেছে।

বিবি কর্মকর্তারা বলছেন, গত এক দশকের মধ্যে ২০১৮ সালে বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ কমেছিল। এরপর প্রতি বছরই তা বেড়েছে। তবে ২০২১ সালে তা একলাফে ৬৯% বৃদ্ধি পায়, যা ছিল রেকর্ড বৃদ্ধি। তবে গত বছর তৃতীয় প্রান্তিক থেকে এ ঋণ কমতে শুরু করেছে।

বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধ নিয়ে গত বছরের শুরু থেকেই চাপ ছিল। এ চাপের কারণেই দেশে ডলারের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

২০২২ সালেই বেসরকারি খাতের প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। এছাড়া সরকারি খাতেরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ সৃষ্টি হয়। অবশ্য সরকারি-বেসরকারি ঋণের মেয়াদ পরবর্তীকালে বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সাল শেষে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ ১১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ২০২৪ সাল শেষে বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৩০ বিলিয়ন ডলারে।

স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের ঋণ-জিডিপির অনুপাত এখনও এখনও প্রায় ৩৭% এর নিরাপদ সীমাতে রয়েছে।

About

Popular Links