Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মার্চে বেড়েছে আমদানি এলসি খোলার হার

২০২৩ সালের মার্চ মাসে আমদানি এলসি খোলার পরিমাণ ৬ বিলিয়নের কম ছিল

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৩৯ এএম

দেশের ব্যাংকিং খাতে সঙ্কটের মধ্যেই ফেব্রুয়ারির তুলনায় আমদানির জন্য লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলার হার মার্চে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্যাংকাররা এই বৃদ্ধিকে ব্যাংকিং খাতে ডলারের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতিকে চিহ্নিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো মার্চ মাসে মোট ৬.১৩ বিলিয়ন ডলারের আমদানি এলসি খুলেছে, যা ফেব্রুয়ারির ৫.২৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৩ সালের মার্চ মাসে আমদানি এলসি খোলার পরিমাণ ৬ বিলিয়নের কম ছিল।

গত বছরে, মাত্র তিনবার আমদানি এলসি ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোগ্যপণ্যের আমদানি এলসি খোলার পরিমাণ প্রায় ১৮% কমেছে।

এছাড়া একই সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি, মধ্যবর্তী পণ্য ও শিল্প কাঁচামালের জন্য এলসি খোলার পরিমাণ যথাক্রমে ১৯%, ১৭% ও ৪% কমেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য প্রকাশ করে, মার্চ মাসে আমদানি এলসির নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল ৫.৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা ফেব্রুয়ারির ৪.৭৬ বিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে ১৪.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে৷ 

যাইহোক, এ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ের মধ্যে, পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪% বন্দোবস্ত কমেছে।

গত ১০ মাসে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ থেকে ১১.৬৭ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ অর্থবছরের (২০২৩-২৪) অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলোর কাছে ৬.৭ বিলিয়ন ডলার করা হয়। আর ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সেই সংখ্যা ১১.৬৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার বিক্রির কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্দেশিকা অনুসারে ১৭ এপ্রিল তা নেমে এসেছে ১৯.৮৯ বিলিয়ন ডলারে।

২০২২ সালের জুনে রিজার্ভ ৪১.৪ বিলিয়ন ডলার ও ২০২১ সালের তা ছিল ৪৬.২ বিলিয়ন ডলার।

গত ৩৪ মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৩২.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যার মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার ও ২০২১-২২ অর্থবছরে বিক্রি হয়েছিল ৭.৬২ বিলিয়ন ডলার।

২০২৪ সালের জানুয়ারি শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ১৫৪,০০০ কোটি টাকায় নেমে আসে। যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ১৬০,০০০ কোটি টাকা ও ২০২২ সালের জুনে ২০৩,০০০ কোটি টাকা ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাসের প্রধান কারণ উচ্চ আমদানি পরিশোধ নিষ্পত্তি করা।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের মন্থর বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

২০২২ সালের এপ্রিল থেকে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রোধে একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে, দেশের আমদানি পরিশোধ ১৫.৩৬% কমে ৪০.৮৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। যা আগের বছরের একই সময়ে ৪৮.৩ বিলিয়ন ডলার ছিল।

বর্তমান ডলারের ঘাটতি ইতিমধ্যেই সরকারকে তিন বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ গ্রহণে বাধ্য করেছে।

বর্তমানে, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ডলার ১১০ টাকায় বিক্রি করছে, যা আন্তঃব্যাংক ডলারের হারও।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনও একই হার নির্ধারণ করেছে। কিন্তু চাহিদা মেটাতে অনেক ব্যাংক ১১৮ টাকা পর্যন্ত উচ্চ হারে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে।

About

Popular Links