Saturday, September 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ডিইপিজেডের কারখানাগুলোয় সংকট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি

একাধিক লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কারখানাগুলো

আপডেট : ০৩ মে ২০২৫, ০৭:৪১ পিএম

ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড) চলছে চরম বিদ্যুৎ সংকট। একাধিক লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কারখানাগুলো। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হুমকির মুখের পড়েছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিগুলোও।

গত সোমবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিদ্যুৎ সংকট চলছে ডিইপিজেডে। বকেয়া বিলের অভিযোগে ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্টকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় সংকট।

ডিইপিজেডের কারখানার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ইউনাইটেড পাওয়ার। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠান।

ডিইপিজেডে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি গুনজি ইউনাইটেড লিমিটেড। লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সম্প্রতি ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিতোশি মোরি স্বাক্ষরিত চিঠিতে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, “এক দিনে সাতবার লোডশেডিং হয়েছে। এমন অবস্থায় উৎপাদন কাজ চালানো কষ্টকর।”

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে গুনজি ইউনাইটেডের ম্যানেজার তানভীর আহমেদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “২৮ এপ্রিল থেকে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। আমাদের হাতে প্রচুর অর্ডার আছে, কিন্তু সেগুলো আমরা ডেলিভারি করতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন, “লোডশেডিংয়ের প্রভাব যন্ত্রপাতিতে পড়ছে। যন্ত্রপাতির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হচ্ছে।”

গত ২৮ এপ্রিল বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক কারখানা ওই দিন দুপুরের পর থেকেই উৎপাদনে যেতে পারেনি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরপর পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেওয়া হয় ডিইপিজেডে। এখানে ৯০টিরও বেশি কারখানা আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দ্রুত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ এতে কাজের ব্যাঘাত ঘটছে। সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারলে গুরুতর সংকটে পড়তে হবে।

চাপে পল্লী বিদ্যুৎ

এদিকে ইপিজেডের মত জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে চাপ পড়ছে পল্লী বিদ্যুতেও। স্থানীয় এলাকায় বাড়ছে লোডশেডিং।

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ চাহিদার চেয়েও প্রায় ১০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পেয়ে থাকে। তার ওপর ডিইপিজেডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চেষ্টা করছে। এতে লোডশেডিং বেড়েছে ইপিজেডের আশেপাশে এলাকায়। ভোগান্তি বেড়েছে আশুলিয়াবাসীর।

ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইল, কাইচাবাড়িসহ ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) আশেপাশের এলাকায় লোডশেডিং চলছে বলে জানা যায়। ভুক্তভোগীদের দাবি, সোমবার থেকে লোডশেডিং সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

ঢাকা ইপিজেডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ইউনাইটেড পাওয়ার। গত ২৮ এপ্রিল গ্যাসের বিল বকেয়া নিয়ে জটিলতায় তাদের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিতাস গ্যাস। এতে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন। ফলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় ইপিজেডের ৯০টি কারখানার। ওইদিন জেনারেটর সহায়তায় কিছু কারখানা উৎপাদন চালু রাখে। রাতেই নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য রেখে দ্রুত পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে ইপিজেডের অভ্যন্তরীণ সড়ক বাতিগুলো জ্বালানো হয়।

তবে ইপিজেডকে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর আছে কি-না জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. আখতারুজ্জামান লস্কর ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর চাহিদা আছে ৪৮০ মেগাওয়াটের কিন্তু বিদ্যুৎ পাওয়া যায় ৮০ থেকে ১০০ মেগাওয়াট। এটা পুষিয়ে নিতেই লোডশেডিং করতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “ইপিজেড কর্তৃপক্ষ ৪৫ মেগাওয়াটের কথা বললেও মূলত তাদের চাহিদা রয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট।”

এটা বাড়তি বরাদ্দ থেকেই পূরণ করা হবে বলে জানান পল্লী বিদ্যুতের এই কর্মকর্তা। ঢাকা ইপিজেড এর আশেপাশের এলাকায় লোডশেডিং সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কেবল ইপিজেড এর আশেপাশের এলাকাতেই লোডশেডিং বেড়েছে বিষয়টা তা না। আমরা সমন্বয় করে সব এলাকা থেকেই ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করছি।”

এ ব্যাপারে ইউনাইটেড গ্রুপের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শামীম মিয়া বলেন, “একমাত্র ডিইপিজেডের জন্যই ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্ট করা হয়েছে সেখানে। ডিইপিজেডের কারখানাগুলো সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এতগুলো কারখানা সচল রাখার মত ব্যবস্থা করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সে জায়গায় পল্লী বিদ্যুতের কাজ করা কঠিন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এখনও সম্ভব হয়নি। গতকাল ১৭ বারের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে বলে জেনেছি। রপ্তানিমূখী কারখানার উৎপাদন এতে ব্যাহত হচ্ছে। সার্বিকভাবে এর প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে।”

তিনি আরও বলেন, “চুক্তি অনুযায়ী তিতাসের কাছে আমাদের কোনো বকেয়া নেই। সব পরিশোধ করা আছে।”

   

About

Popular Links

x