খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তেও শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হচ্ছে না।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টাও খুবির প্রশাসনিক ও একাডেমিক সব পর্যায়ই (গেস্ট হাউজ বাদে) তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি ও সমস্যা সমাধানে বৈঠক চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে, বিজয় ২৪ হল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খুবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এসএম মাহবুবর রহমান শনিবার সকাল ১০টায় জানান, এখনও প্রশাসনিক ভবনসহ একাডেমিক ভবন তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মানার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা অবস্থানে অনর রয়েছে। আরও আলোচনা হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে ২৩ ও ২৪ জুলাই একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২৪ জুলাই (শুক্রবার) বিকাল সাড়ে ৪টায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম-এর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী এবং সব স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিনের প্রধান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও বিভাগীয় পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান।
সভায় জানানো হয়, বিজয় ২৪ হলে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমব্যথি। সভায় আরও জানানো হয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ২৪ হলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও করায় অভিযুক্ত ইমাম হাসান ও তার স্ত্রী রুপা মণিকে গত ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ধারা ৮(২), ৮(৩), ৮(৫) (ক) ও ৮(৭)-এর আওতায় জামিন অযোগ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৫টায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরবর্তীতে আদালত তাদের জামিন না দিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তিদ্বয় কারাগারে আছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে হলসমূহের ক্যান্টিনে কর্মরত ব্যক্তিদের মোবাইল সঙ্গে রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হলের ক্যান্টিন পরিচালকের চুক্তি বাতিল করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রী হলসমূহের ক্যান্টিন শুধুমাত্র নারী কর্মী দ্বারা পরিচালিত হবে। ছাত্র বিষয়ক পরিচালক ও হলের প্রভোস্টের সাথে ছাত্রীদের আলোচনার প্রেক্ষিতে শনিবার বিজয় ২৪ হলের বাথরুমে কোনো গোপন ক্যামেরা আছে কি না তা এক্সপার্ট দিয়ে চেক করা হবে।
সার্বিক ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি বা অবহেলা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার সার্বিক বিষয়ে তদন্তে হল কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দিনগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিন দফা দাবি উত্থাপন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই দিনগত রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ’২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসানকে আটক করেন ছাত্রীরা। এ ঘটনায় আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
এ অবস্থায় ২২ জুলাই দিনগত রাত ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে হাদি চত্বরে অবস্থান নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।



