Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আই লস্ট মাই বডি: এ বছরের সবচেয়ে সুন্দর অ্যানিমেটেড সিনেমা

যদি বলা হয়, সিনেমাটি একটি বিচ্ছিন্ন হাতকে ঘিরে, যে কিনা প্যারিসের অলিতে গলিতে অনেক বিপদসংকুল পথে তার মালিককে খুঁজছে। সেটা কি বিশ্বাসযোগ্য?

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:১৫ পিএম

প্রবাহমান রক্তস্রোতের চারদিকে উড়ছে একটি মাছি। পাশেই শুয়ে আছে এক যুবক। তার পাশে পড়ে আছে চশমা ও একটি শক্ত হাত। সম্ভবত এগুলোও ওই ছেলেটির। বাস্তবে নয়, একটি অ্যানিমেটেড সিনেমাতেই দেখা মিলবে এমন দৃশ্যের। ছবিটি বানিয়েছেন ফরাসী পরিচালক জেরেমি ক্ল্যাপিন। ২০১৯ সালে বানানো ক্ল্যাপিনের এ সিনেমাটির নাম 'আই লস্ট মাই বডি'। এটি রহস্যে ঘেরা কাহিনী নির্ভর একটি সিনেমা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ফিল্ম ফেস্টিভালে সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়।

যদি বলা হয়, সিনেমাটি একটি বিচ্ছিন্ন হাতকে ঘিরে, যে কিনা প্যারিসের অলিতে গলিতে অনেক বিপদসংকুল পথে তার মালিককে খুঁজছে। সেটা কি বিশ্বাসযোগ্য?

 “আই লস্ট মাই বডি” মুক্তি পায় নভেম্বরের ১৫ তারিখে। সিনেমার প্রধান চরিত্র পাঁচ আঙুলের একটি হাত। সে দৈবক্রমে চলাফেরা করতে পারে। সেই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে হাতটি হাসপাতালের ল্যাবরেটরি থেকে পালিয়েও যায়।

সিনেমার গল্পে বিচ্ছিন্ন হাতটি নাওফেল নামের এক যুবকের। নাওফেলকে ছোটবেলায় তার বাবা বলেছিলেন, মাছি ধরার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো মাছিটি এখন কোথায় আছে সেটা না ভেবে, কোথায় বসবে তা চিন্তা করা এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া। অর্থাৎ, বর্তমান কোনো কাজে সাফল্যের জন্য আগে থেকে এর ভবিষ্যত অনুমান করতে হবে।

কাহিনীর ধারাবাহিকতায় যখন আমরা জানতে পারি, নাওফেলই সেই হাতের আসল মালিক, ঠিক তখন পরিচালক ক্ল্যাপিন একটি রহস্যের অবতারণা করেন। কীভাবে হাতটি নাওফেলের শরীর থেকে আলাদা হয়েছে সে বিষয়টি তিনি অপ্রকাশিত রাখেন।

নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়ে পুরো সিনেমাটিকে তিনভাগে বিভক্ত করেছেন ক্ল্যাপিন। প্রথম অংশে দেখা যায়, আসল মালিককে খুঁজতে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হাতের সংগ্রাম। মাঝামাঝি অংশে পরিচালক দেখিয়েছেন নায়কের কৈশোর জীবন এবং শেষাংশে রেখেছেন নাওফেলের বর্তমান অবস্থা। সেখানে দেখা যায়, ফ্রান্সের প্যারিস শহরে পিৎজা ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করছেন নাওফেল। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তিনটি অংশের সমন্বয় ঘটিয়েছেন পরিচালক জেরেমি ক্ল্যাপিন।

পিৎজা ডেলিভারির কাজ করতে গিয়ে এই সিনেমায় নায়িকা চরিত্র গ্যাভ্রিয়েলের সঙ্গে পরিচয় ঘটে নায়কের। বৃষ্টিস্নাত এক রাতে সে প্রথম গেভ্রিয়েলকে দেখে। প্রথম দেখাতে নাওফেলের সঙ্গে বেশ রাগান্বিত আচরণ করেছিলেন গ্যাভ্রিয়েল। কারণ নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশি সময় নিয়েছিল পিৎজা ডেলিভারি ম্যান নায়ক। পরে অবশ্য নায়কের প্রতি সে সহানুভূতিও দেখায়। গেভ্রিয়েলকে একসময় ভালো লাগতে শুরু করে নাওফেলের। সবসময় সে গেভ্রিয়েলকে চোখে চোখে রাখতে শুরু করে। কাছাকাছি আসার জন্য সে নায়িকার চাচার কারখানায় কাজ নেয়।

তবে, শেষতক সিনেমার শেষটা আবছা করেই রেখেছেন পরিচালক। সাধারণ দর্শকরা একটা সিনেমার হ্যাপি এন্ডিং আশা করেন। কিন্তু “আই লস্ট মাই বডি” আমাদের অন্য কিছু শিখিয়েছে। আমরা সব সময় কামনা করি যে, আমাদের জীবনটা সরলরৈখিক হবে। সেখানে থাকবে না কোন জটিলতা, মোড় বা অপ্রত্যাশিত কোনো সমস্যা। কিন্তু থাকবে অপ্রত্যাশিত পুরষ্কার। কিন্তু অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির জন্য নিজেকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে হবে।

About

Popular Links