• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ রাত

আসছে ‘একঘরে’ আলাপ

  • প্রকাশিত ০৯:৫১ রাত জুলাই ১৮, ২০১৮
clip0103-00-02-51-07-still001-1531928970881.jpg
'একঘরে' মিউজিক ভিডিওর স্থির দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

প্রবল মুক্তির আকাঙ্খা যে মানুষকে শক্তি জাগিয়ে বের করে আনে, সেই সত্য নিয়েই মুয়িজের গান ‘একঘরে’।

প্রবল মুক্তির আকাঙ্খা যে মানুষকে শক্তি জাগিয়ে বের করে আনে, সেই সত্য নিয়েই মুয়িজের গান ‘একঘরে’। যেখানে কবি সুরের আশ্রয় নিয়ে পুরো জগতের ইকোসিস্টেমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলতে চেয়েছেন ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে ঘরটাই যেনো একঘরে হয়ে পড়ে। 

হাজারো লোকের ভীরে কবি’র একলা বোধ করার যে বোধ তারও আড়ালে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে জীবনানন্দের সকল লোকের মাঝে ব’সে/আমার নিজের মুদ্রাদোষে/আমি একা হতেছি আলাদা? কেননা অনুভূতির গুরুত্ব, ভালোবাসার প্রতি তীব্রতা, চেনা রাস্তার বাইরে দিয়ে হাটা ও সেই সাথে নতুন পথের আবিস্কারই যেনো মূখ্য হয়ে ওঠে। 

আর সেই পথকে যখন তরুণ নির্মাতা অন্তু খুবই অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্টের মতো ডিল করে তখন সেটি আর কেবল গান না থেকে হয়ে ওঠে তারো বেশি কিছু। খুব সাদামাটা ভাবেও যে মানুষের ভালোবাসার তীব্রতাকে টেনে বের করে এনে ঘরের বাইরে ছেড়ে দেয়া যায়, তা এই গানের ছবি থেকে ফুটে ওঠে। উল্টো কচ্ছপও প্রাণ ফিরে পাওয়ার আহবানে সাড়া দিয়ে শুরু করে নতুন এক যাত্রা। গানে-সুরে-ছন্দে-ছবিতে হয়তো আরো অনেক কিছুই করা যেত; সেটা সামনের দিনের জন্য নিশানা হিসেবে রেখে শান দেয়ার প্রয়াশকে চালু রাখাই হবে মুয়িজ ও অন্তুর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শব্দের সাথে সুর মিশ্রিত হয়ে তৈরি হয় গান। ঠিক তেমনই তার উপর দৃশ্য জুড়ে দিলে সেটা কেবল তথাকথিত মিউজিক ভিডিও-ই হয় না। হয়তো হয় তারো বেশি কিছু। সেই চেষ্টারই একটা আবছায়া টের পাওয়া যায়- একঘরে গানের নির্মাণ শৈলীতে। 

এখানে গানটির চিত্রনাট্যে তাই যেনো মেটাফোর হিসেবে দুটি বন্দি মানুষের মুক্তির স্বাদ পাওয়ার তীব্রতায় বেচে উঠার চেষ্টা দেখা যায়। দেখা যায় একফ্রেমে গায়ক-নায়ক থাকলেও যেনো তারা কতোটা বিচ্ছিন্ন। একি চিত্রনাট্যের রসায়ন নাকি গানের বয়ান, তা খুব একটা স্পষ্ট নয়। এবং এ কারণেই বোধহয় ভালো লাগার মাত্রা আরো বেড়ে যায়। কেননা শিল্প তো ম্যাথেমেটিক্স নয় যে রেজাল্ট বের করার জন্য আজীবন লড়াই করে যাবে!  

গানের সূত্র অনুসারে- সংগ্রাম বা বিচ্ছেদের চেয়ে মানুষকে ভালোবেসে যাওয়াটাই হবে সবচেয়ে জরুরী বিষয়। তাই বলাই যায় উল্টোকচ্ছপের রাতে যদি ঠিকঠাক বইতে থাকে তবে একদিন ঠিকই ভালোবাসায় ভর করে ডানা মেলে ওড়া যাবে; স্বপ্নময় পৃথিবীতে গানে-শব্দে-ছবিতে তৈরি হবে ভালোবাসার পরের অধ্যায়...