• শনিবার, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৮ বিকেল

যাত্রা বিরতি: গানে নতুন মুখের মঞ্চ

  • প্রকাশিত ০২:২৬ দুপুর অক্টোবর ৮, ২০১৮
যাত্রা বিরতি
যাত্রা বিরতি। ছবি: সৌজন্য

রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত ‘যাত্রা বিরতি’র প্রায় ১২০০ বর্গমিটারের হলরুমটির একপ্রান্তে ছোট কাঠের মঞ্চে পরিবেশনা করেন শিল্পীরা আর শ্রোতাদের আসন ব্যবস্থাটাও বেশ ভিন্নধর্মী

বাংলা গানের জগতে নবাগত শিল্পীদের বহু দিনের কাঙ্ক্ষিত এক মঞ্চ "যাত্রা বিরতি"। যারা এ মঞ্চ সম্পর্কে জানেন, শুক্রবার রাতের আয়োজন দেখে তারা বলতেই পারেন, এমন আয়োজন "যাত্রা বিরতি"র ক্ষেত্রেই যথার্থ। আর এর সাথে অপরিচিত যারা, সঙ্গীতাঙ্গণে নতুন মুখদের আলোতে আনার এ প্রয়াসকে তারাও প্রশংসায় ভাসাবেন।

“মৌলিক” শিরোনামের এই আয়োজনটির প্রোডাকশন ম্যানেজার সৌম্য সাহাকে একইসাথে একাধিক ভূমিকায় দেখা মিলল সেখানে। প্রথমত, তিনি নিজেই মাইক্রোফোন হাতে শিল্পীদের পরিচিতি দিয়ে উপস্থাপকের ভূমিকা পালন করছেন। আবার নিজেই শিল্পীদের গিটারে শব্দযন্ত্রের সংযোগ করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রয়োজনে মঞ্চের পেছন থেকে চেয়ার টেনে সামনে এনে দিচ্ছেন আর ফটোগ্রাফারের দায়িত্বটাও পালন করছেন হাসিমুখেই।

জিজ্ঞেস করলাম, কেন নিজেই সবকিছু করছেন? উত্তরে সৌম্য বললেন, “অনুষ্ঠানটির ধারণা আমার মাথা থেকে এসেছিল। আমি সব শিল্পীকে চিনতাম এবং তাদের গান আগেও শুনেছি। এক সপ্তাহ আগে আমার মাথায় চিন্তাটা এসেছিল, এবং তারপর থেকেই পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ দিতে একে একে শিল্পীদের সাথে যোগাযোগ করি। মঙ্গলবারের মধ্যে শিল্পীরা আমাকে নিশ্চিত করে, এই অল্পসময়ে খুব একটা প্রচার করাও সম্ভব হয়নি। বাকিটা আপনার চোখের সামনে।"

রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত "যাত্রা বিরতি"র প্রায় ১২০০ বর্গমিটারের হলরুমটির একপ্রান্তে ছোট কাঠের মঞ্চে পরিবেশনা করেন শিল্পীরা। আর শ্রোতাদের আসন ব্যবস্থাটাও বেশ ভিন্নধর্মী। বাংলা বর্ণমালার নকশাখচিত কমলা রঙের বালিশের ওপর আরাম করে বসতে পারেন এখানে আসা সঙ্গীত পিপাসুরা। আর অত্যন্ত সাদামাটা সাউন্ড সেটআপে অসাধারণ আয়োজন।

এই সন্ধ্যার প্রত্যেক শিল্পীরই একটা নিজস্বতা ছিল, একধরনের একক শিল্পবোধ ছিল।

অরণ্য অনুপমের পরিবেশনা দিয়ে আয়োজনের মূল পর্বের সূচনা। তার গানগুলোর কথা আর সুর তার নিজের করা। তার গানের ভাষাগত শৈল্পিকতা এতোটাই সুচারু যে, কোনো রকম সুর ছাড়াও কথাগুলো আবৃত্তির মতো করে পড়া হলেও মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতে আপনি বাধ্য। “সে আসে” ও “শঙ্খচিলের গান” শিরোনামে গান দু’টি তার পরিবাশনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল। 

এরপর রুশলান শাবিব মুর্শেদের পরিবেশনা উপভোগ করলাম। “গড কমপ্লেক্স” এর আদলে তার উঁচু সুরের গানে দর্শকদের এতক্ষণের ঘোর লাগা ভাবটা কেটে যায়। পুরনো সময়ের বিখ্যাত গান “টেক মি হোম” এর বিনির্মিত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তিনি মঞ্চ ত্যাগ করেন। 

আগের পরিবেশনা দু’টি থেকে একদম ভিন্ন লয়ে মঞ্চে আসেন অ্যালেক্স ও দ্য মনস্টারস। "কান্ট্রি মিউজিক" থেকে অনুপ্রাণিত এ শিল্পীর শিরোনামটা একটু অদ্ভুত লাগায় তার কাছে জানতে চাই, কেন একক শিল্পী হয়েও এমন নাম! জবাবে বললেন, "অ্যালেক্স অ্যান্ড দ্য মনস্টার নামে একটি ব্যান্ড গঠন করার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু বাকি সদস্যরা কখনও একসাথে হতে পারেনা। তাই আমি একাই এই পরিচয়ে পরিবেশনা চালিয়ে যাচ্ছি।"

এরপর একে একে বন্ধুদের আড্ডায় ছাদে গান গাওয়া সালেক, আসরের একমাত্র যুগল পরিবেশনা নিয়ে আসেন তাপস ও ধ্রুব, সবগানের পেছনের গল্পকে সামনে আনা গায়ক রুশনাফ ওয়াদুদ, শীঘ্রই অ্যালবাম প্রকাশ করতে যাওয়া ও "ভাঙা খাচার কিচিরমিচির" ব্যান্ডের গায়ক শ্যাম আহমেদ আর সবশেষে আসলেন অর্জিতা দত্ত ইচ্ছা। নিজের চমৎকার একটি গানের পর স্বরচিত দুটো কবিতাও আবৃত্তি করেন তিনি।  

পুরো পরিবেশনার উপভোগের পর যখন ফিরছিলাম, তখন একটা চিন্তা আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো। ব্যস্ত-কোলাহলময় এ শহরে প্রতিভা মোটেও কমতি নেই। শুধু মঞ্চের আলোয় আনবার অপেক্ষা। আর ‘যাত্রা বিরতি’ মঞ্চটি সেই গুরু দায়িত্ব পালন করছে।