• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৭ রাত

চলচ্চিত্র ‘দেবী’: শক্তি ও শঙ্কা

  • প্রকাশিত ০৬:৫৮ সন্ধ্যা অক্টোবর ১১, ২০১৮
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

‘দেবী’ চলচ্চিত্রটি আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ এবং তার সৃষ্ট মধ্যবয়সী রহস্যময় চরিত্র মিসির আলী। লেখক এবং চরিত্র দুটোই জনপ্রিয়। এই সিরিজের প্রথম উপন্যাস দেবী। 

অনেকদিন থেকে আসি আসি করে অবশেষে ১৯শে অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘দেবী’। চলচ্চিত্রটি নিয়ে দুই বাংলায় আলোচনা এখন তুঙ্গে। আলোচনার কারণও রয়েছে। সেসব কারণ বিশ্লেষণ করে দেখতে গেলে ‘দেবী’ চলচ্চিত্রের কিছু শক্তি যেমন দৃশ্যমান হয় তেমনি কিছু শঙ্কার কালো মেঘও দেখা যায়। 

‘দেবী’ চলচ্চিত্রটি আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ এবং তার সৃষ্ট মধ্যবয়সী রহস্যময় চরিত্র মিসির আলী। লেখক এবং চরিত্র দুটোই জনপ্রিয়। এই সিরিজের প্রথম উপন্যাস দেবী। এ ধরনের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র তৈরির সবচেয়ে বড় শঙ্কার জায়গা থাকে গল্পে। কারণ, কাহিনীটা পাঠকদের জানা এবং তার একটা দৃশ্য বিন্যাস পাঠকের মনে তৈরি হয়ে আছে। প্রেক্ষাগৃহের আঁধারে ঘেরা বড় পর্দায় পাঠক এবং দর্শক তার তৈরি সেই সেই দৃশ্য বিন্যাসের সাথে সামঞ্জস্য খুঁজবেন। তাই চলচ্চিত্র হিসেবে ‘দেবী’-কে হতে হবে উপন্যাসের তুলনায় শক্তিশালী অথবা সমান সমান, কোনোভাবেই উপন্যাসের তুলনায় দূর্বল হওয়া চলবে না। তাহলে দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। 

তবে চলচ্চিত্রজগতে উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণে সফলতার গল্প বেশি বলেই পৃথিবীজুড়ে এটি প্রচলিত। সেই হিসেবে দেবী সাহিত্যমানে আগেই উত্তীর্ণ হয়ে আছে এখন চলচ্চিত্রের শিল্পমানে উত্তীর্ণ হওয়াটা বাকি। 

বেশ কয়েক মাস ধরেই চলছে দেবী ছবির প্রচারণা। এই প্রচারণার ধরণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় আরেক ব্যবসাসফল ছবি ‘আয়নাবাজি’ এর কথা। ‘আয়নাবাজি’ এবং ‘দেবী’ চলচ্চিত্রের মধ্যে বেশ কিছু সামঞ্জস্য রয়েছে। যেমন: ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রের নামভূমিকায় ছিলেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। ‘দেবী’ চলচ্চিত্রেও তিনি অন্যতম মূল চরিত্রাভিনেতা। মিসির আলীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। ‘আয়নাবাজি’ ছবির কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছিলেন অনম বিশ্বাস। ‘দেবী’ পরিচালনা করেছেন তিনি এবং এটিই তার পরিচালনায় প্রথম ছবি। ‘আয়নাবাজি’ যেমন নতুন কৌশলে ও ব্যাপকভাবে ছবির প্রচারণা চালিয়েছিল,‘দেবী’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক-পরিচালকও সেভাবেই চেষ্টাকরেছেন। এর মধ্যেই ‘দেবী’ নিয়ে বিশেষ পোশাক তৈরি করা হয়েছে। পত্রিকা ও ওয়েবের পাতাজুড়ে ‘দেবী’ সংশ্লিষ্ট কোন না কোন খবর আছেই। 

জয়া আহসান অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক হচ্ছেন দেবী চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এটা দেবী চলচ্চিত্রের জন্য শক্তি। ঢাকা ও কলকাতা দুই বাজারেই অভিনেত্রী হিসেবে জয়া আহসানের কদর রয়েছে। তার প্রযোজনার ছবি দেখতে মানুষ হলে যাবে। 

তবে চলচ্চিত্রের বড় বিজ্ঞাপন ‘মুখের কথা’ ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’। মানে আমি সিনেমাটা দেখে আসে আপনাকে বলবো, ‘দেখুন, দারুন সিনেমা’! আপনি সেটা আরো ১০ জনকে বললেন, তারা আরো ১০ জনকে, এভাবেই দলে দলে হলেযাবে দর্শক।‘আয়নাবাজি’ এবং ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দুটি ছবিই দর্শকদের মুখের কথায় জনপ্রিয় এবং ব্যবসাসফল হয়েছে। 

শক্তির পাশাপাশি কিছু শঙ্কাও রয়েছে ছবিটিকে ঘিরে। প্রথমত, অনেকদিন ধরে প্রচারণা চলার পর ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এই সময়ে পাঠক-দর্শকের মনে উচ্চাশা তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্রটিকে সেই উচ্চাশা পূরণ করতে হবে এবং পাঠক-দর্শকের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। একইরকম উচ্চাশা তৈরি হয়েছে ছবির গল্প এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রতি। অভিনয় দিয়ে সেটাও পূরণ করতে হবে। না হলে ছবিটি ঝুঁকির মুখে পড়বে। হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের আপত্তি তুলেছিল কাহিনী স্বত্ব নিয়ে, ছবি মুক্তির পর সেটি নিয়ে আবারও তারা সরব হলেন, সেটা শঙ্কার কারণ হতে পারে। 

সব শক্তি ও সম্ভাবনার ক্যালকুলেটর এখন দর্শক-পাঠকদের হাতে। ছবি দেখে তারাই রায় দিতে পারবেন ‘দেবী’ চলবে নাকি চলবে না। 


এক নজরে দেবী চলচ্চিত্রের শক্তি

  • লেখক হুমায়ূন আহমেদ এবং তার ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা। 
  • জনপ্রিয় চরিত্র মিসির আলীর পাঠকপ্রিয়তা। 
  • পাঠকপ্রিয় গল্প। 
  • অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয় শক্তি। 
  • পরিচালক অনম বিশ্বাসের ক্যারিশমা। 
  • প্রযোজক ও অভিনেত্রী জয়া আহসানের লাবন্য ও অভিনয় শক্তি। 


এক নজরে দেবী চলচ্চিত্রের শঙ্কা

  • পাঠকপ্রিয় উপন্যাস এবং চরিত্রের বাস্তব রুপদান। পাঠক-দর্শকের প্রত্যাশাকে স্পর্শ করতে না পারলে দর্শকেরা হলবিমুখ হতে পারেন। 
  • প্রচারণায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। প্রত্যাশার পারদ ঊর্ধ্বগামী। সেই প্রত্যাশার চাপ নিয়ে হলে আসবে দেবী। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে দর্শক টানতে কষ্ট হবে। 
  • পরিচালক-প্রযোজক দুজনেরই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি। ছোট-বড় কিছু ভুলভ্রান্তির আশঙ্কা থাকবে। 
  • মিসির আলী হিসেবে চঞ্চল চৌধুরীকে দর্শক গ্রহণ করবে কিনা সেটাও শঙ্কার ব্যপার।