• রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

আইয়ুব বাচ্চুর শেষ সাক্ষাৎকার

  • প্রকাশিত ০৮:৩৯ রাত অক্টোবর ১৮, ২০১৮
আইয়ুব বাচ্চু
আইয়ুব বাচ্চু। ছবি: ইমতিয়াজ আলম বেগ ফটোগ্রাফি

ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া আইয়ুব বাচ্চুর এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছিল চলতি বছরের ৯ অগাস্ট

কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী ও কিংবদন্তি রকস্টার আইয়ুব বাচ্চু। কিংবদন্তি এই মানুষটি আজ আর নেই, কিন্তু থেকে যাবেন মানুষের হৃদয়ে, তার গানে, কথায়, সাক্ষাৎকারে।   ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া আইয়ুব বাচ্চুর সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল চলতি বছরের ৯ অগাস্ট।  ভক্তদের জন্য সেই সাক্ষাৎকারের বিশেষ কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-   

প্রথম গিটার কবে হাতে এসেছিল?

প্রথম অ্যাকোস্টিক গিটার হাতে আসে ১৯৭৩ বা ৭৪ সালে, বাবা দিয়েছিলেন। সাধারণ একটা অ্যাকোস্টিক গিটার ছিলো সেটা, ওটা দিয়েই শেখা শুরু করি। পরে বন্ধুর কাছ থেকে আরেকটি গিটার ধার নিয়েছিলাম, ওটা ছিলো ‘টিসকো’ গিটার, বেশ বিখ্যাত ব্র্যান্ড। পরে ওটা দিয়েও শিখেছি, সে সময় সম্ভবত ক্লাস ফাইভে পড়তাম।

প্রথম গিটার পাওয়ার পরই মিউজিশিয়ান হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

হ্যাঁ, আমার সবসময় একটিই লক্ষ্য ছিল, আর তা হচ্ছে মিউজিশিয়ান হওয়া। আমার আর কোনো ইচ্ছা ছিল না।

মিউজিকের ব্যাপারে প্রাতিষ্ঠানিক কোনও প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন কি?

ঠিক সেভাবে না। বর্তমানের মতো তখন আমাদের জন্য এতো মিউজিক স্কুল ছিলো না। আমাদের সময় বই বা ইউটিউবও ছিলো না, যা দেখে সঠিকভাবে গিটার বাজানো শেখা যাবে। বার্মার একজন শিক্ষক পেয়েছিলাম, তিনি তখন চট্টগ্রামে থাকতেন। ওনার কাছেই কীভাবে কর্ড তুলতে হয়, তা শিখেছিলাম। কর্ডের মধ্যের সম্পর্ক ও সংযোগ সম্পর্কে তিনিই শিখিয়েছিলেন। এভাবেই শেখাটা শুরু হয়।

শুরুর দিকে কোন কোন শিল্পীদের গিটার বাজানো দেখে উৎসাহিত হয়েছিলেন? আপনার সংগীত যাত্রায় কোন ব্যান্ডগুলোকে অনুসরণ করেছেন? 

অসংখ্য ব্যান্ড আছে যাদের মাধ্যমে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। সবার প্রথমেই রয়েছে গিটার ঈশ্বর খ্যাত জিমি হেনড্রিক্স। আর স্টিভ ভাই, জো সাত্রিয়ানি, রাস্টি কুলি, অ্যান্ডি জেমস-তো আছেনই। আপনি যে কোনো গিটারিস্টের নাম বলতে পারেন, আমি তাদের সবার মিউজিকই শুনেছি। আমি শেখা শুরু করার পর থেকেই তাদের মতো করে বাজানো শিখতে চেয়েছি। তবে সবচেয়ে বেশি হেনড্রিক্স-কেই আমার ভালো লাগে। কারণ উনি নোটের পর নোট ব্যবহার করে গিটার বাজানোকে জটিল করেননি। গিটারের বাজানোর মাধ্যমে তার আবেগ তুলে ধরতেন তিনি। আমিও সেটা করার চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এলআরবি এবং আপনার যাত্রা সম্পর্কে কিছু বলুন।

আমার মতে, এদেশে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯১ সালে। পরপর দুই বার ডাবল অ্যালবাম আমরাই প্রথম বের করেছিলাম। যখন শুরু করি, তখনও সেভাবে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মানুষ তখন মনে করতো ব্যান্ড মিউজিক ক্ষণস্থায়ী কোনও কিছু। তারপরেও ওই সময়গুলো ভালো ছিল। বর্তমানে রয়্যালিটির মতো অসংখ্য ইস্যু ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকে পড়েছে। এসব কারণে মিউজিশিয়ানদের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে। 

এলআরবি-কে নিজস্ব মিউজিক স্টাইল নিয়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হয়েছে? 

আমরা যখন শুরু করি তখন প্রায় সবাই বলেছে, “এ ঘরানার মিউজিকের ভবিষ্যত নেই”। আমরা এমন মন্তব্যও শুনেছি, “তোমরা প্রচুর জোরে গান করো। তোমরা অনেক নয়েজি।” এখন কিন্তু তারাই বলছে, “বাহ্, এটা যদি তুমি ওই সময় করতে।” আপনি যদি অরিজিনাল মিউজিক সৃষ্টি না করতে পারেন, তাহলে এ দেশে আপনার কদর নেই। এখন ২০১৮ চলছে এবং আমরা এখনও কাজ করছি। আমারা এখনও জোরে গান করি, হয়তো আগের চেয়েও বেশি জোরে গান করি। আমরা কিন্তু এখনও আগের মতোই আছি।

একদল বন্ধু যদি একত্রে ব্যান্ড তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী হবে?

আমি শুধু বলবো, “এগিয়ে যাও!” সাহসী হও। স্বপ্নকে নিজের মধ্যে ধারণ করো এবং ব্যর্থতার কথা ভেবো না। মঞ্চে উঠে পড়ো এবং চেষ্টা করতে থাকো। 

ইন্ডাস্ট্রিতে যে ব্যান্ডগুলো জায়গা করে নিতে চাচ্ছে, তাদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী?

আমার পরামর্শ হবে, ভুল হতে পারে এমন বিষয়গুলো নিয়ে মাথা না ঘামাতে। ভুলগুলোকে পাশ কাটিয়ে যতোটা ভালো করা সম্ভব, ততোটুকু করার।  

ভক্তদের উদ্দেশে যদি কিছু বলতেন?

মাদক থেকে দূরে থাকুন। দয়া করে ভালো গান শুনুন। চেষ্টা করুন সারা বিশ্বের নানা ধরনের গান শুনতে, বিশেষ করে বাংলা গান।   


(সঙ্গীতশিল্পী ও কিংবদন্তি রকস্টার আইয়ুব বাচ্চু মৃত্যুর মাত্র মাসখানেক আগে শেষ সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন ঢাকা ট্রিবিউনকে