• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০১ সকাল

শাকিব খান: চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচলে আমরা নতুন সুপারস্টার পাব

  • প্রকাশিত ১২:১২ রাত ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮
শাকিব খান
একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে শ্যুটিংয়ের দৃশ্যে শাকিব খান ও নুসরাত ফারিয়া। সৌজন্যে

বাংলা চলচ্চিত্রের সুপারস্টার শাকিব খান ঢাকা ট্রিবিউনকে দিয়েছেন একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার

ঢালিউডে নতুন শতাব্দীর শুরুর সময়টা সাক্ষী হয়ে থেকেছে চিত্রতারকা শাকিব খানের উত্থানের। তবে অদম্য এবং অনন্য জনপ্রিয়তা সত্বেও শাকিব যেন কিছুটা দূরত্বই বজায় রেখে চলছিলেন ছোট পর্দা এবং বিজ্ঞাপনচিত্র থেকে। গত তিন বছর দেশি চলচ্চিত্রেও তিনি ছিলেন অনিয়মিত। 

বিজ্ঞাপনচিত্রে দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আদনান আল রাজিবের পরিচালনায় তিনি এখন কাজ করছেন মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের একটি বড় বাজেটের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে। সেখানে শাকিবের সঙ্গে দেখা যাবে জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে।

দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ঢালিউডে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন শাকিব। সঙ্গে ছিলেন সাদিয়া খালিদ।

অনেকদিন পরে কমার্শিয়ালে (বিজ্ঞাপনচিত্র) কাজ করলেন। কমার্শিয়াল থেকে দূরে থাকেন কেন?

শাকিব : ঠিক দূরে থাকা নয়। গত তিন বছর আমি নিজেই তো দূরে ছিলাম। ঢাকায় থাকা হয়েছে কম। মাঝে মাঝে ঢাকায় সিনেমার শ্যুটিংয়ে এসেছি। আবার কাজ শেষে চলে যেতে হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের তিনটি ছবিতে কাজ করতে গিয়ে কলকাতার দুটো ছবির অফার ফিরিয়ে দিয়েছি। তাই একটু বেশি সময় দেশে থাকার সুযোগ হচ্ছে।

শেষ কবে বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন?

শাকিব: সালটা ঠিক মনে নেই। তবে অনেক বছর আগে।

ঠিক কোন কারণে এই কমার্শিয়ালে কাজ করতে রাজি হলেন?

শাকিব: প্রথমত, পরিচালক আদনান আল রাজিব একজন অসাধারণ মানুষ এবং দেশের সেরা বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতাদের একজন। আর টেলিকমের এই কমার্শিয়ালটা বড় একটা আয়োজনে করা হচ্ছে। এসব বিবেচনায় আমি কাজ করতে রাজি হয়েছি। পুরো পৃথিবীতেই বড় বড় সুপারস্টাররা কমার্শিয়ালে কাজ করে থাকেন। এর দুটো ভাল দিক আছে বলে আমি মনে করি। এক—ভিন্নধারার শিল্পীদের সঙ্গে কাজের সুযোগও পাওয়া গেল আর দ্বিতীয়ত—কর্পোরেট জগতের সাথে ফিল্মের একটা সংযোগও হলো। 

সম্ভবত, আগামী ২০ অথবা ২১ ডিসেম্বর কমার্শিয়ালটির প্রচারণা শুরু হবে। এই সময়টাতে সবার মাথায় ইলেকশন একেবারে গেঁথে আছে। এই পরিবেশের মধ্যে এমন একটা জমকালো, চোখ ধাঁধানো টিভি বিজ্ঞাপন মানুষকে একটু হলেও স্বস্তি দেবে বলে আমি আশা করি।

নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন? আপনারা তো একসাথে একটা সিনেমার কাজও করছেন...

শাকিব: নিঃসন্দেহে নুসরাত একজন ভাল অভিনেত্রী। আমাদের বোঝাপড়াটা দারুণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। আমাদের 'শাহেনশাহ' সিনেমার কাজও প্রায় শেষের দিকে। খুব শিগগিরই আবার আমরা একসাথে কাজ করব।

আপনি আজকাল ভারতে অনেক কাজ করছেন। দেশের তুলনায় সেখানকার কাজের পরিবেশে কোনও ভিন্নতা আছে চোখে পড়েছে?

শাকিব: হ্যাঁ অবশ্যই। আমার অভিজ্ঞতা বলে পশ্চিমবঙ্গ সবসময়ই আমাদের পেছনে ছিল। এমনকি, এখনও তাদের চেয়ে আমাদের বাজার অনেক বড়। সমস্যাটা হলো আমরা আমাদের বাজারটাকে ভালভাবে কাজে না লাগাতে পারার কারণে দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেখানে তারা ছোট মার্কেটকে কাজে লাগিয়ে বড় ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলেছে। এখানে কাজ না করলে হয়ত এটা জানতেই পারতাম না। পশ্চিমবঙ্গে আমাদের ইন্ড্রাস্ট্রিকে তামিল ইন্ডাস্ট্রির সাথে তুলনা করা হয়। ওরা বলে আমাদের এখানে বিশ কোটি টাকা বাজেটের সিনেমা বানানো উচিত।

সাদাকালো ছবির জমানায় যখন জনসংখ্যা আরও কম ছিল তখন আমাদের দেশে হাজারের বেশি সিনেমা হল ছিল। এখন জনসংখ্যা তিনগুণ বেশি, সে হিসেবে আমাদের দেশে অন্ততঃ পাঁচ হাজার সিনেমা হল থাকার কথা ছিল। কিন্তু কেন যেন আমরা পেছনে পড়ে গেছি। তবে, প্রত্যেকটা ইন্ডাস্ট্রিতেই উত্থান-পতন থাকে। আমাদের দেশে এখন আবার ভাল ছবি হচ্ছে। খুব শিগগিরই আমাদের চলচ্চিত্র নতুন দিগন্তের মুখ দেখবে বলে আমি আশাবাদী।

দেশে কাজ করার জন্য আপনি ভারতে অনেক লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন...

শাকিব: এখানে নুসরাত ফারিয়া আর শবনম বুবলির সঙ্গে দুটো সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে আমি বেশ কয়েকটি ভারতীয় সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি। কারণ, কাজ না করলে অবস্থার পরিবর্তন হবে না। ইন্ডাস্ট্রিকে বদলাতে চাইলে এখানে থেকেই আপনাকে কাজ করতে হবে। সিনেমার সুদিন ফেরাতে আমাদের দেশি সিনেমায় কাজ করতে হবে।

আপনার সিনেমা তো আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বেশ ভাল করছে

শাকিব: আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তিপ্রাপ্ত আমার প্রথম ছবি হলো শিকারি (২০১৬)। এটা বাণিজ্যিকভাবে মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে মুক্তি পেয়েছিল। সিনেমা চালানোর জন্য আমাদের হল ভাড়া করতে হয়নি। হলিউড এবং বলিউডের সিনেমার সাথে সমান তালে এটি চলেছে। অন্যদিকে, জয়া আহসানের সাথেও আমার কথা হয়েছে। তার দেবী সিনেমাটাও যুক্তরাষ্ট্রে বেশ ভাল সাড়া পেয়েছে। সেখানে বলিউডের কয়েকটা ছবি সরিয়ে হলগুলোতে দেবী চালানো হয়েছে।

গত বিশ বছরে আমরা আপনার মতো জনপ্রিয় কোনও অভিনেতাকে পাইনি। অভিনেতারা কেন আপনার মতো জনপ্রিয় হতে কিংবা আপনার মতো দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে পারেন না?

শাকিব: ছোটবেলা থেকেই আমরা শাহরুখ খান, আমির খান আর সালমান খানকে দেখে আসছি। এমনকি এখনও তারা অপ্রতিরোধ্য তারকা। তাদের সবারই বয়স পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে। নতুন তারকারা তাদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেননি। আমার মনে হয় আগামী দশ বছরেও কেউ তাদের ছুঁতে পারবেন না। আমি মনে করি, ৪০-এর পরে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকলে অভিনেতারা সুপারস্টারের মর্যাদা পান। তারপরে তারা বয়োজ্যেষ্ঠ্য চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেন। ইন্ডাস্ট্রি বাঁচলে আমরা নতুন নতুন সুপারস্টার পাব। যেমন কলকাতার প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির কথাই ধরুন না। কলকাতার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি ব্যাপক প্রভাবশালী। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সুদিন ফেরাতে আমরাও একই ধারায় কাজ করার চেষ্টা করছি।

66
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail