• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ দুপুর

সাকিব বিন রশিদ: দর্শকের আবেগেকে মাথায় রেখেই ‘গেম অব থ্রোনস’-এর রিভিউগুলো করেছি

  • প্রকাশিত ০৮:৪৩ রাত মে ২৬, ২০১৯
সাকিব বিন রশিদ
সাকিব বিন রশিদঢাকা ট্রিবিউন

‘গেম অব থ্রোনস’ হাজারও রিভিউ'র ভিড়ে কিছুটা মজার ছলে ভিন্নধর্মী রিভিউ বানিয়েছেন অনলাইনে শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ‘টেন মিনিট স্কুলের’ চিফ ইন্সট্রাক্টর সাকিব বিন রশিদ।

সম্প্রতি শেষ হয়েছে এইচবিও টেলিভিশন চ্যানেলের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই টিভি সিরিজ নিয়ে দর্শকদের আকাঙ্খা-উৎকণ্ঠার কোনো কমতি ছিল না। এই টিভি সিরিজ নিয়ে হয়েছে অজস্র প্রিভিউ-রিভিউ। এসেছে হাজারও মতামত, দর্শকরা জানিয়েছেন তাদের ভালো লাগা-না লাগার কথা। তবে হাজারও রিভিউ'র ভিড়ে কিছুটা মজার ছলে ভিন্নধর্মী রিভিউ বানিয়েছেন অনলাইনে শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ‘টেন মিনিট স্কুলের’ চিফ ইন্সট্রাক্টর সাকিব বিন রশিদ। 

আঞ্চলিক ভাষার টানে সাকিবের করা রিভিউগুলো দর্শকরা বেশ পছন্দ করেছেন। ঢাকা ট্রিবিউন সাংবাদিক আহমেদ সার্জিন শরীফকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাকিব জানিয়েছেন এ রিভিউ নিয়ে বিভিন্ন খুঁটিনাটি।

ঢাকা ট্রিবিউন: ‘গেম অব থ্রোনস’ নিয়ে আপনার করা রিভিউগুলো একটু ব্যতিক্রমধর্মী হয়েছে। ঠিক কী কারণে এ ধরনের রিভিউ করতে উদ্বুদ্ধ হলেন?

সাকিব বিন রশিদ: ‘গেম অব থ্রোনস’ অনেক আগে থেকেই দেখি। একসময় এসে মনে হল, এটা নিয়ে কিছু কথা বলা উচিত। তবে আমার প্রথম রিভিউটা কিন্তু এতো পরিকল্পনা করে করিনি। একেবারে সাধারণ একটা আবেগ-উৎসাহ ছিল, ‘নাইট কিং’ মারা যাওয়ার পর সবাই খুব স্ট্যাটাস দিচ্ছিলো। তাই আমিও একটা রিঅ্যাকশন জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রথম রিভিউটা যখন সবাই খুব পছন্দ করলেন এবং দর্শকরা যখন এ ধরনের আরও ভিডিও পেতে চাইলেন, তখন ভাবলাম প্রত্যেকটা এপিসোডের প্রিভিউ-রিভিউ করা দরকার। তারপর থেকেই শুরু হয়ে গেল।

ঢাকা ট্রিবিউন: আপনি কি গেম অব থ্রোনসের বইগুলো পড়েছেন? 

সাকিব বিন রশিদ: নাহ্‌ বইগুলো পড়া হয়নি। আমি অত জ্ঞানী না (হাসি)।

ঢাকা ট্রিবিউন: তাহলে রিভিউগুলো কীসের ভিত্তিতে করা?

সাকিব বিন রশিদ: রিভিউগুলো করেছি শুধুমাত্র সিরিজের প্রত্যেকটা এপিসোড দেখে। প্রত্যেকটা এপিসোড দেখে। যেহেতু সর্বশেষ সিজন নিয়ে দর্শকদের মধ্যে অনেক ক্ষোভ ছিল। আমি দর্শকদের সেই আবেগের জায়গাটা ধরেই কথা বলার চেষ্টা করেছি। ক্যারেক্টারগুলোর বিরুদ্ধে, নাট্যকারদের বিরুদ্ধে সবার যে অভিযোগগুলো রয়েছে সেগুলোই আমার ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আর সেটা অবশ্যই একটা মজার ছলে।

ঢাকা ট্রিবিউন: একেকটা রিভিউ ভিডিও বানাতে আপনার কত সময় লেগেছে?

সাকিব বিন রশিদ: আমার ভিডিওগুলোর দৈর্ঘ্য দুই থেকে সাত মিনিটের মধ্যে। আমি মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় সেগুলোকে শ্যুট করেছি। আর এডিট করতে পনের থেকে ত্রিশ মিনিটের মতো লেগেছে। সব মিলিয়ে যা হয় আরকি...

ঢাকা ট্রিবিউন: রিভিউ ভিডিওতে আপনাকে ভিন্নরকম ভয়েস টোন এবং আঞ্চলিক টানে কথা বলতে দেখা গেছে। এর কারণ কী?

সাকিব বিন রশিদ: অনেক আগে থেকেই ওই আঞ্চলিক ভাষাটা আমরা বন্ধুদের আড্ডায় মজা করে প্র্যাকটিস করতাম। আমার নানাবাড়ি মাগুরায়। ওই অঞ্চলের ভাষার সঙ্গে আমার ভিডিওর ভাষার কিছুটা মিল আছে। আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, এভাবে কথা বলার মধ্যে একটা কৌতুকময় আবেদন আছে। আর যেহেতু দর্শকদের কথা মাথায় রেখে রিভিউ ভিডিওগুলো বানানো তাই একটু তাচ্ছিল্যের সুরে বলার চেষ্টা করেছি। এই তাচ্ছিল্যের সুরটা এই ভাষায় ভাল করে ফুটে ওঠে।

ঢাকা ট্রিবিউন: এই টিভি সিরিজে আপনার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র কে?

সাকিব বিন রশিদ: আরিয়া স্টার্ক।

ঢাকা ট্রিবিউন: শিগগিরই আর কোনো জনপ্রিয় সিরিজের রিভিউ করার পরিকল্পনা আছে?

সাকিব বিন রশিদ: সামনেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ আসছে। বিশ্বকাপ নিয়ে কিছু একটা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখনও পুরোটা গুছিয়ে উঠতে পারিনি। আর কিছু বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি সিনেমার রিভিউ করার ইচ্ছা আছে। দেখা যাক।

ঢাকা ট্রিবিউন: সর্বশেষ রিভিউতে আপনি ইয়াবা প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন এবং ‘ব্র্যান’-কে ‘ভণ্ড’, ‘প্রতারক’ বলেছেন। একটা জনপ্রিয় টিভি সিরিজের রিভিউ করার ক্ষেত্রে এ বিষয়টা একটু খামখেয়ালিপনা হয়ে গেল না?

সাকিব বিন রশিদ: আমার মনে হয় পুরো জিনিসটারই একটা এন্টারটেনমেন্ট ভ্যালু আছে। ‘গেম অব থ্রোনস’ কিন্তু সবসময় তাদের দৃশ্যগুলো সামাজিক দিক বিবেচনায় রেখে করে না। তারা অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক কিংবা নৈতিকভাবে অগ্রহনযোগ্য বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে। তাই আমার মনে হয় ‘গেম অব থ্রোনস’-এর যদি সেই স্বাধীনতা থেকে থাকে তবে রিভিউ করার ক্ষেত্রে আমারও তাদেরকে নিয়ে মজা করার স্বাধীনতা রয়েছে।

ঢাকা ট্রিবিউন: আপনি ব্র্যাকের হয়ে কাজ করছেন, যুক্ত আছেন অনলাইন শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম ‘টেন মিনিট স্কুল’-এর সঙ্গেও। সবশেষে ‘টেন মিনিট স্কুল’ সম্পর্কে আমাদেরকে যদি কিছু বলতেন...

সাকিব বিন রশিদ: আমি ২০১৫ সাল থেকে ‘টেন মিনিট স্কুল’-এর সঙ্গে আছি। বর্তমানে চিফ ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এখানে আমি ইংরেজি পড়াই, সাধারণ জ্ঞান পড়াই এবং মাঝে মাঝে বিতর্ক শেখাই। এছাড়া, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বেও কিছুটা জড়িত আছি। আশা করি এমন একদিন আসবে যখন ‘টেন মিনিট স্কুল’ শুধুমাত্র বাংলাদেশই না, সমগ্র বিশ্বের অন্যতম বড় অনলাইন এডুকেশন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে।