• শনিবার, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৪ সকাল

‘বেদের মেয়ে জোসনা’-কে নিয়ে বিজেপি-তৃণমূল দ্বন্দ্ব

  • প্রকাশিত ০৬:৪০ সন্ধ্যা জুন ১৫, ২০১৯
অঞ্জু ঘোষ
সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন অঞ্জু ঘোষ সংগৃহীত

অঞ্জু ঘোষ পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত৷ তিনি বিজেপিতে যোগদানের পরই সমালোচনা শুরু করে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস৷

‘বেদের মেয়ে জোসনা’ অঞ্জু ঘোষের নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে ভারতে৷ তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদানের জেরেই এই বিতর্ক৷ বিরোধীদের অভিযোগ, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক৷ তবে এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে ধরেছে বিজেপি৷

১৯৮৯ সালে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ছবিতে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি কার্যত স্মৃতির অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন৷ দীর্ঘদিন ধরে তিনি বসবাস করে আসছিলেন কলকাতার সল্ট লেক এলাকায়।

জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে যোগ দিয়েছেন অঞ্জু ঘোষ৷ এরপর কলকাতায় রাজ্য দপ্তরে তার হাতে পতাকা তুলে দেন বিজেপির প্রাদেশিক সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ তাকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনও করেন৷ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ভালো ফল করার পর তাদের পক্ষে যোগদানের ঢল নেমেছে৷ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষেরা যোগ দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদির দলে৷ সেই ধারাতেই অঞ্জুর যোগদান৷

উল্লেখ্য, অঞ্জু ঘোষ পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত৷ যদিও তিনি দীর্ঘদিন সল্টলেকে থাকেন৷ তিনি বিজেপিতে যোগদানের পরই সমালোচনা শুরু করে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস৷ 

তৃণমূলের দাবি, ভিনদেশের নাগরিককে দলে নিয়েছে বিজেপি৷ অঞ্জু ঘোষ বাংলাদেশের নাগরিক৷ তিনি বাংলাদেশি ছবিতে অভিনয় করেন, সেখানকার চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত৷ এমন ভিনদেশিকে দলে নেওয়া দেশবিরোধী কাজ৷ লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে একই অস্ত্রে তৃণমূলকে নিশানা করেছিল বিজেপি৷ তৃণমূলের প্রচারে দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তারকা ফেরদৌস ও গাজী আব্দুন নুরকে৷ সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপি ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ বাংলাদেশি অভিনেতাদের প্রচারের বিরুদ্ধে সরব হয়, নালিশ জানায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ৷ অন্য দেশের নাগরিক ভারতে এসে রাজনৈতিক প্রচারে অংশ নিতে পারেন না৷ এই দেশের রাজনৈতিক কার্যকলাপে তারাই অংশ নিতে পারেন, যারা সেখানকার নাগরিক৷ অভিযোগ আমলে নিয়ে দ্রুততার সাথে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই অভিনেতাকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয়৷

সেই ঘটনায় ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস৷ সেই অস্ত্রই তারা ব্যবহার করেছে বিজেপির বিরুদ্ধে৷ উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত একটি দলের কাছে বিষয়টি বেশ অস্বস্তিকর৷ তাই বিজেপি দ্রুত পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দেয়৷ 

জয়প্রকাশ মজুমদার অঞ্জু ঘোষের জন্মের শংসাপত্র, প্যান কার্ডের মতো নথি তুলে ধরে দাবি করেন, অভিনেত্রী ভারতীয়৷ তার বাবা সুধন্য ঘোষ বাংলাদেশের মানুষ হলেও মা বীণাপাণি ঘোষ কলকাতায় থাকেন৷ অঞ্জু নিজে সল্টলেকে থাকছেন দীর্ঘদিন ধরে৷ এ ছাড়া যার জন্মের শংসাপত্র, প্যান কার্ডের মতো সরকারি নথি রয়েছে, তাকে কীভাবে বিদেশি বলা যায়? 

এ বিষয়ে অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷

তবে বিজেপির ব্যাখ্যায় বিতর্ক থামছে না৷ কলকাতা পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের শংসাপত্র অনুযায়ী, শহরের একটি নার্সিংহোমে ১৯৬৬ সালে জন্ম তার৷ অথচ তার প্যান কার্ডে জন্মের সাল ১৯৬৭৷ জন্মের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে করা হয়েছে ২০০৩ সালে৷ তৃণমূলের প্রশ্ন, জন্মের তারিখে গরমিল রয়েছে কেন? কেনই বা জন্মের এত বছর পর কলকাতা পৌরসভা থেকে শংসাপত্র নেওয়া হয়েছে৷ এর অর্থ, অভিনেত্রী বাংলাদেশেই কাটিয়েছেন, সেখানেই তার যাবতীয় কাজকর্ম৷ (উইকিপিডিয়ায় অঞ্জু ঘোষের জন্মস্থান বাংলাদেশই আছে)। 

বিজেপি বিরোধীদের বক্তব্য, জাতীয় নাগরিকপঞ্জির মাধ্যমে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার ডাক দিয়েছে৷ বাংলাদেশিদের নিশানা করেই এই প্রচার বিজেপি চালিয়েছে লোকসভা নির্বাচনে৷ সেই দল বাংলাদেশের নাগরিককে কীভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করছে?

বিজেপি অবশ্য এর মধ্যে বিতর্কের কিছু দেখছে না৷ দলের নেতা রামকৃষ্ণ পাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বার্থ সার্টিফিকেট আর প্যান কার্ডে জন্মের তারিখ আলাদা বলে তিনি ভারতীয় নন, এই যুক্তি হাস্যকর৷ আমাদের আশপাশে এমন বহু মানুষ আছে, যাদের বিভিন্ন সরকারি পরিচয়পত্রে আলাদা আলাদা জন্মতারিখ লেখা আছে৷’’ 

তার মতে, ফেরদৌসদের সঙ্গে অঞ্জুর তুলনা করা অবান্তর৷ রামকৃষ্ণের বক্তব্য, ‘‘তারা বিখ্যাত বাংলাদেশি তারকা৷ সবার এটা জানা৷ অঞ্জু ঘোষ দীর্ঘদিন ভারতে থাকেন, এটা কি তৃণমূল জানে না?’’