• বুধবার, এপ্রিল ০৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৭ রাত

৫২ বছর বয়সেও একদম ফিট অক্ষয়!

  • প্রকাশিত ০৩:৩০ বিকেল ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
অক্ষয় কুমার
বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার। সংগৃহীত

পেশীযুক্ত শরীর বানাতে অধিকাংশ অভিনেতা যখন স্টেরয়েডের দিকে ঝুঁকে থাকেন, সেখানে কোনোরকম স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ না খেয়েও মেদমুক্ত স্বাস্থ্য ধরে রেখেছেন এই অভিনেতা

অক্ষয় কুমার এর জন্ম ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৬৭। তার প্রকৃত নাম রাজিব হরি ওম ভাটিয়া। তিনি প্রথম বলিউড অভিনেতা যার চলচ্চিত্রের সংগ্রহ ২০ বিলিয়ন রুপি ছাড়িয়ে যায় ২০১৩ সালে এবং ৩০ বিলিয়ন রুপি ছাড়িয়ে যায় ২০১৬ সালে। ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৮ সালে উইন্ডসর বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করে। ২০০৯ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত করে। ২০১১ সালে চলচ্চিত্র শিল্পে তার অনন্য অবদানের জন্য তিনি এশিয়ান অ্যাওয়ার্ডস থেকে সম্মাননা লাভ করেন।

৫২ বছর পূর্ণ করেছেন বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার কিন্তু তিনি এই বয়সেও পুরোপুরি ফিট। বয়সের ছাপ তার চোখে-মুখে বা স্বাস্থ্যে কোথাও এতটুকু পড়েনি। পেশীযুক্ত শরীর বানাতে অধিকাংশ অভিনেতা যখন স্টেরয়েডের দিকে ঝুঁকে থাকেন সেখানে কোনোরকম স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ না খেয়েও মেদমুক্ত স্বাস্থ্য ধরে রেখেছেন এই অভিনেতা।

জানা গেছে, এর সবটাই লুকিয়ে রয়েছে অক্ষয়ের ফিটনেস পরিকল্পনায়। অক্ষয়ের ডায়েট চার্টে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার দিক থেকে অক্ষয়ের দৈনন্দিন রুটিন অন্যান্য অভিনেতা-অভিনেত্রীর থেকে অনেকটাই আলাদা। এব্যাপারে অক্ষয় পুরোপুরি নিজের নিয়মে চলেন।

অক্ষয় খুব সরল জীবনযাপন করেন। রাত ৯টায় তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং রোজ ভোর সাড়ে চারটেয় উঠে পড়েন। ভোরে ঘুম থেকে উঠেই তিনি শরীরচর্চা শুরু করেন। ঘুম থেকে উঠে তার প্রথম কাজ হাঁটা। সব তারকাদেরই নির্দিষ্ট জিম ট্রেনার থাকে। অক্ষয়ের কিন্তু কোনো ট্রেনার নেই। জিমে অক্ষয় যান এবং নিজের ইচ্ছামতো শরীরচর্চা করেন। যেদিন যেটা করতে ইচ্ছা করে, সেদিন সেটাই করেন তিনি। তবে জিমে ওয়েট লিফ্টিং করেন না তিনি।

অক্ষয় মার্শাল আর্ট ও কিক বক্সিংয়ে প্রশিক্ষিত। নিয়মিত তা অনুশীলন করেন। এর বাইরে সারাদিন ধরেই তিনি অবসর সময়কে কাজে লাগান। কখনও হাঁটেন, কখনও দৌড়ান, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করেন। অনেকটা সময় শরীরচর্চা করার পর নিয়মিত যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন করেন। এনার্জি ও গতি বাড়ানোর জন্য সপ্তাহে তিনদিন নিয়ম করে বাস্কেট বল খেলেন। স্বাস্থ্য বজায় রাখতে কোনোরকম দোকানজাত সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করেন না খিলাড়ি। দোকানজাত প্রোটিন পাউডার, স্টেরয়েড একেবারেই খান না। এমনকি ওষুধের ওপরও নির্ভর করেন না তিনি। জ্বর-সর্দি-কাশির জন্য দোকান থেকে ওষুধ না কিনে ঔষধি গুণসমৃদ্ধ বিভিন্ন ভেষজ গাছ-পাতা খেয়ে ফেলেন।

এত গেল মূলত অক্ষয়ের শরীরচর্চার কথা। সারাদিন কী ধরনের খাবার তিনি খেয়ে থাকেন? চা, কফি, মদ, সিগারেট- এসবে একেবারে ছুঁয়েই দেখেন না অক্ষয়। প্রতি

রবিবার তার পছন্দের খাবার মিষ্টি আর সপ্তাহের বাকি দিনগুলো খুব পরিমিত খান।সন্ধ্যা ৭টায় ডিনার সেরে ফেলেন। আর রোজ ৯টায় ঘুমাতে যান। মাঝের এই দুঘণ্টা খাবার হজমের জন্য হালকা কিছু কাজ করেন।ব্রেকফাস্টে থাকে পরোটা, এক গ্লাস দুধ বা ফলের রস বা মিল্কশেকস্ আর ডিম। এর দুঘণ্টা পর তিনি তাজা ফল খান। নানারকম সবজি তার খুব পছন্দের, ড্রাই ফল খান। লাঞ্চে তিনি পছন্দ করেন ডাল, রুটি, সিদ্ধ চিকেন ও দই। রাতে সবচেয়ে হালকা খাবার খান তিনি। নানারকম সবজি দিয়ে স্যুপ ও স্যালাড। ব্যস এটুকু খেয়েই শুয়ে পড়েন। ইচ্ছা করলেও রাতে মিষ্টির দিকে তাকান না। ভাত খেলে শুধুমাত্র ব্রাউন রাইস খান তিনি। সারাদিনে আমলার রস, আখরোট এগুলোও খেয়ে থাকেন। প্রসেসড্ ফুড একেবারেই পছন্দ নয়।