• বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৩ রাত

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি'র আক্রমণের মুখে দীপিকা

  • প্রকাশিত ০৬:৫৫ সন্ধ্যা জানুয়ারী ৮, ২০২০
দীপিকা-জেএনইউ
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) নয়াদিল্লির জেএনইউ-তে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন দীপিকা পাড়ুকোন সংগৃহীত

এক বিজেপি নেতা বলেন, একজন অভিনেত্রীর অভিনেত্রীই হওয়া উচিত। দেখে মনে হচ্ছে তিনি রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র

ভারতের দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ক্যাম্পাসে গত রবিবার বিজেপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন “অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ”র (এবিভিপি) হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের সহমর্মিতা জানাতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় সেখানে যান বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে তাদের পাশে থাকার কথাও দিয়ে এসেছেন এই বলিউড তারকা। বিভিন্ন মহল থেকেও প্রশংসা পেলেও বিষয়টি রীতিমতো ক্ষুব্ধ করে তুলেছে ভারতের ক্ষমতাসীনদল বিজেপি'র নেতা-কর্মীদের। কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি দীপিকার সিনেমা বয়কটেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকেই একের পর এক বিজেপি নেতারা দীপিকার সমালোচনা করতে শুরু করেন।

দিল্লির বিজেপি নেতা তেজিন্দার বাগ্গা টুইটারে লিখেছেন, “আপজল গ্যাং ও টুকরে টুকরে গ্যাংকে সমর্থন করায় দীপিকা পাড়ুকোনের সিনেমা বয়কট করাই উচিৎ হবে।”

তার পরবর্তী সিনেমা “ছপাক”-ও বয়কট করার আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে অ্যাসিড আক্রান্ত নারীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন দীপিকা।

তেজিন্দার ছাড়াও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন একাধিক বিজেপি নেতা।

সাবেক বিজেপি মন্ত্রী শাহনেওয়াজ হোসেন বলেন, “দীপিকার উচিৎ ছিল প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জানা।” পাশাপাশি, বামপন্থী সংগঠনের প্রতি তার দেখানো সহানুভূতি ‘‘পক্ষপাতমূলক” আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

দীপিকার জেএনইউ সফরের সমালোচনা করে বিজেপি নেতা রাম কদম বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক এবং ওই জায়গায় তার জাতীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করে যাওয়া উচিত ছিল। 

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “একজন অভিনেত্রীর অভিনেত্রীই হওয়া উচিত। দেখে মনে হচ্ছে তিনি রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র।”

দীপিকা পাড়ুকোনের আসন্ন ছবি “ছপাক” বয়কটের ডাক দিয়ে দিল্লির বিজেপি নেতা রমেশ বিধুরি বলেন, যারা দেশের বিরুদ্ধে তাদের সঙ্গে না গিয়ে একজন বলিউড শিল্পীর উচিৎ সিনেমার মাধ্যমে দেশের যুব সম্প্রদায়কে “ইতিবাচক বার্তা” দেওয়া।  

তবে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকড় বলেন, “কোনো নাগরিক চাইলেই যেকোনো জায়গায় যেতে পারেন বা কোনো বিষয়ে মতামত দিতেই পারেন। এই ইস্যুতে কোনো আপত্তি নেই।”

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার জেএনইউ-তে গিয়ে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যেতেই চেয়েছিলেন দীপিকা। তবে সাংবাদিকদের অনুরোধে তিনি বলেন, সহানুভূতি প্রকাশ করতেই সেখানে তার যাওয়া। এবিভিপি'র হামলায় ঐশি ঘোষসহ আহত শিক্ষার্থীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোর ছবি প্রশংসিত হয় সর্বত্র।

নিজের পরবর্তী ছবি “ছপাক”-এর প্রচার করতে দিল্লিতে গিয়েছিলেন দীপিকা।