Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শুভ জন্ম সুরে বহমান রহমান

অনেক অভিধা তার নামের আগে। কেউ তাকে ডাকেন “ইসাই পুয়েল” নামে। কেউ তাকে ডাকেন “মোজার্ট অব মাদ্রাজ” নামে। শেষ পর্যন্ত এ. আর. রহমান (আল্লাহ রাখা রহমান) নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত তিনি

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২২, ০১:১৬ পিএম

অনেক অভিধা তার নামের আগে। কেউ তাকে ডাকেন “ইসাই পুয়েল” নামে। মালালায়াম ভাষায় যার অর্থ “সুরের ঝড়”। কেউ তাকে ডাকেন “মোজার্ট অব মাদ্রাজ” নামে। শেষ পর্যন্ত এ. আর. রহমান (আল্লাহ রাখা রহমান) নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত তিনি। আমাদের কালের এ সঙ্গীত মায়েস্ত্রোর জন্ম আজকের দিন ৬ জানুয়ারি ১৯৬৭ সালে।

শুভ জন্মদিন, এ. আর. রহমান!

সঙ্গীত জীবনের মতো তার ব্যক্তি জীবনও বিস্ময়কর। জন্মে ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারে। নাম রাখা হয় এস. দিলিপ কুমার (ধর্মান্তরের আগে)। বাবা আর. কে. শেখর ছিলেন তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গীত পরিচালক। তাই বলা যায় সঙ্গীতের আবহেই তার বেড়ে ওঠা। মাত্র ৪ বছর বয়েসে রহমান কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হারমোনিয়ামের রিড ঠিকমতো বাজাতে পারতেন। এর কয়েক বছরের মধ্যে কিবোর্ডে পারঙ্গম। বাবার সাথেই বাজাতেন। কিন্তু ৯ বছর বয়সেই পিতৃবিয়োগ। সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে মা কারিমা বেগম ও বড় পুত্র রহমানের ঘাড়ে। ঘরে থাকা কিবোর্ড ভাড়া দিয়ে রহমানদের সংসার চলতো। কিবোর্ডের সঙ্গে বাজাতে যেতেন তিনি নিজেও। অনেক অগ্রজ সঙ্গীতকারদের সঙ্গে জ্যামিং, রেকর্ডিং, কনসার্ট ও উপার্জন শুরু সে বয়সেই।

চেন্নাইয়ের পদ্ম সাদ্রি বালা ভবনের ছাত্র ছিলেন রহমান। কিন্তু পড়ায় মন ছিল না তার। তার ভাবনায় ছিল সঙ্গীত আর সংসার টানার অপরিহার্য মুদ্রা। ক্লাস ও পরীক্ষায় অনিয়মিত ছিলেন তিনি। পরে তাকে ভর্তি করানো হয় মাদ্রাজ ক্রিশ্চিয়ান কলেজ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে। সেখানে পড়ার চেয়ে বেশি ভালো লাগে প্রার্থনা সঙ্গীত। এখানে তার প্রাথমিক সঙ্গীত প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। সহপাঠীদের নিয়ে গড়ে তোলেন ব্যান্ড “রুটস”। রহমান এ ব্যান্ডে কিবোর্ড বাজাতেন। ধরাবাঁধা পড়াশোনায় ধাতস্থ হয়ে পারেননি তিনি। এক সময় মা বলে দেন, “তুই মিউজিকই কর বাবা!”

আনুষ্ঠানিক পড়াশোনার সমাপ্তি ঘটে রহমানের। যদিও এর বেশ পরে লন্ডনের ট্রিনিট্রি কলেজ অব মিউজিক থেকে পশ্চিমা ধ্রুপদী সঙ্গীতের ওপর স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।

“রুটস” এ সহশিল্পী হিসেবে পান শিভামনি, জন অ্যান্থেনি, সুরেশ পিটার আর জোজো’কে। যে শৈশবের বন্ধুরা আজ পর্যন্ত রহমানকে ঘিরে আছেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে জড়িয়ে পড়েন রহমান। সহকারী সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন এম কে আর্জনান, এম এস বিশ্বনাথ, বিজয় ভাস্কর, মায়েস্ত্রো ইলাইরাজা’র (রজনীকান্তের চেয়ে কিন্তু তিনি কম জনপ্রিয় নন দক্ষিণে) সঙ্গে। সঙ্গীতের নেশা রহমানকে ছাড়ে না। কৈশোরেই ওস্তাদ জাকির হোসেনের সঙ্গে বিশ্ব ভ্রমণে বেড়িয়ে পড়েন।

১৯৮৪ সালে রহমানের ছোটবোন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনো ডাক্তার, চিকিৎসায় কাজ হচ্ছিল না। অন্য কোনো উপায় না দেখে মা কারিমা বেগম যান এক মুসলিম পীরের কাছে। বহু বিশ্বাসের ধারক ভারতবর্ষে যা খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা। তার পথ্যে সুস্থ হন বোন। সে বছরই কাদেরিয়া তরিকায় বিশ্বাস স্থাপন করেন রহমান। মা কারিমা বেগম তখনও ছিলেন সনাতন ধর্মের উপাসক। ২৩ বছর বয়সে সপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। নাম বদলে তখন থেকে এ. আর. রহমান।

রহমান সম্পর্কে নানা আলোচনায় এই ধর্মান্তর খুব গুরুত্ব পায়। যদিও তিনি নিজে বিষয়টিকে এভাবে দেখেন না। অনেক সাক্ষাৎকারে একে বলেছেন, “সুফিবাদের গভীরে যাওয়ার চেষ্টা হিসেবে।”

১৯৮৭ সাল থেকে তামিল সঙ্গীত আঙিনায় নিজেকে সুস্পষ্ট করেন রহমান। বিজ্ঞাপন চিত্রের জিঙ্গেলে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। ৯০ এর দশকের আগেই কাজ করেন টাইটান, পেপসির মতো ব্র্যান্ডের সাথে। টিভি প্রোডাকশন ও ডকুমেন্টারির নেপথ্য সঙ্গীত নিয়েও ছিলেন প্রাণান্ত।

১৯৯২ সালে নিজ বাড়ির আঙিনায় রহমান স্থাপন করেন তার স্বপ্নের স্টুডিও, “পঞ্চতান রেকর্ডস ইন” যার নাম। এশিয়ার সেরা স্টুডিও হিসেবে যেটি বিবেচিত হয় সঙ্গীত মহলে। সে বছরই এককভাবে সঙ্গীত পরিচালনা করার সুযোগ আসে তার। দক্ষিণের আরেক গর্বের নির্মাতা মনি রত্মম ছিলেন যে “রোজা” ছবির পরিচালক। বলিউড প্রথমবারের মতো টের পায় দক্ষিণ ঝড়ের মর্মার্থ। জীবনের প্রথম ছবির জন্যই রহমান অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। মনি রত্নমের পরের ছবি “বোম্বে”র জন্য পুরস্কার জেতেন রহমান। ১৫ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিলো “বোম্বে”র মিউজিক ক্যাসেট। যা ছিল সে সময়ের রেকর্ড।

এরপর একে একে রঙ্গিলা, দিল সে, তাল...। সে তালিকা কম দীর্ঘ নয়। অবারিত হয় বলিউড। নাকি বলিউড নত হয় এ দক্ষিণ প্রতিভার সামনে? রহমান কমই যান তার বোম্বের স্টুডিওতে। পঞ্চতানেই আসতে হয় সব বলিউড নক্ষত্রদের। হিন্দি ভাষায় কথাও বলেন না রহমান। গান বানাতে পারেন, গাইতে পারেন হিন্দিতে। কিন্তু রহমানের কোনো হিন্দি সাক্ষাৎকার আজ পর্যন্ত কেউ দেখেননি। কিন্তু নিজের ভারতীয় স্বত্বা প্রকাশে কোনো দ্বিধা নেই তার। ১৯৯৭ সালে এর প্রমাণ রাখে “বন্দে মাতরম” এ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারত যেন অসামান্য এক জাতীয় সঙ্গীত পায়।

সঙ্গীতে কোনো সীমানা মানেননি রহমান। কৈশোরেই যে চোখ বিশ্ব দেখে আসা। ভারতে স্বীকৃতির পর ইন্টারন্যাশনাল ভেঞ্চারে পা রাখেন তিনি। তার বোম্বে থিম ব্যবহৃত হয় ভিন্ন ধরনের নির্মাতা দীপা মেহতার “ফায়ার” এ। এটি আরও ব্যবহৃত হয় ২০০২ সালের ফিলিস্তিনি ছবি “ডিভাইন ইন্টারভেনশন” এ। হলিউড কাঁপানো ছবি “লর্ড অব ওয়ার” এও এটি ব্যবহৃত হয়েছে।

২০০০ সালে পর রহমানের বিশ্ব জয়ের যাত্রা। প্রথমে আরও সুসজ্জিত করেন নিজের স্টুডিও। চেন্নাইয়ের কাদামবাক্কামে স্থাপন করেন নতুন স্টুডিও, “এম এম স্টুডিও” যার নাম। এটিও সঙ্গীত প্রকৌশলের দিক থেকে এশিয়ার সেরা স্টুডিও হিসেবে গ্রাহ্য হয়। নিজের অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কেএম রেকর্ডের যাত্রাও সে বছর।

২০০২ সালে চীন ও জাপানের ধ্রুপদী আবহে পরিচালনা করেন ম্যান্ডারিন ভাষার ছবি “ওয়ারিয়র অফ হেভেন এন্ড আর্থ” এর সঙ্গীত। এরপর একের পর ভিন দেশি ছবির মিউজিকে রহমান। সঙ্গীত পরিচালনা করেন- এলিজাবেথ: দ্যা গোল্ডেন এজ, অ্যাক্সিডেন্টাল হাজবেন্ড, ইনসাইড ম্যান- এর মতো অনেক ছবির।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সঙ্গীত পরিচালকের পুরস্কার ওঠে এ. আর. রহমানের হাতে। কিন্তু জোটেনা অস্কার। যে পশ্চিমা অ্যাকাডেমী এতই বর্ণবাদী ও নাক উঁচু রক্তের যেখানে সত্যজিৎ রায় স্বীকৃতি পান জীবন সায়াহ্নে। জারি থাকা নিপীড়নের ইতিহাস বললে লেখা দীর্ঘ হতেই থাকবে। তাই বরং বাদ থাক।

এ. আর. রহমান থামেন না এসবে। ২০০৮ সালে আসে সেক্ষণ। ড্যানি বয়েলের “স্ল্যামডগ মিলিয়নিয়র” এর জন্য অ্যাকাডেমী পুরস্কার অর্জন করে তিনি। “জয় হো” হয়ে ওঠে পুরো বিশ্বের জাতীয় সঙ্গীত। একই জুটি পরে তৈরি করে “ওয়ান হান্ড্রেড টোয়েন্টি আওয়ার্স” ছবি। এতে সঙ্গীত পরিচালনা করে যথারীতি প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হন রহমান।

২০১০ সালে অনেকগুলো ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেন রহমান। এর মধ্যে ছিল ইমতিয়াজ আলীর “রকস্টার”। যার “কুন ফায়া কুন” গানে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত শব্দ নতুন যোজনা পায় বলিউড সঙ্গীতে। সুফি সঙ্গীত হিসেবেও এটি শ্রোতা প্রিয়তা পায়। ২০১২ সালে মার্কিন ছবি “পিপল লাইক আজ” এ সঙ্গীত পরিচালনা করেন রহমান।

২০১৪ সাল ছিল রহমানের জীবনের ব্যস্ততম বছর। সে বার বিভিন্ন ভাষার ১২ টি ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল দুটি বলিউড ভেঞ্চার “মিলিয়র ডলার আর্ম” ও “ওয়ান হানড্রেড ফুট জার্নি”। সঙ্গীত পরিচালনায় অ্যাকাডেমী অ্যাওয়ার্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল ছবি দুটি। ২০১৫ সালে মজিদ মাজেদি পরিচালিত “মুহাম্মদ দ্যা মেসেঞ্জার অব গড” ছবির সঙ্গীত আয়োজন করেন এ. আর. রহমান। এটিও নন্দিত হয় তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসেবে।

শুধু টেকনো স্টুডিওতে অ্যাপল সমৃদ্ধ মিক্সিং মাস্টার নন রহমান। মাঠ মাতানোর কায়দাও তিনি জানেন। কনসার্টে রহমান তাই যেন আরেক ভিন্ন স্বত্বা। বিশ্বের খুব কম বড় শহর আছে যেখানে রহমান কনসার্ট করেননি। কানাডার একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে তার নামে। পারফর্ম করেছেন নোবেল পুরস্কার অ্যাওয়ার্ড ও বিশ্ব সুফিজম ফেস্টিভ্যালের মতো শীর্ষ আসরে।

সঙ্গীতে যেন তৃষ্ণা মেটে না রহমানের। প্রয়াত বরেণ্য সুফি সঙ্গীতকার নুসরাত ফতেহ আলী খানের সঙ্গে কাজ করেছেন। বৈরী সম্পর্কের পাকিস্তানে যার বাস ছিল। কাঁটাতারের সীমান্তের চেয়ে সঙ্গীত বিনিময় ভাবনায় রত থাকেন এই এ. আর. রহমান।

মিক জ্যাগার, ডেমিয়েন মার্লিদের নিয়ে গড়া ব্যান্ড সুপারহেভিতে তিনি সক্রিয়। গান গেয়েছেন কোল্ডপ্লে, পুসিক্যাট গার্লের সাথেও। ২০২০ সালে ইউটু'র সঙ্গে মিলে কম্পোজ করেছেন আহিমষা (অহিংসা) নামের গানটি।

বলিউডে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন বরেণ্য জাভেদ আখতার, গুলজার, ইরশাদ কামিল এর মতো গীতিকবির সঙ্গে।

প্রতি মুহূর্তেই নতুন কিছু খোঁজা তরুণ প্রতিভাবানদের জন্য দ্বার খেলা রহমানের। সে তিনি গীতিকার, সুরকার, বাজনাদার, ছবি নির্মাতা যিনিই হন না কেন। পটেনশিয়ালিটি দেখলেই রহমান বিনিয়োগ করেন তার সঙ্গীত, শ্রম, সময় ও অর্থ।

এ. আর. রহমান চলচ্চিত্র প্রযোজক ও নির্মাতা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন। ২০১৭ সালে “লি মাস্ক” নামে একটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ছবি নির্মাণ করেন তিনি। ছবি প্রযোজনার জন্য স্থাপন করেছেন ওয়াইএম প্রোডাকশন হাউজ।

স্ত্রী সায়রা বানু, মেয়ে খাতিজা, রাহিমা আর ছেলে আমিনকে নিয়ে এ. আর. রহমানের সংসার। দুই মেয়ে আর ছেলেও হাঁটছে বাপ, দাদার পথে। তারাও গান কম্পোজ করছে, লিখছে, গাইছে। সংগীতময় রক্তের ধারা তো এমনই হবার কথা। রঙিন গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রিতে থেকেও আজ পর্যন্ত কোনো স্ক্যান্ডাল রটেনি এই পরিবারকে নিয়ে।

রহমানের ঝুলিতে পুরস্কারে সংখ্যা অজস্র। আজ ৫৫ বছরে পা রাখা রহমান অর্জন করেছেন ভারতের বেসামরিক সম্মাননা পুরস্কার “পদ্মভূষণ”। ২০১০ সালে এ সম্মানে ভূষিত হন তিনি। ছয়টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আছে তার। দুইটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড, দুটি গ্রামি অ্যাওয়ার্ড, একটি বাফটা অ্যাওয়ার্ড এবং একটি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন তিনি। ১৫ টি ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন তিনি। ১৬ টি ফিল্ম ফেয়ার সাউথ অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন তিনি। ২০০৯ সালে বিশ্বের প্রভাব রাখা ব্যক্তিদের টাইম ম্যাগাজিনের তালিকায় তার নাম আসে।

গান বাজনা করে পয়সা কামানো লোক অনেকেই আছেন হয়তো। কিন্তু রহমান এদের সবার চেয়ে অনন্য। কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন তিনি। চেন্নাইয়ে তার গড়া কেএম কনজারভেটরি হয়ে উঠছে বিশ্ব সঙ্গীত দুনিয়ার অমূল্য সম্পদ। সেখানে সঙ্গীত বিষয়ে পাঠ দেয়া হয়। এখান থেকে তৈরি হয় অ্যাকুইস্টিক যন্ত্র শিল্পী, কম্পোজার ও গীতিকার। নিজের দারিদ্রের ছোটবেলা ভুলে যাননি রহমান। দরিদ্র শিশুদের জন্য তৈরি করেছেন সানসাইন অক্ট্রেস্ট্রা। “কুতুব এ কৃপা” নামের চেন্নাইভিত্তিক কম্পোজার দলের সংগঠক এ. আর. রহমান। ভারত থেকে ভিন্ন ভাষার সঙ্গীতকারদের জন্য তার আরেক সৃষ্টি “নেক্সা মিউজিক”। আগামীর বিলবোর্ড, টপ চার্ট মাতানো তারকরা আসবেন এখান থেকেই।

যাদের মনে সন্দেহ নেই, সঙ্গীতই বেদনার শ্রেষ্ঠ নিরাময়ক; তাদের রহমানের সঙ্গীতের কাছে ফিরতেই হয়। রহম্যানিয়াক হয়ে তারা বেঁচে থাকেন। এক সাক্ষাৎকারে এ. আর. রহমান বলেছিলেন, “তুমি যদি রাজা হতে চাও। তবে এখন থেকে যাপন করো প্রজার জীবন। আগামীকালের জন্য তা ফেলে রেখ না।” জীবনের বহু পর্বের আঘাত থেকেই শ্রমনিষ্ঠ এ শিক্ষা পেয়েছেন তিনি। তাই শুধু সঙ্গীত নয়, সৃষ্টিশীলতার যে কোনো মাধ্যমে অনুসরণকারী এক চরিত্র এ. আর. রহমান। এমন উল্লাস স্রষ্টার দীর্ঘ জীবনই হোক প্রতি মুহূর্তের প্রার্থনা।


ফ্রিল্যান্স লেখক ও সাংবাদিক হাসান শাওনের জন্ম, বেড়ে ওঠা রাজধানীর মিরপুরে। পড়াশোনা করেছেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বাঙলা কলেজ, বাংলাদেশ সিনেমা ও টেলিভিশন ইনিস্টিটিউটে। ২০০৫ সাল থেকে তিনি লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। কাজ করেছেন সমকাল, বণিক বার্তা, ক্যানভাস ম্যাগাজিন ও আজকের পত্রিকায়।

২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর হাসান শাওনের প্রথম বই “হুমায়ূনকে নিয়ে” প্রকাশিত হয়।


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখার জন্য ঢাকা ট্রিবিউন কোনো ধরনের দায় নেবে না।

About

Popular Links