Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পদ্মা সেতু নিয়ে পদ্মার ওপারের তারকাদের ভাবনা

বাংলাদেশের নাটক, চলচ্চিত্র, সংগীত ও খেলাধুলার অঙ্গনের অনেকেই বড় আশা নিয়ে সেতুর উদ্বোধনের অপেক্ষায়

আপডেট : ২৪ জুন ২০২২, ০৬:১১ পিএম

পদ্মা সেতুর স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। আগামীকাল (২৫ জুন) এর উদ্বোধন হবে। বাংলাদেশের নাটক, চলচ্চিত্র, সংগীত ও খেলাধুলার অঙ্গনের অনেকেই বড় আশা নিয়ে সেতুর উদ্বোধনের অপেক্ষায়।

বাংলাদেশের নাটক কিংবা চলচ্চিত্রের শুটিংস্পট এক অর্থে পুরোপুরি ঢাকাকেন্দ্রিক। সবই হয়ে থাকে ঢাকার আশেপাশে কিংবা ঢাকার ভেতরে উত্তরার বিভিন্ন বাড়িতে। ঢাকার আশেপাশে বলতে ঘুরেফিরে মানিকগঞ্জ কিংবা পূবাইল। ঢাকার বাইরের স্পটের ক্ষেত্রে সাধারণত বেছে নেওয়া হয় কক্সবাজার। পদ্মা সেতু হওয়ায় শুটিং লোকেশনে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


অভিনেতা মীর সাব্বির/ ডয়চে ভেলে


অভিনেতা-নির্মাতা মীর সাব্বিরের বিশ্বাস, “পদ্মা সেতুর সুবাদে বাংলাদেশের নাটক-চলচ্চিত্র আর এত বেশি ঢাকাকেন্দ্রিক থাকবে না। দুটি শিল্পেরই পরিসর আরও বড় হবে। তাতে আমরা যেমন উপকৃত হবো, তেমনি যারা আমাদের কাজ দেখেন সেই দর্শকদের মধ্যেও এটি চমৎকারভাবে ছড়িয়ে যাবে।”

নাটক-চলচ্চিত্রে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন মনোরম জায়গা তুলে ধরা হলে পর্যটনেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন মীর সাব্বির। তার কথায়, “কৈশোরে বড় পর্দায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখে মনে হতো, যদি সেখানে যেতে পারতাম! আমি মনে করি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যদি আমরা নাটক ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারি, তাহলে সাধারণ মানুষ সেসব জায়গায় যেতে উদ্বুদ্ধ হবে। আমার ‘রাত জাগা ফুল’ ছবির সম্পূর্ণ শুটিং বরিশালে করেছি। ছবিটিতে এসব সুন্দর লোকেশন দেখে অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। দক্ষিণবঙ্গে এমন আরও অনেক দারুণ জায়গা আছে। সেসব স্পটে শুটিং করতে পদ্মা সেতু অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে।”

ছোট পর্দার অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ স্বীকার করলেন, “সত্যি কথা বলতে, লঞ্চে যাতায়াত করতে হবে বলে দক্ষিণাঞ্চলে গিয়ে কাজ করা হতো না। পদ্মা সেতুর ফলে এখন প্রচুর শুটিং হবে ওইদিকে।”


ছোট পর্দার অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ/ ডয়চে ভেলে


চলচ্চিত্র অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর দৃষ্টিতে, “পদ্মা সেতুর মাধ্যমে শুটিংয়ের জন্য নতুন লোকেশন পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে এটি আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পকে অনুপ্রেরণাও জোগাবে।”

ছোট পর্দার এই প্রজন্মের অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব বলেন, “শুটিংয়ের জন্য আমাদের অনেক লোকেশনে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলে পুরো ইউনিট নিয়ে যাওয়া অনেক খরচের ব্যাপার। এ কারণে কেউ সেই চিন্তাই করতো না। ২৫ জুন থেকে ৩০ জুন আমার একটি নাটকের শুটিং হওয়ার কথা ভোলায়। কিন্তু পরিচালক বারবার ভাবছিলেন, ৬০-৭০ জন মানুষ নিয়ে ভোলা পর্যন্ত যাওয়া অনেক ব্যয়বহুল। তবে পদ্মা সেতু হওয়ায় ইউনিটের মাইক্রোবাস ব্যবহার করে ভোলা চলে যেতে পারবো। এভাবে আমাদের জন্য বিভিন্ন লোকেশনে যাওয়া এখন থেকে সহজ হবে।”

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রগ্রাহক নিয়াজ মাহবুব জানালেন, পদ্মার ওপারে কিছু জায়গাকে শুটিং স্পটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন অনেকে। তার মতে, “এখন অনেক সুন্দরভাবে শুটিং করা যাবে। পূবাইল আর মানিকগঞ্জ ছাড়া কিন্তু আমাদের সেভাবে শুটিং স্পট নেই। শরীয়তপুর ও বরিশালে আমার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে, তারা ইতোমধ্যে শুটিং স্পট বানানোর চিন্তা-ভাবনা করেছে।”


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রগ্রাহক নিয়াজ মাহবুব/ ডয়চে ভেলে


সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানের আশা, পদ্মা সেতুর সুবাদে কনসার্টের সংখ্যা বাড়বে। তার মতে, “যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো এখন। দক্ষিণবঙ্গে অনেকে গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। ২৫ জুন থেকে পদ্মার ওপারে আমার কয়েকটি কনসার্ট শুরু হবে। মাদারীপুরের শিবচর থেকে শুরু করবো। তারপর খুলনায় শো আছে। বলা যায়, পদ্মা সেতু সংগীতশিল্পীদের জন্য একটি নতুন ডানা।”

পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সংগীতাঙ্গনের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। বেশ কয়েকটি নতুন গান তৈরি হয়েছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পীদের জন্য এ যেন অন্যরকম এক উৎসব।

শোবিজ ও ক্রিকেট তারকাদের চোখে পদ্মা সেতু সারাদেশের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের সংযোগ ঘটিয়ে অনেক সময় বাঁচিয়ে দেবে। ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচও কমবে।

নিয়াজ মাহবুব নিজের পরিচালিত নাটকের শুটিং বরাবরই দক্ষিণাঞ্চলে করে থাকেন। এর মধ্যে অন্যতম বরিশাল ও শরীয়তপুর। বর্তমানে বিটিভিতে প্রচার হতে থাকা ১০ পর্বের ধারাবাহিক নাটক “দশ দিগন্ত”র শুটিং শরীয়তপুরে করেছেন তিনি। তখন বিভিন্ন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল তাকে।

তিনি বলেন, “এতদিন কখনো লঞ্চ, কখনো ফেরি, আবার কখনো গাড়ি বা মোটরসাইকেলে করে যাতায়াত করতে হয়েছে। পদ্মা সেতু হওয়ায় এখন ঢাকা থেকে একটি গাড়ি নিয়ে সরাসরি লোকেশনে পৌঁছে যেতে পারবো। দক্ষিণবঙ্গে খুব ভালো কিছু লোকেশন আছে। এগুলো ভালোভাবে ব্যবহার করা যাবে। পদ্মা সেতুর ফলে দক্ষিণাঞ্চলে শুটিংয়ের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে।”

“রাত জাগা ফুল” ছবির শুটিংয়ের সময়কার ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন মীর সাব্বির। তিনি বলেন, “অনেক মানুষ নিয়ে বরিশালে যাওয়া অনেক কষ্টের ছিল। দলবল নিয়ে আরিচা দিয়ে যাওয়া-আসায় ১৪-১৫ ঘণ্টা লেগেছে শুধু বাসে। তারপর ধরুন খরচ। এছাড়া লঞ্চে ইউনিটের একাংশ গেছে। এসব বিষয় এখন একমুখী আর ছোট পরিসরে হয়ে যাবে। খুব কম খরচে আমরা বরিশাল যেতে পারবো। আগের তুলনায় যাতায়াত ব্যবস্থার খরচ ধরলে সেটি ৫০%-এর কমে আসবে।”

নিয়াজ মাহবুব বলেন, “আগে ফেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো। এখন চাইলে শিল্পী-কুশলীরা দিনে গিয়ে শুটিং করে দিনেই ফিরে আসতে পারবেন।”

পিরোজপুরের মেয়ে নাদিয়া আহমেদ বলেন, “এখন আমরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় অনেক দ্রুত যেতে পারবো। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের আর ফেরি পার হওয়ার দরকার নেই। যদিও লঞ্চযাত্রা বেশ আনন্দময়। কিন্তু এখন খুব কম সময়ে পিরোজপুর ও খুলনাবাসী যাতায়াত করতে পারবে, যা আগে চিন্তাই করা যেতো না।”


অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব/ ডয়চে ভেলে


তৌসিফ মাহবুবের গ্রামের বাড়ি ভোলায়। তিনি কখনো কল্পনা করেননি ভোলায় গাড়িতে চড়ে যেতে পারবেন! পদ্মা সেতু হওয়ার আগে বরিশাল পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে ফেরিতে করে ভোলা যেতে হতো তাকে। এখন আর সেই বাড়তি ঝক্কি নেই। বরিশাল পর্যন্ত যেতে আগে ২৫০ থেকে ২৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। এখন সরাসরি গেলে ১০০ থেকে বড়জোর ১৪০ কিলোমিটার রাস্তা পেরোলেই চলবে।

তৌসিফের ভাবনায়, “তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে পারবো। এখন শুধু বরিশাল থেকে ভোলা পর্যন্ত ফেরি পার হওয়া লাগবে। এতে খরচ অনেক কমবে। অনেক সময়ও বাঁচবে। মোট কথা, আগে ভোলায় যেতে ভাবতে হতো- অর্ধেক দিন লাগবে। এখন আর সেই দুশ্চিন্তা নেই। এখন খুব সকালে রওনা দিলে হয়তো গ্রামে গিয়ে নাশতা করাও সম্ভব।”

ক্রিকেটার কামরুল ইসলাম রাব্বি যখন প্র্যাকটিসের জন্য ঢাকার বিভিন্ন অ্যাকাডেমিতে যাওয়া-আসা করতেন, তখনকার দিনগুলো যেন তার কাছে বিভীষিকা!

তিনি বলেন, “বরিশালে তখন বিমানবন্দর ছিল না। আমাদের সঙ্গে থাকা বড় বড় ব্যাগ নিয়ে লঞ্চে ওঠা খুব কষ্টের ছিল। ফেরির দুশ্চিন্তায় গত কয়েকটা কোরবানি ঈদে বাড়িতে যাওয়া হয়নি। কীভাবে যাবো? একটাই চিন্তা ছিল– লঞ্চঘাটের প্রচণ্ড ভোগান্তি। গাড়ি দিয়ে গেলেও ফেরির জন্য বিশাল লাইন থাকতো। আমাদের নাইনটিন অ্যাকাডেমি ঈদের দুই-তিন দিন আগে ছুটি হতো। এরপর ফের শুরু হতো ঈদের দুই-তিন দিন পর। ওই সময়টা আমাদের জন্য খুবই কঠিন ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “বড় বড় ট্রলি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা ছিল সীমাহীন দুর্ভোগের। কারণ, তখন লঞ্চের দরজার সামনেও যাত্রীরা বসে থাকতো। এসব ঝক্কি থেকে এখন রেহাই পাবো। কিছু সড়ক হয়ে গেলে সকালে নাশতা করে রওনা দিলে দুপুরে গিয়ে বরিশাল পৌঁছে যাবো। এখন ঈদের দিন যদি গ্রামে যেতে চাই তাহলে নামাজ পড়ে রওনা দিলেও দুপুরে বরিশাল গিয়ে ভাত খাওয়া যাবে। আগে কিন্তু এটা কল্পনাও করা যেতো না।”

সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানের আশা, “এখন আমার নিজের গ্রামের বাড়ি যেতে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগবে। অথচ আগে লাগতো ৯ ঘণ্টা। আমি এখন ইচ্ছে হলেই গ্রামে চলে যেতে পারবো। আগে ইচ্ছে থাকলেও শরীর চাইতো না। শরীর চাইলেও সময় হতো না। বিশেষ করে ফেরির ঝক্কি মেনে নেওয়া কষ্টকর ছিল।”


মডেল ও অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী/ ডয়চে ভেলে


মীর সাব্বির স্মৃতি হাতড়ে জানালেন, বরগুনার গ্রামের বাড়ি থেকে লঞ্চে চড়ে প্রথমবার ঢাকায় আসতে তার দেড় দিন লেগেছিল। তিনি এখন ভাবছেন, “পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে বরগুনা চলে যেতে পারবো পাঁচ-ছয় ঘণ্টার মধ্যে। এটি আমার কাছে খুব অবিশ্বাস্য লাগে। পদ্মা সেতু আমাদের বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠির জন্য একটি বিস্ময়।”

জাতীয় দলের সাবেক বাঁহাতি ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস মনে করেন, “অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড” ও “অফিসিয়াল কার্যক্রম” সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পদ্মা সেতু ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। তার বিশ্বাস, “লঞ্চ বা নৌ-পথে যাত্রার আবেদন কমবে না। কিন্তু দিনে দিনে দরকারি কাজ সম্পন্ন করতে বরিশাল, পিরোজপুর, খুলনাসহ দক্ষিণবঙ্গের যেকোনো জেলায় যাতায়াত সহজ হবে। দক্ষিণবঙ্গ কৃষিপ্রধান। আগে মাছ ও ফসল ঢাকায় আসতে যতক্ষণ লাগতো, সেই সময় অর্ধেক করে দেবে পদ্মা সেতু। দক্ষিণবঙ্গের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক শক্তিশালী ও চাঙা হবে।”

পদ্মা সেতু হওয়ার আগে দক্ষিণবঙ্গে যাতায়াত ছিল অনেক সময়সাপেক্ষ ও কষ্টের। ফেরির বিড়ম্বনার কারণে ওই অঞ্চলে এখনো কোনো কনসার্ট করেননি সংগীত শিল্পী খালিদ হাসান মিলুর ছেলে প্রতীক। তার মন্তব্য, “সবচেয়ে বড় কষ্ট ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরিঘাটে বসে থাকা। আমার দাদি যেদিন মারা গিয়েছিলেন সেদিন তাকে শেষবার দেখতে ৯ ঘণ্টা পর যেতে হয়েছিল। এটি আমার কাছে সবচেয়ে বড় কষ্টের ঘটনা।”

পটুয়াখালীর ছেলে কামরুল ইসলাম রাব্বি টেনে আনলেন ডানহাতি স্পিনার সোহাগ গাজীর বাবার মৃত্যুর প্রসঙ্গ, “আঙ্কেলের হার্টের সমস্যা দেখা দেওয়ায় বরিশালে আনা হয়। কিন্তু সোহাগ গাজী ঢাকা নিয়ে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি। কারণ, সে জানতো ঢাকায় আনার জন্য পুরো একটা দিন লাগবে। আর লঞ্চে তো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। দক্ষিণাঞ্চলের প্রচুর মানুষ কিন্তু ফেরিতেই মারা গেছে। আমারও এক আত্মীয়ের মৃত্যু হয়েছে ফেরিতে। দেখা গেল–অসুস্থ রোগী নিয়ে রওনা দিয়ে ফেরিতে ওঠার জন্য অপেক্ষা, এরপর আবার ফেরিতে উঠে পার হওয়ার অপেক্ষা- সবকিছু মিলিয়ে যত সময় ব্যয় হতো তাতে কিন্তু অনেকে লঞ্চেই প্রাণ হারিয়েছেন। ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষকেই এমন দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।”

মীর সাব্বিরের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও এমন ঘটনা আছে, “আমার আত্মীয়-স্বজনরা বরিশাল ও বরগুনায় থাকে। তাদের ঢাকায় আসতে হলে লঞ্চ, নয়তো আরিচা বা মাওয়া দিয়ে আসতে হতো। আগে আমাদের ফেরিতে লাগতো দুই ঘণ্টার ওপরে। আমাদের আত্মীয়-স্বজন যারা অসুস্থ হতেন, তাদের অনেক সমস্যা হতো। ফেরিতে বিলম্বের কারণে আপনজনের মারা যাওয়ার ঘটনাও আমাদের মধ্যে আছে।”

“মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-২০১৮” জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী পিরোজপুরে মেয়ে। তার কাছে আগে বাড়িতে যাওয়া ছিল বেশ ঝক্কির। লঞ্চ, যাতায়াত আনন্দের হলেও পরে বাস পাল্টাতে হতো। সাম্প্রতিক সময়ে এমনও হয়েছে যে, ফেরির জন্য ১২-১৩ ঘণ্টা অপেক্ষায় ছিলেন।

“ফেরির ভয়ে বছরের পর বছর বাড়ি যাওয়া হয়নি। এমনও হয়েছে যে, বিমানে উড়ে যশোর গিয়েছি, সেখান থেকে বাড়ি গিয়েছি। এখন আমার জন্য বাড়ি যাওয়া খুব সহজ হয়ে যাবে। এজন্য দারুণ ভালো লাগছে। আমি একদিন ছুটি পেলেও এখন গ্রামের বাড়িতে বাবা-মায়ের কাছে চলে যাবো”- ঐশীর অভিব্যক্তি এমনই।

ডানহাতি পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি বললেন, “পদ্মা সেতু শুধু আমাদের প্রজন্মের নয়, আমাদের বাবা-দাদারও স্বপ্ন ছিল। দক্ষিণাঞ্চলে বড় বড় বেশ কয়েকটি নদী আছে। মোটামুটি সব নদীতেই সেতু হয়েছে। বাকি ছিল পদ্মা সেতু। সেটিও হয়ে গেল। এটি আমাদের জন্য বিশাল একটি পাওয়া।”

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-র ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফীস বলেন, “যেকোনো রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে অর্থনীতি। আর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পুরোপুরি মানুষের হৃদয়ের মতো। মানুষের হৃৎপিণ্ড ঠিক থাকলে যেমন সব ঠিক থাকে, তেমনি একটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও দ্রুত বর্ধিত হয়। পদ্মা সেতুর ফলে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে সারাদেশে যোগাযোগের জন্য ফেরি বা নৌ-পথের কারণে যে সময় লাগতো, সেটি কমে আসবে।”

শাহরিয়ার নাফীস যোগ করেন, “বাংলাদেশ এখন অনেক দেশের জন্য রোল মডেল। পদ্মা সেতু বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে শক্তিশালী একটা অবস্থানে নিয়ে গেছে। ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাংলাদেশ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে করেছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শক্তির একটা বড় প্রাপ্তির জায়গা। পদ্মা সেতু তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিয়েছে, আমাদের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে যেকোনো কিছু করা সম্ভব।”

About

Popular Links