Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ডায়লগ আর অভিনয়ে বাজিমাত ‘কাইজার’-এর

টেলিভিশনের নিশো আর ওয়েবের নিশোর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। ভালো গল্প, ডায়লগ, ডিরেকশন পেলে একজন অভিনেতা কী করে দেখাতে পারেন তার উজ্জ্বল উদাহরণ তিনি

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২২, ১০:২১ পিএম

কাইজার ওয়েব সিরিজ নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসবে এর দুর্দান্ত স্ক্রিপ্ট এবং ডায়লগের কথা। স্ক্রিপ্ট এবং ডায়লগ রাইটার আয়মান আসিব স্বাধীন বাজিমাত করেছেন। চমৎকার টাইমিং এবং কমিক সেন্স। একদম এই সময়ের ডায়লগ। সাম্প্রতিককালের বাংলা ওয়েব সিরিজগুলোর মধ্যে আর কোথায় ডায়লগের এরকম খেল দেখতে পাইনি।

গল্পটা আহামরি কিছু না। মার্ডার মিস্ট্রি যেমন হয়, অনেককেই সন্দেহ হয়, পরে সবচেয়ে কম সন্দেহজনক কেউ পুলিশের তদন্তে খুনী হিসেবে চিহ্নিত হয়। এখানেও অনেকটা সেরকমই। 

অভিনয়ের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রীর নাম উল্লেখ করতে হয়। এই সিরিজের কাস্টিং লিস্ট বেশ লম্বা। অনেকগুলো চরিত্র, কোনোটা বেশি আবার কোনোটা স্বল্প সময়ের জন্য। তবে কোনো চরিত্রকেই অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়নি। 

সবচেয়ে ভালো লেগেছে শতাব্দী ওয়াদুদের অভিনয়। ডায়লগ ডেলিভারি, বডি ল্যাঙ্গোয়েজ, এক্সপ্রেশন সব মিলিয়ে দারুণ করেছেন তিনি। সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। খুব মাপা ছিল তার অভিনয়। এমনকি তার ঢেঁকুরও বিরক্তির উদ্রেক করে।

নাম ভূমিকায় নিশো দারুণ অভিনয় করেছেন। টেলিভিশনের নিশো আর ওয়েবের নিশোর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। ভালো গল্প, ডায়লগ, ডিরেকশন পেলে একজন অভিনেতা কী করে দেখাতে পারেন তার উজ্জ্বল উদাহরণ তিনি। তার ডায়লগ ডেলিভারি এবং টাইমিং অসাধারণ হয়েছে। কাইজার চরিত্রটাকে নিশো খুব যত্ন করে ফুটিয়ে তুলেছেন। যে কারণে দীর্ঘদিন দর্শকদের মনে এই চরিত্রের প্রভাব থেকে যাবে। 

ব্যারিস্টারের চরিত্রে ইমতিয়াজ বর্ষণ নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেছেন। নিজের উপর দুর্দান্ত কন্ট্রোল এই অভিনেতার। ক্যারেক্টারের মেজাজটা সমানতালে ধরে রেখেছেন। এক ইঞ্চিও এদিক-সেদিক হয়নি। হাঁটাচলা, লুক, ডায়লগ ডেলিভারি সব পার্ফেক্ট। খলচরিত্রে নিজেকে এত চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন যে তাক লেগে যাবে।

দ্বীপাণ্বিতা মার্টিন যে মাপের অভিনেত্রী শুরুতে তার চরিত্রটাকে সে তুলনায় দুর্বল লাগছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে তিনি তার খেল দেখিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। 

সবশেষে সৌম্য জ্যোতির অভিনয়ের প্রশংসা করতেই হয়। বয়স কম হলেও কাজে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। ডায়লগ ডেলিভারি, কমিক সেন্স এবং এক্সপ্রেশন..তিনটা কাজ একসাথে দারুণভাবে করেছেন। 

রাইটারের পর এই সিরিজের সবচেয়ে ভালো কাজ হয়েছে কাস্টিংয়ে। আর্ট ডিরেকশনের কাজও ভালো হয়েছে। আলাদাভাবে বলতে হয় সিরিজের ইনট্রোর কথা। নব্বইয়ের দশকের যে কেউ এই ইনট্রো দেখে নস্টালজিক হয়ে যাবেন কোনো সন্দেহ নেই। 

শেষে যদি এক বাক্যে বলতে হয়, প্রথমে ডায়লগ, তারপরে কাস্টিং, তারপরে অভিনয়, এই তিন যাদুতে বাজিমাত করেছে কাইজার। আর এই সবকিছু যিনি এক জায়গায় করেছেন তিনি পরিচালক তানিম নূর। অবশ্যই তিনি সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ পাবেন।

About

Popular Links