Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অর্থাভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়ি বিক্রি করে দিলেন অ্যাম্বার হার্ড

অ্যাম্বার হার্ড ২০১৯ সালে ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বিনিময়ে ওই বাড়িটি কিনেছিলেন

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২, ০৯:০২ পিএম

বিলাসী জীবনযাপনের জন্য সুপরিচিতি থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমানে মুদ্রার উল্টোপিঠও দেখতে শুরু করেছেন হলিউড তারকা অ্যাম্বার হার্ড। সাবেক স্বামী জনি ডেপের কাছে মানহানি মামলায় হেরে যাওয়ার পর বেশ অর্থকষ্টে ভুগছেন তিনি। এ কারণে ডেপের ক্ষতিপূরণের টাকাও এখনও পরিশোধ করতে পারেননি।

তবে মামলায় হারের ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধের একটা ব্যবস্থা হয়েছে অ্যাম্বার হার্ডের। পাকিস্তানি সংবাদমধ্যম জিও টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি এ হলিউড তারকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়িটি বিক্রি করে দিয়েছেন। ইউকা ভ্যালিতে অবস্থিত বাড়িটি বিক্রির মাধ্যমে  ১০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পেয়েছেন হার্ড।

জিলো প্রপার্টি রেকর্ডের তথ্যানুযায়ী, অ্যাম্বার হার্ড ২০১৯ সালে ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বিনিময়ে ওই বাড়িটি কিনেছিলেন। সেই হিসেবে তিন বছর পর বাড়িটি বিক্রি করে ৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার লাভ করেছেন অ্যাকুয়াম্যান খ্যাত অভিনেত্রী। তবে এরপরেও ডেপকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো টাকা হার্ডের কাছে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

টিএমজেড জানায়, হার্ডের কাছ থেকে যে ব্যক্তি বাড়িটি কিনছেন, তিনি এখনও হলিউড অভিনেত্রীর সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা করেননি। এর পরিবর্তে হার্ডের সহযোগীদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

হলিউড তারকা জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ড ২০১৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১৬ সালে জনি ডেপের বিরুদ্ধে শারীরিক ও যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনে আদালতে ডিভোর্সের আবেদন করেন অ্যাম্বার। স্ত্রীর সেই অভিযোগ অস্বীকার করলেও ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন জনি ডেপ। সেই সময়ে আদালতের কাছে দুইজন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে তাদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে জনসম্মুখে আর কোনো ধরনের আলোচনা করবেন না তারা।

তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্টের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেপের বিরুদ্ধে আবারও শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন অ্যাম্বার। ফলে মার্কিন অভিনেতার কাছ থেকে ফ্যান্টাস্টিক বিস্ট থ্রি এবং পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান-এর মতো সিনেমাগুলো তার হাতছাড়া হয়ে যায়। এমনকি নতুন করে কোনো চলচ্চিত্রের প্রস্তাবও আসছিল না।

পরবর্তীতে ব্যক্তিগত আইনজীবীর সহায়তায় মানহানির মামলা করেন জনি ডেপ। অ্যাম্বারের কাছে ৫০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। ওই মামলার পর ১০০ মিলিয়ন ডলারের পাল্টা মামলা করেন অ্যাম্বার।

গত ১ জুন ভার্জিনিয়ার একটি আদালতে তিন দিন ধরে সাত সদস্যের জুরি প্রায় ১৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা শুনানির পর মামলার রায় জনি ডেপের পক্ষে যায়। মামলায় জনি ডেপের বিরুদ্ধে অ্যাম্বার যে অভিযোগ এনেছিলেন তা প্রমাণিত না হওয়ায় মার্কিন অভিনেতার সাবেক স্ত্রীকে ১৫ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩৪ কোটি টাকারও বেশি) জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে ৫৮ বছর বয়সী ডেপের আইনজীবীরা হার্ডের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অবমাননাকর বিবৃতি দেওয়ার কারণে কিছু অভিযোগের রায় তার সাবেক স্ত্রীর পক্ষেও যাওয়ায় ৩৬ বছর বয়সী অভিনেত্রীকে ২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ডেপের।  

যদিও আদালতের রায় নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন অ্যাম্বার হার্ড। গণমাধ্যমের কাছে সরাসরি হলিউড অভিনেত্রী একাধিকবার সেই কথা বলেছেনও।

About

Popular Links