Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘কারাগার’-এর শুটিংয়ে টানা ১৪ দিন একটি ময়লা পোশাক পরতে হয়েছিল চঞ্চলকে

কথোপকথনে ‘কারাগার’ ওয়েব সিরিজে নিজের চরিত্র এবং বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন চঞ্চল

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ০৮:৩৫ পিএম

রহস্যময় এক কয়েদি কারাগারে উপস্থিত হয়ে দাবি করে, জেলের এই অন্ধকারে ২৫০ বছর ধরে তার বসবাস। যদিও কারাগারের কর্মীরা যখন আগের দিন সন্ধ্যায় কারাবন্দিদের সংখ্যা গুণে রাখছিল, তখন এই কয়েদি সেখানে ছিলেন না। রহস্যের ব্যাপার হলো কারাগারের ১৪৫ নম্বর কক্ষটি দীর্ঘকাল ধরেই খালি পড়ে আছে।

চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত আসন্ন ওয়েব সিরিজ “কারাগার- প্রথম পর্ব”-এর পুরো সিজনজুড়েই এক রহস্যের গন্ধ রয়েছে, যা দর্শককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখবে। এই ওয়েব সিরিজের দ্বিতীয় পর্বের জন্য দর্শকদের আরও এক বছর অপেক্ষা করতে হবে।

কারাগার ওয়েব সিরিজটির পরিচালনাক সৈয়দ আহমেদ শাওকি। ২০২০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “তাকদীর” এর পর আরও একটি ওয়েব সিরিজে একসঙ্গে কাজ করলেন চঞ্চল এবং শাওকি।

ঢাকা ট্রিবিউনের বিনোদন বিভাগের সম্পাদক সাদিয়া খালিদ রীতিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-এর সর্বশেষ ওয়েব সিরিজ “কারাগার” নিয়ে অনেক কথা উঠে এসেছে।

চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি

এ ধরনের সৃজনশীল চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়ার জন্য একজন অভিনেতাকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। যেহেতু চঞ্চলের চরিত্রটিই এ ওয়েব সিরিজের কেন্দ্রবিন্দু, তাই এতে ডুবে যেতে চঞ্চলকেও অনেক কিছু করতে হয়েছিল।

চরিত্রটিকে নিজের মধ্যে গড়ে নেওয়ার প্রসঙ্গে চঞ্চল বলেন, “আমাকে মাথা ন্যাড়া করতে হয়েছিল। পাশাপাশি কিছুটা সময় সাংকেতিক ভাষা শিখেও রপ্ত করতে হয়েছিল।”

সেল নম্বর ১৪৫

চঞ্চল বলেন, “কারাগারটি ওই বন্দির মতোই পুরনো। যখন গল্পটি ডালপালা মেলতে শুরু করে, তখন ১৪৫ নম্বর সেলটিও ওই পুরনো বন্দির মতো একটি রহস্যময় চরিত্রে পরিণত হয়। কারাবন্দিদের জীবনযাপন এবং বন্দি জীবনের সঙ্গে তাদের একাত্মতা মিলে যে পটভূমি তৈরি হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পর্দায় তা এতটা বাস্তবসম্মতভাবে ফুটে ওঠেনি।”

চঞ্চল এর আগেও এই কারাগারে কাজ করেছেন। কারাগারটি পুরোপুরি বন্ধ করে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত করার পরেই এখানে ওয়েব সিরিজটির শুটিং করা হয়। এ কারণে কারাগারের সেলগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে আরও নোংরা দেখা যাবে।

টানা শুটিংয়ের ধকল

টানা ১৩-১৪ দিন ধরে ওয়েব সিরিজটির দৃশ্যধারণ করা হয়। পুরোটা সময় চঞ্চলের পরনে ছিল শুধুমাত্র ঘর্মাক্ত একটি পোশাক। এ বিষয়ে চঞ্চল বলেন, “পুরো ওয়েব সিরিজে আমার চরিত্রের জন্য শুধুমাত্র একটি পোশাকই ছিল। পোশাকটি ক্রমাগত ময়লা হতে থাকায় সিকোয়েন্সের বাইরে টানা শুট করে যাওয়াটাও আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিল।”

এ অভিনেতা আরও বলেন, “কারাগারের যে সেলগুলোয় শুটিং করা হয়েছে, সেগুলো খুবই অপরিচ্ছন্ন ছিল। আমি পরে অসুস্থ হয়ে এক সপ্তাহ বিছানা থেকে উঠতে পারিনি। চরিত্রটিতে কাজ করা আমার জন্য একই সঙ্গে শারীরিক এবং মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং ছিল।”

চঞ্চল জানান, প্রতিদিন সকাল ৬টা বা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত শুটিং চলতো। একবার তো দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্তও দৃশ্যধারণের কাজ চলেছিল। যদি বিরতি দিয়ে আরও ২-৩ দিন শুটিং হতো, তাহলে হয়ত চরিত্রটিতে নিজের আরও কিছু ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করতাম।

বাজেট স্বল্পতার কারণে দ্রুততর সময়ে শুটিংয়ের কারণে অভিনেতাদের ওপর চাপ পড়ার প্রসঙ্গে এ অভিনেতা বলেন, “প্রতিটি পরিচালককেই এমন করতে হচ্ছে। কিন্তু এমনটা চলতে দেওয়া উচিত না।”

খাবারের কষ্ট

চঞ্চল বলেন, “আমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত সর্বাঙ্গে মেকআপ ছিল। অত্যন্ত নোংরা পরিবেশের মধ্যে আমাকে কাজ করতে হয়েছিল। শুটিংয়ের সময়ে ডাবের পানি আর জুস খেয়ে আমাকে দিন কাটাতে হয়েছিল।”

তিনি জানান, সাজসজ্জার অংশ হিসেবে মেকআপ টিমের সেতু চঞ্চলের ওপর কিছু প্রস্থেটিক ব্যবহার করেছিলেন। পুরো জিনিসটার পেছনে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা চলে যেত। তার ওপর গরম এবং ঘামের কারণে মাঝে মাঝে সাজসজ্জা নষ্ট হয়ে যেত।

এ অভিনেতা আরও বলেন, “প্রতিদিন শুটিং শেষে মেকআপ টিম আমার বাসায় গিয়ে মেকআপ তুলতো। তারপর বাথরুমের শাওয়ার পানিতে সেগুলো ধোয়ার হ্যাপা। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে আমি কীভাবে বেঁচে থাকতাম, তা আমার অজানা। শুধুমাত্র অভিনয়ের নেশার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।”

আফজাল হোসেনের সঙ্গে দ্বিতীয় কাজ

প্রখ্যাত অভিনেতা আফজাল হোসেন “কারাগার”-এ জল্লাদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এর আগে নুহাশ আহমেদের “ষ”-এ আফজাল এবং চঞ্চলকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল।

আফজাল হোসেনের সহযোগিতামূলক দিকের প্রশংসা করে চঞ্চল বলেন, “আফজাল হোসেন সম্পর্কে আর কী বলা যায়? ব্যক্তি এবং শিল্পী দুই দিকেই তিনি অসাধারণ। সিনিয়র অভিনেতা হলেও তিনি মনযোগ দিয়ে প্রতিটি দিক শোনেন।”

শাওকি: নিজের প্রজন্মের সেরা নির্মাতাদের একজন

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র “হাওয়া”-এর প্রচারণায় ব্যস্ততা থাকায় “কারাগার”-এর চূড়ান্ত সম্পাদনার সময় চঞ্চল উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে নির্মাতা সৈয়দ আহমেদ শাওকির মেধা আর দক্ষতার ওপরে চঞ্চলের রয়েছে অগাধ আস্থা এবং বিশ্বাস।

শাওকির প্রসঙ্গে চঞ্চল জানান, এই ওয়েব সিরিজে কাজ করা ছিল “তাকদীর”-এর চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জিং। এখানে পুরো টিমের নিষ্ঠা, পরিপক্কতা এবং দলগত প্রচেষ্টা আরও বেশি চোখে পড়েছে। প্রজন্মের অন্যতম সেরা নির্মাতা শাওকি ঠাণ্ডা মাথায় এবং নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের কাজ করেছেন।

আগামী ১৯ আগস্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-এ “কারাগার- প্রথম পর্ব” ওয়েব সিরিজটি মুক্তি পাবে।

About

Popular Links