Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শীত আর ব্যক্তিগত জীবনের অস্থিরতার মাঝেও সিনেমার প্রচারণায় পরীমণি

ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ঝাপটার মাঝেও কাজের প্রতি পরীমণির দায়বদ্ধতাকে সাধুবাদ দিচ্ছেন অনেকেই

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:৪৬ পিএম

একদিকে স্বামী শরীফুল ইসলাম রাজের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনে ঝামেলা চলছে। তার ওপর যোগ হয়েছে শীতের উত্তরের বাতাসের তীব্রতা। তবে কাজের জায়গায় এর কোনোটাই বাঁধা হয়ে রুখতে পারেনি পরীমণিকে। নিজের পরবর্তী সিনেমা অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবনের প্রচারণায় ঠিকই ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢালিউড অভিনেত্রী।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজের ক্যাম্পাসে হাজির হয় অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন টিম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এ সিনেমার নায়িকা পরীমণিও। সেখানে তাকে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হাজারো শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে তাল মেলান পরীমণি নিজেও। ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ঝাপটার মাঝেও কাজের প্রতি পরীমণির দায়বদ্ধতাকে সাধুবাদ দিচ্ছেন অনেকেই।

পরীমণির ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীরাই অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন সিনেমার মূল দর্শক। যারা বয়সে এখনও কিশোর আর তরুণ, তাদের গল্পেই নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। তাই মুক্তির আগেই তাদের কানে ছবিটির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধারণ করা এক ভিডিওতে সঙ্গে পরীমণি বলেন, “আমাদের ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন'র প্রধান দর্শকেরা, অনেক ভালোবাসা আপনাদের জন্য। দেখা হবে সিনেমা হলে, আসছে ২০ জানুয়ারি।”

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, জনপ্রিয় সায়েন্স ফিকশন লেখক ও খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের রাতুলের রাত রাতুলের দিন উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে নির্মিত সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আবু রায়হান জুয়েল। এ সিনেমার মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো একসঙ্গে জুটি বেধেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি ও নায়ক সিয়াম আহমেদ। এর আগে বিশ্বসুন্দরী সিনেমায় তারা একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন।

সিয়াম-পরীমণি ছাড়াও অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন আবু হুরায়রা তানভীর, শহীদুল আলম সাচ্চু, আজাদ আবুল কালাম, কচি খন্দকারসহ অর্থশতাধিক শিশু। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। ইতোমধ্যে সিনেমাটির গান, পোস্টার উন্মোচন ও ট্রেইলার প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ জানুয়ারি পরীমণি ও রাজ জানান তারা গত বছরের ১৭ অক্টোবর বিয়ে করেছেন। একই দিনে ঘোষণা করেন, সন্তান আসছে তাদের ঘরে। এরপর ২২ জানুয়ারি পারিবারিক আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করেন তারা। ১০ আগস্ট পরীমণির কোলজুড়ে আসে রাজ্য।

গত শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যক্তিগত একাউন্ট থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “হ্যাপি থার্টিফার্স্ট এভরিওয়ান! আমি আজ রাজকে আমার জীবন থেকে ছুটি দিয়ে দিলাম এবং নিজেকেও মুক্ত করলাম একটা অসুস্থ সম্পর্ক থেকে। জীবনে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার থেকে জরুরি আর কিছুই নেই।”

এরপর বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইতোমধ্যেই শরীফুল রাজের বাসা ছেড়েছেন তিনি। শিগগিরিই পাঠাবেন বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ।

রবিবার ভোর ফের তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে রক্তামাখা বিছানা ও বালিশের দুটি ছবি পোস্ট করে ইঙ্গিত দেন সংবাদ সম্মেলনের।

রবিবার বিকেল ফের আরেক ফেসবুক পোস্টে পরীমণি লিখেন, “একটা সম্পর্কে পুরোপুরি সিরিয়াস বা খুব করে না চাইলে একটা মেয়ে, বাচ্চা নেওয়ার মতো এত বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কখনোই।”

তিনি আরও লিখেন, “ আমার জীবনের সবটুকু চেষ্টা যখন এই সম্পর্কটাকে ঠিকঠাক টিকিয়ে রাখা তখনই আমাকে পেয়ে বসা হলো। যেন, শত কোটি বার যা ইচ্ছে তাই করলেও সব শেষে ওই যে আমি মানিয়ে নেই এটা রীতিমতো দারুণ এক সাংসারিক সূত্র হয়ে দাঁড়ালো। আমি জোর দিয়ে বলতে পারি আমাদের এই সম্পর্ক এত দিন আমার এফোর্টে টিকে ছিলো শুধু। কিন্তু বারবার গায়ে হাত তোলা পর্যায়ে পৌঁছালে কোনো সম্পর্কই আর সম্পর্ক থাকেনা। স্রেফ বিষ্ঠা হয়ে যায়।”

ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে সবকিছু সহ্য করেছেন জানিয়ে  পরীমণি লিখেন, “রাজ্যের দিকে তাকিয়ে বার বার সব ভুলে যাই। সব ঠিক করার জন্যে পড়ে থাকি। কিন্তু তাতে কি আসলেই আমার বাচ্চা ভালো থাকবে! না । একটা অসুস্থ সম্পর্ক এত কাছে থেকে দেখে দেখে ও বড় হতে পারে না। তাই আমি, রাজ্য এবং রাজের মঙ্গল এর জন্যেই আলাদা হয়ে গেলাম।”

স্ট্যাটাসে পরীমণি বলেন, “রাজ এখন শুধু আমার প্রাক্তন'ই না,আমার ছেলের বাবাও। তাই রাজ্যের বাবার সন্মান রাখতে পাবলিকলি আর বাকি কিছু বলছি না আমি। তবে আমার ওপর তার আর তার পরিবারের কোনো অসুস্থ আচরণ বা হার্মফুল কিছু করার চেষ্টা করলে আমি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো।”

স্ট্যাটাসে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পরীমণি বলেন,  “সম্মানিত গণমাধ্যমকর্মী যারা রয়েছেন আপনারা নিশ্চয়ই আমার মানসিক অবস্থা বুঝতে পারবেন আশা করছি। আমাকে একটু সময় দিন। শারীরিক ভাবেও আমি বিধ্বস্ত।” 

শেষে তিনি লিখেন, “রাজ্য তার বাবা মাকে একসাথে নিয়ে বড় হতে পারলো না এর থেকে কষ্টের আর কি হতে পারে আমার কাছে……! ”

এরপর রাজ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এখন চুপচাপ আছি। কিছু বলতে চাইছি না। এই পরিস্থিতিতে আমার এখন একা থাকা দরকার। পরে এসব ব্যাপারে কথা বলব।”

আত্মপক্ষ সমর্থন না করলে ভুল-বোঝাবুঝির সুযোগ থেকে যায় কিনা, তা জানতে চাইলে রাজ বলেন, “ভুল বুঝলে বুঝুক। তবে আমি স্পষ্ট বলি, আমি কোনো ভুল করিনি।”

তাদের সম্পর্ক যে আর টিকছে না, সেটিও স্পষ্ট করেন রাজ। সম্পর্ক জোড়া লাগবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “না, আর হবে না।”

About

Popular Links