Friday, June 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শাকিব খান ইস্যুতে মুখ খুললেন ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ নির্মাতা

শাকিব খানের নামে ওঠা অভিযোগগুলো ত্রুটিপূর্ণ ও বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিমত এ নির্মাতার

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৩, ০৮:৩২ পিএম

গত সপ্তাহে ঢাকাই সিনেমার তারকা অভিনেতা শাকিব খানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন “অপারেশন অগ্নিপথ” সিনেমার প্রযোজক রহমত উল্লাহ। শাকিব খানের বিরুদ্ধে হোটেলের একটি কক্ষে সহ-প্রযোজককে ধর্ষণচেষ্টা ও তাকে শারীরিকভাবে গুরুতর আহত করা, অপেশাদারি ও অনৈতিক আচরণ এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েও শুটিংয়ে অবহেলা করার অভিযোগ আনেন তিনি। গত ১৫ মার্চ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙালি এ প্রযোজক সশরীরে এফডিসিতে উপস্থিত হয়ে এ অভিযোগ করেন।

বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে কম জলঘোলা হয়নি। পরে ওই প্রযোজকের নামে মানহানি মামলা করতে থানায় যান শাকিব খান। শনিবার (১৮ মার্চ) রাতে গুলশান থানায় উপস্থিত হন শাকিব খান। তবে পুলিশ মামলাটি নেয়নি। মামলাটি আদালতে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের সামনে বরাবরই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাকিব।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর শাকিব খানের ইস্যুতে পরবর্তীতে নায়িকা শবনম বুবলী, শাকিবের অস্ট্রেলিয়ান আইনজীবীসহ ঢালিউডের নানা ব্যক্তি মন্তব্য করেন। প্রযোজক অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ অফিসের মামলার বিবরণী প্রকাশ করার পর শাকিব খানের হয়ে বক্তব্য দেন দেশটিতে নিযুক্ত আইনজীবী।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার মুখ খুলেছেন “অপারেশন অগ্নিপথ” সিনেমার ত্রনাট্যকার ও নির্মাতা আশিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, শাকিব খানের নামে ওঠা অভিযোগগুলো ত্রুটিপূর্ণ ও বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এমনকি একটি চলচ্চিত্রের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ব্যক্তিগত রোষানলের বিষয়ে সমাধান করাও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন এ নির্মাতা। এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন।

মূল ঘটনার সচিত্র গল্প জানিয়ে আশিকুর রহমান বলেন, “২০১৮ সালে শাকিব খান ও অন্য কলাকুশলীরা যখন হোটেল হলিডে ইনে অবস্থান করছিলেন, তখন অস্ট্রেলিয়া পুলিশের দুজন তদন্ত কর্মকর্তা তার রুমে যান। প্রায় ২০-৩০ মিনিটের অবস্থান শেষে তারা অন্যদের আরও কিছু সাধারণ প্রশ্ন করে চলে যান। এ ঘটনা ছাড়া শাকিব খানের সঙ্গে পুলিশের আর কোনো ইন্টারেকশন আমার জানা নেই।”

তবে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশের সঙ্গে শাকিব খানের আবারও রফাদফা হওয়ার বিষয়টি আশিকুর রহমানের বক্তব্যেই স্পষ্ট। এ নির্মাতার ভাষ্যমতে, “হোটেলে এসে জিজ্ঞাসাবাদের একদিন পর ওই ঘটনার বিস্তারিত জানতে আমি, রবিউল রবি ও শাকিব খানের আরেকজন লিগ্যাল প্রতিনিধি কোগরা পুলিশ স্টেশনে যাই। শাকিব খানের প্রতিনিধি পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন কাগজপত্র নিয়ে আলাদা একটি রুমে বসেন। প্রায় এক ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার আলোচনা শেষে তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের জানান, তারা জনাব শাকিব খানের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাননি। এরপর তিনি শাকিব খানের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেন এবং তাকে নিশ্চিন্তে সিডনিতে শুটিং করতে বলেন।”

অস্ট্রেলিয়া থেকে শাকিব খানের পালিয়ে আসার প্রসঙ্গে আশিকুর রহমান বলেন, “শাকিব খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, তিনি নাকি পালিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়া থেকে, যেটা বাস্তবে কখনও সম্ভব না। এই দেশে কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আসলে, তা খতিয়ে শেষ না দেখা পর্যন্ত, তাকে দেশ ত্যাগ বা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। ২০১৬ এবং ২০১৮ সালে এই দুই চলচ্চিত্রের সব কলাকুশলী সম্মান ও আতিথেয়তা সহকারে অস্ট্রেলিয়া আগমন ও ত্যাগ করেন।”

তবে শাকিব খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও জোর গলায় দাবি করেননি আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, “যেকোনো কাজ করার সময় ছোটখাটো অনেক ত্রুটি হয়। সেগুলোকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করাটা মোটেও সমীচীন নয়। খাবার-দাবারসহ যেসব অনর্থক অভিযোগ এসেছে, সেগুলো আসলে অনভিপ্রেত ও ক্ষুদ্র মানসিকতার পরিচয় দেয়। শাকিব খান এবং আমরা যতক্ষণ একসঙ্গে শুটিং করেছি, কখনও আপত্তিকর কিছু চোখে পড়েনি।”

এ নির্মাতা আরও বলেন, “কাজের বাইরে কারও ব্যক্তিগত বিষয়ে আমি কখনও আগ্রহ দেখাইনি। আমি যে কয়বার অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে ব্যক্তিগতভাবে শুধু এই সিনেমার (অপারেশন অগ্নিপথ) জন্য গিয়েছি, তার খরচ এই মুভিতে আমার পারিশ্রমিকের থেকে বেশি। এ সিনেমায় কাহিনিকার ও পরিচালক হিসাবে আমি যে সময় ও শ্রম দিয়েছি, তা টাকার অঙ্কে মূল্যায়ন করা সম্ভব না।”

অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ মিলিয়ে “অপারেশন অগ্নিপথ” সিনেমার শুটিং করার মূল উদ্দেশ্য ছিল অনিন্দ্য সুন্দর অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশের সিনেমার পর্দায় তুলে ধরা। সিনেমাটির কাজে ব্যাঘাত ঘটলেও “অপারেশন অগ্নিপথ” সিনেমাটি রূপালি পর্দায় মুক্তি পাবে।

আশিকুর রহমান বলেন, “কিছু স্বার্থান্বেষী ও ঈর্ষাকাতর মানুষের কারণে অসাধারণ একটি গল্প পর্দায় আনতে পারিনি। এই সিনেমাটি পর্দায় এলে বাংলা ভাষায় দর্শকরা অসাধারণ একটি স্পাই থ্রিলার উপভোগ করতে পারতো। আমরা সবাই এখনও চাই এই সিনেমাটির কাজ শেষ করতে। সময় বলে দেবে, এ চাওয়াটা কতটুকু পাওয়া সম্ভব। তবে মাত্র ৮ দিনের শুটিং আর দুই মিনিটের টিজারে যে ঘটনার জন্ম দিয়েছে, আমার মনে হয় না বিগত কয়েক বছরে কোনও চলচ্চিত্র এতটা আলোচনা ও সমালোচনার  জন্ম দিয়েছে।”

উল্লেখ্য, “অপারেশন অগ্নিপথ” সিনেমার সূত্রে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ায় শাকিব খানের সঙ্গে অ্যানি সাবরিনের প্রথম দেখা হয়। অস্ট্রেলিয়ায় শাকিব খানের যাতায়াতের বাহন, হোটেল, খাওয়া-দাওয়া ও যাবতীয় বিষয়াদি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সেই সূত্রেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

About

Popular Links