Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খান সাহেবের জীবন যেন সিনেমার গল্প!

শাকিব খানের দাবি, হোটেলে অসুস্থ বোধ করায় ওই নারী তাকে রুমে পৌঁছে দিতে যান। এ সময় জ্ঞান হারান তিনি। পরদিন সকালে রহমত উল্ল্যাহ তাকে ফোন করে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে চাঁদা দাবি করেন

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৩, ০১:৩২ পিএম

সিনেমা সংক্রান্ত বিষয়ের বাইরেও নিয়মিত বিরতিতে ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংবাদের শিরোনামে পরিণত হন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। চিত্রনায়িকা অপু বিশ্ব ও শবনম বুবলীর সঙ্গে বিয়ে, সন্তান এবং বিচ্ছেদ তো দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যেই আবার তার বিরুদ্ধে ওঠে শিডিউল ফাঁসানো এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ।

যদিও বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন কিং খান। নিজের এই বিপদের সময়ে তিনি পাশে পেয়েছেন দুই নায়িকা অপু এবং বুবলীকেও। অপু পেছন থেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও বুবলী প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছেন শাকিবকে। বিষয়টি অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখলেও কেউ কেউ শাকিবের প্রতি তাদের এই একচেটিয়া সমর্থনকে ভালোভাবে নেননি।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ মার্চ। এদিন শাকিব খানের বিরুদ্ধে শিডিউল ফাঁসানো ও সহ-নারী প্রযোজককে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ আনেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রহমত উল্ল্যাহ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

তার অভিযোগ, ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায় “অপারেশন অগ্নিপথ” সিনেমার সময় এক নারী সহ-প্রযোজককে ধর্ষণ করেন শাকিব খান। এরপর তিনি দেশে পালিয়ে আসেন। একই সিনেমার শুটিংয়ে শাকিব খানের বিরুদ্ধে শিডিউল ফাঁসানোরও অভিযোগ আনেন তিনি।

রহমত উল্ল্যাহ'র অভিযোগে বলা হয়, ধর্ষণচেষ্টার ওই ঘটনায় ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আটক হয়েছিলেন শাকিব খান। তবে ভুক্তভোগী পরে আর এগিয়ে না আসায় অস্ট্রেলিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই বিষয়ে আর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এরপর ওই প্রযোজকের নামে মানহানি মামলা করতে ১৮ মার্চ রাতে গুলশান থানায় উপস্থিত হন শাকিব খান। তবে পুলিশ মামলাটি নেয়নি। মামলাটি আদালতে করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর রবিবার বিকেলে গোয়েন্দা কার্যালয়ে যান শাকিব খান। সেখানেও কোনা সুরাহা না করতে না পেরে বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।

এদিন রহমত উল্ল্যাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির অভিযোগে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিবের আদালতে এ মামলা করেন চিত্রনায়ক শাকিব খান।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,প্রায় ৭ বছর আগে শাকিব খান বাংলা ছায়াছবি “অপারেশন অগ্নিপথ” নামে ছবিতে অভিনয় করতে চুক্তিবদ্ধ হন। এ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে শিবা আলী খানকে মনোনীত করা হয়।  ছবির শুটিংয়ের জন্য ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট অস্ট্রেলিয়া যান। শিবা আলী খান ভিসা জটিলতার জন্য শুটিং করতে অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পারেনি। তার জায়গায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান এক নারীর সঙ্গে শাকিবকে অভিনয় করার প্রস্তাব দেন রহমত উল্ল্যাহ। তবে শাকিব তার ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে বিষয়টি নাকচ করে দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে একদিন শুটিং শেষে শাকিবকে রিফ্রেশমেন্টের জন্য ক্লাবে নিয়ে যান। সেখানে ওই নারীসহ আরও ২/৩ জন অপরিচিত লোকজনকে দেখতে পান শাকিব। মামলার আসামি রহমত উল্ল্যাহসহ অন্যদের নিয়ে একসঙ্গে ক্লাবে খাওয়া-দাওয়াসহ বিভিন্ন প্রকার পানীয় পান করেন। একপর্যায়ে শাকিব অসুস্থবোধ করেন। হোটেলে ফেরত আসার সময় রহমত উল্ল্যাহ এবং অন্য ২/৩ জন লোককে খুঁজে না পেয়ে ওই নারীর কাছ থেকে বিদায় নেন শাকিব। গভীর রাতে শাকিব হোটেলে ফেরত আসতে গেলে ওই নারী তাকে বলেন, “আপনি যেহেতু অসুস্থবোধ করছেন, তাহলে চলেন আমি আপনাকে হোটেল রুমে পৌঁছে দিয়ে আসি।” শাকিবের দাবি, অনেকটা নিরুপায় হয়ে তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে হোটেল রুমের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আসার সময় বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পরদিন সকালে আসামি রহমত উল্ল্যাহ শাকিবকে ফোনে বলেন, “তুমি রাতে ওই নারীর সঙ্গে কী করেছে সব কিছুর ভিডিও ক্লিপ আমার হাতে। তুমি যদি আমাকে এক লাখ ডলার চাঁদা না দাও তাহলে সমস্ত ভিডিও ক্লিপ এবং ওই নারীকে নিয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে তোমার নামে অভিযোগ করবো এবং তুমি বাংলাদেশে যেতে পারবে না।” এ অবস্থার একপর্যায়ে শাকিব ভয় পেয়ে যান। শাকিব ভয়ে এবং তার ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক সমস্যার কথা চিন্তা করে আসামি রহমত উল্ল্যাহকে ৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার দেন। পরে আসামি রহমত উল্ল্যাহ তাকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখয়ে মোট ৪০ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছেন। পরবর্তীতে চাঁদা দিতে না পারায় শাকিবকে জানানো হয় যে, তার নামে অস্ট্রেলিয়ায় অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দিলে আসামি রহমত উল্ল্যাহ বিভিন্ন জায়গায় ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া, বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং শাকিবের পরিবারের সদস্যদের কাছে মিথ্যাচার ও কুৎসা রটাতে থাকেন। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ রহমত উল্ল্যাহ চিত্রনায়ক শাকিব খানের কাছে এক লাখ ডলার চাঁদা দাবি করেন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। 



এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন শাকিব খান। সেখানে এই মামলা করতে পারাকেই নিজের বিজয় হিসেবে প্রকাশ করেন খান সাহেব। 

সংবাদ সম্মেলনে শাকিব খান বলেন, “প্রতারণারও একটা লিমিটেশন থাকা উচিত। পর্দায় আমরা সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলি, প্রতিবাদ করি। দিন শেষে কিন্তু ন্যায়েরই জয় হয়। আমার মনে হয়েছে, সেটা (প্রতিবাদ) শুধুই পর্দায় সীমাবদ্ধ রাখা উচিত? পর্দার বাইরেও তো আমি একজন মানুষ। আমি মানুষকে শেখানোর চেষ্টা করছি, আপনার সঙ্গে কোনো অন্যায় হলে অবশ্যই বিচার চাইবেন, ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করবেন।”

এই লড়াই যেন সিনেমার গল্পের বীরের লড়াই! সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় যেমন শাকিব খান অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন, প্রযোজক রহমত উল্ল্যাহর অভিযোগকে ষড়যন্ত্র উল্লেখৈ করে বাস্তবেও তেমন প্রতিবাদ করলেন তিনি। তবে, সিনেমার মতো তিনি বেধড়ক মারপিট করেননি এখানে, আস্থা রেখেছেন আইনের প্রতি। করেছেন মামলা। যদিও সেই মামলার নিষ্পতি হওয়ার পরই আসলে প্রমাণিত হবে, কীভাবে শাকিব খানকে ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিলেন রহমত উল্ল্যাহ।



আপাতত যদি শাকিব খানের অভিযোগকেই সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়, তবে সেখানেও রয়েছে সিনেমার গল্পের মতো ঘটনা। এরকম অসংখ্য সিনেমা আছে, যেখানে পুরষ বা নারীকে কৌশলে অজ্ঞান করে তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তাকে ব্লাকমেইল করা হয়েছে। সেই ছবি বা ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীর সংসার ভেঙে দেওয়া বা অন্য কোনো হুমকিতে অর্থ আদায় করতেও দেখা গেছে।

শাকিবের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটার অনেক আগেই এমন বিষয় সিনেমার গল্পে দেখা গেছে। তাই শাকিবের জীবনের এই ঘটনাও যে সিনেমার মতোই, এমনটা বললে ভুল হবে না।

তবে, শুধু এই অস্ট্রেলিয়কাণ্ড নয়, এর আগেই রুপালী পর্দার এই জনপ্রিয় তারকার জীবনে ঘটেছে নানা ঘটনা, যা অনেকটা সিনেমার গল্পের মতোই কিংবা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। অপু বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ে, সন্তান এবং বিচ্ছেদের পর বুবলীর সঙ্গে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি তেমনই ঘটনা বললেও বোধহয় ভুল হবে না। শাকিবের জীবনের এসব ঘটনা নিয়েও হয়তো লেখা হবে চিত্রনাট্য।

About

Popular Links