Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নতুন ইউটিউবারদের জন্য যে পরামর্শ দিলেন ‘আরএনএআর’ রাকিব

বাংলা সিনেমার হালচাল ও পেশা হিসেবে ভিডিও নির্মাণ প্রসঙ্গে ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন ‘আরএনআর’ হিসেবে পরিচিত ইউটিউবার রাশেদুজ্জামান রাকিব

আপডেট : ১৬ মে ২০২৩, ০৩:২৪ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত নাম “আরএনএআর”। ইউটিউব-ফেসবুকে এই চ্যানেলের একটিও ভিডিও দেখেননি দেশে এমন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। আরএনএআর মূলত একটি ইউটিউব চ্যানেল, একই নামে রয়েছে ফেসবুক পেজও। এই চ্যানেল থেকে মজার ছলে সিনেমার পর্যালোচনা ভিডিও বানানো হয়। যা দর্শক-শ্রোতাদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়।

আরএনএআর-এর ভিডিওগুলোতে প্রচুর পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত, বিশ্লেষণ থাকে- যা সিনেমাপ্রেমীদের মূল আগ্রহের জায়গা। আর এই ভিডিওগুলোর নির্মাতা রাশেদুজ্জামান রাকিব। বর্তমান সময়ে দেশের যে কয়েকজন ইউটিউবার বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন রাকিব তাদের মধ্যে অন্যতম। রাকিবের কাছে যেন রয়েছে সিনেমার সব খবর, তাই অনেকের কাছেই রাকিব “সিনেমাওয়ালা” হিসেবেও পরিচিত।

ভিডিওতে ব্যতিক্রমী উপস্থাপন ভঙ্গি ও কন্টেন্টের মতো ব্যক্তিজীবনেও রাকিব গতানুগতিক ধারার ইউটিউবারদের থেকে একটু আলাদা। 

আমাদের দেশে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির সন্ধান বেশিরভাগ তরুণের প্রধান লক্ষ্য। রাকিব সেখানে ভিন্ন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর রাকিব চাকরির পেছনে না ছুটে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ভিডিও নির্মাণকে।

এ প্রসঙ্গে নন্দিত এই ইউটিউবার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সত্যি বলতে সিনেমা নিয়ে কিছু করার ইচ্ছেটা অনেক আগে থেকেই ছিল। তবে নিশ্চিত ছিলাম না, পড়াশোনা শেষে কীভাবে, কী করব? কীভাবে যুক্ত হব? এরই মাঝে স্নাতকের শেষদিকে ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সম্পর্কে জানতে পারি। কিছুদিন ঘাঁটাঘাঁটি করার পরে মনে হলো, সিনেমা নিয়েই তো ইউটিউবে কন্টেন্ট বানাতে পারি। এরপর এক বছর ধরে নিজেকে তৈরি করে ইউটিউবে চ্যানেল খুলে কন্টেন্ট বানানো শুরু করলাম।”

এই সিনেমাওয়ালা আরও বলেন, “ছোটবেলা থেকেই সিনেমা দেখা ও এ নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করতাম। বন্ধুদের মজা করে সিনেমার গল্প শোনাতাম। তাই স্বাভাবিকভাবেই যখন ইউটিউবে কন্টেন্ট বানানোর সিদ্ধান্ত নিই, তখন সিনেমা সবার আগে চলে আসে। অন্যসব বিষয়ে আমার একদমই আগ্রহ আসে না।“ 

রাকিবের ভিডিওতে তথ্য আর বিশ্লেষণের প্রাচুর্য থেকে সহজেই অনুমেয়, একেকটি কন্টেন্টের জন্য অনেক অধ্যাবসায় করতে হয় তাকে। ইউটিউবার বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য অধ্যাবসায় কতটা জরুরি, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নিজে ঠিকঠাক জেনে তা অন্যকে জানানোটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই জানতে সময় দিতে হবে, এরপর গুছিয়ে দর্শকদের জানাতেও সময় নিতে হবে।” 

রাকিব তার ভিডিওতে ভালো গল্প ও নির্মাণশৈলীর প্রশংসার পাশাপাশি দুর্বল গল্প এবং নির্মাণের সমালোচনা করে থাকেন। দেশে সামগ্রিকভাবে ভালো চলচ্চিত্র কম হওয়ার পেছনে কারণ এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল গল্প ও নির্মাণ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভালো সিনেমা এখন কিন্তু হচ্ছে। পরিবর্তনটা আসছে। সামনে আরও বড় পরিবর্তন হবে। দুর্বল গল্প ও নির্মাণ মোটা দাগে ভালো সিনেমারই ক্ষতি করছে। মানুষ বাজে সিনেমা দেখে আগ্রহ একদম হারিয়ে ফেলে। আর সিনেমা হলে যেতে চায় না। ফলাফল পরবর্তীতে ভালো একটা সিনেমা মুক্তি পেলেও আশানুরূপ সাফল্য পায় না।”

এ থেকে উত্তরণের জন্য করণীয় প্রসঙ্গে রাকিবের পরামর্শ, “উত্তরণের জন্য সেকেলে স্টাইল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, গল্প নির্বাচনে আধুনিক হতে হবে, গৎবাঁধা স্ট্রাকচার ও ফর্মুলা থেকে সরে আসতে হবে, বিভিন্ন জনরা এক্সপ্লোর করতে হবে, পাশাপাশি প্রমোশনেও মনোযোগী হতে হবে।”

যারা পেশাদার ইউটিউবার/কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হতে চান তাদের উদ্দেশে রাশেদুজ্জামান বলেন, “নিজস্ব একটা স্টাইল তৈরি করতে পারলে অনেক ভালো হয়। এর সঙ্গে ধারাবাহিক হতে হবে। আর সর্বোপরি প্রচুর ধৈর্য থাকতে হবে। কন্টেন্ট ক্রিয়েশনকে পেশা হিসেবে নিতে চাইলে অধৈর্য হওয়া যাবে না। লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই।”

About

Popular Links