Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চলে গেলেন ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র শেষ প্রতিনিধিও

ফুসফুসের ক্যানসারের তৃতীয় ধাপে ছিলেন মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তাপস বাপি দাস

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৩, ০৩:৩৮ পিএম

বাংলা গানের জগতে বিপ্লব ঘটানো রক ব্যান্ড মহীনের ঘোড়াগুলির শিল্পীরা একে একে সবাই পরলোকে পাড়ি জমিয়েছেন। শেষ প্রতিনিধি হিসেবে টিকে ছিলেন বাপিদা খ্যাত তাপস বাপি দাস। শেষ পর্যন্ত তিনিও জীবনের মায়া ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর রবিবার (২৫ জুন) সকালে কলকাতার এস এস কে এম হাসপাতালে তাপস বাপি দাস শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ফুসফুসের ক্যানসারের তৃতীয় ধাপে ছিলেন মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডের অন্যতম এ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত তাপস বাপি দাস অর্থাভাবে থাকায় একটা সময় চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারছিলেন না। দুরারোগ্য এ ব্যাধির বিপুল খরচের কাছে একটা সময় তার পরিবার যেন নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। বাংলা রক ব্যান্ড মহীনের ঘোড়াগুলির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতার চিকিৎসায় তহবিল গঠনের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন দুই বাংলার শিল্পীরা।

বাংলা গানের জগতের এ মহীরুহর পথচলা অব্যাহত রাখত ক্যাকটাসের সিধু থেকে রূপম ইসলাম, অর্কসহ গৌরব চ্যাটার্জি সবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বেছে নেন। তারা সবার কাছে তাপস দাসের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আবেদন করেন। এরপর ক্রাউড ফান্ডিংয়ের পর সরকারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।

১৯৭৫ সালে তৈরি হয়ে বাংলার প্রথম রক ব্যান্ড মহীনের ঘোড়াগুলি। মাঝে ৪৭ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। বাংলা গানের জগতে  আমূল পরিবর্তন আনা এ ব্যান্ডের গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। যে প্রজন্ম তাদের পারফরমেন্স কোনোদিন স্টেজে দেখেনি, তাদেরও একটা বড় অংশ এ ব্যান্ডের ভক্ত।

দীর্ঘ চার যুগেও মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডের গানগুলির জনপ্রিয়তা এক ফোঁটা হারায়নি। সৃষ্টি না হারালেও গানের স্রষ্টাদের অধিকাংশই একে একে পাড়ি দিয়েছেন না ফেরার দেশে। বাকি ছিলেন সবার প্রিয় বাপিদা। মরণব্যাধি ক্যানসারের কাছে হার মেনে তিনিও পাড়ি জমালেন সঙ্গীদের কাছে।

তাপস বাপি দাসের প্রাণ শক্তি যে কতটা ছিল সেটা সবারই জানা। একদিকে যখন ক্যানসার রোগ তার বুকে বাসা বেঁধেছে, জীবনে বহু বিচ্ছেদ যন্ত্রণা সয়েছেন, তখনও কিন্তু তিনি শেষদিন পর্যন্ত গানকে ছাড়েননি। চলে যাওয়ার কয়েক মাস আগ পর্যন্ত তিনি মঞ্চে উঠে গান গেয়েছেন। নাকে মুখে নল লাগানো সত্ত্বেও এ বছরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় সঙ্গীত মেলায় তিনি ভালোবাসো গানটি গেয়ে আবার দর্শকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন।

তাপস বাপি দাসের এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না ভক্তরা। দুই বাংলায় অনেকেই তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। পরলোকের অজানা ভুবনে পাড়ি জমানোর আগে সঙ্গীতানুরাগীদের জন্য রেখে গেছেন “থেকে গেল পৃথিবীটা নাকি”, “আমার প্রিয় ক্যাফে”, “তোমায় দিলাম”, “মানুষ চেনা দায়”, “তাকে তাড়াই যত দূরে”, “ভালোবাসি”, “ঘরে ফেরা”র মতো বহু কালজয়ী গান।

About

Popular Links