Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রতিযোগিতার মঞ্চে চিশতি বাউল, ‘সংকট নাকি আসর জমানো’

অনেকে বলছেন, কোনো সমস্যায় পড়ে এই পথে পা বাড়িয়েছেন চিশতি; কারো মতে, ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’র এবারের আসরকে আলোচনায় নিতে চিশতি বাউলকে বিচারকের আসনে না বসিয়ে প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড় করানো হয়েছে 

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:১০ পিএম

চিশতি বাউলকে চেনেন না এমন বাংলা বাউল ও লোক গানের শ্রোতা খুঁজে পাওয়া কঠিনই রয়েছে। তার পুরো নাম পুরো নাম শামসেল হক চিশতি। ব্যাপক পরিসরে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন বছর ছয়েক আগে “বেহায়া মন” গেয়ে। গান বাংলা টিভির ফিউশন আয়োজনে গানটি গেয়েছিলেন চিশতি বাউল।

তার কণ্ঠে প্রকাশিত ওই গানের ভিউ ছাড়িয়েছে ২৩ মিলিয়ন। এছাড়া আরও অনেকেই এই গানের কাভার করে সাফল্য পেয়েছেন। এরপর “যদি থাকে নসিবে” শিরোনামের গানটি দিয়ে ফের নিজের মুনশিয়ানা জাহির করেন এই বাউল। এই গানটিও নেট দুনিয়ায় ঝড় তোলে। বিভিন্ন বয়সী শ্রোতা-শিল্পীর মাঝে ছড়িয়ে যায়।

সেই চিশতি বাউল এখন মাছরাঙা টিভিতে প্রচার চলতি “ম্যাজিক বাউলিয়ানা”য় প্রতিযোগীর ভূমিকায়! অডিশন, গ্রুমিং, পেরিয়ে স্টুডিও রাউন্ডে লড়াই করছেন অন্যান্য সাধারণ প্রতিযোগীর সঙ্গে। ইতোমধ্যে তার পারফর্মেন্সের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। যা দেখে অবাক, বিস্মিত অনেকেই।

প্রায় তিন যুগ ধরে যিনি নিয়মিত স্টেজে বাউল গান করছেন, খ্যাতিও পেয়েছেন, তিনি কেন একটি টিভি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে নামলেন? বিষয়টি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন। 

চিশতি বাউল সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, “ফেসবুকে যে আলোচনা হচ্ছে, এটা আসলে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। আমি কোনো সমস্যায় পড়ে প্রতিযোগিতায় যাইনি। গিয়েছি শুধু আমার গানগুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরার জন্য। যাতে তরুণরা সঠিকভাবে গাইতে পারে। তাদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটালাম, আনন্দ করলাম। এরপর ইচ্ছে হলো, চলে আসলাম।”

তিনি জানান, প্রতিযোগিতা থেকে তিনি ইতোমধ্যে চলে গিয়েছেন সাভারে। মনের পাগলামি থেকে এতে অংশ নিয়েছিলেন। একই ভাবনায় চলেও গেলেন। 

গুণী এই শিল্পীর ভাষ্য, “একবার চ্যানেল আইতে দেখলাম আমার গান এক শিল্পী ভুল সুরে গাইছে। সেরকম যাতে না হয়, তাই এই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম!”

এদিকে ফেসবুকে অনেকে বলাবলি করছেন, হয়তো কোনো সমস্যায় পড়ে এই পথে পা বাড়িয়েছেন চিশতি। আবার তাকে ঘিরে রয়েছে নানা মাত্রার নেতিবাচক সমালোচনাও। 

এ বিষয়ে চিশতি বাউল বলেন, “না, আমি কোনো সমস্যার মধ্যে নেই। রিজিকের মালিক আল্লাহ। গানের পাশাপাশি আমি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা, কৃষি কাজ, দোকানদারি অনেক কিছুই করি।”

গানবাজনা কেমন চলছে এখন? প্রশ্ন শুনে এই শিল্পীর জবাব, “গানের জন্য আমি দৌড়ঝাঁপ করি না। বসে থাকি, কারণ যদি থাকে নসিবে, আপনি আপনি আসিবে।”

এদিকে অনেকেই মন্তব্য করছেন “ম্যাজিক বাউলিয়ানা’র এবারের আসরটিকে আলোচনায় নেওয়ার জন্য চিশতি বাউলকে বিচারকের আসনে না বসিয়ে প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড় করানো হয়েছে।

এমন অভিযোগের বিষয়ে মাছরাঙা টেলিভিশনের ডেপুটি ম্যানেজার (প্রোগ্রাম, ক্রিয়েটিভ ইনচার্জ) এবং ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানার’ স্ক্রিপ্ট রাইটার রুম্মান রশীদ খান সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, “চিশতি বাউল জনপ্রিয় ও গুণী মানুষ। এতে সন্দেহ নেই। ফলে তার সম্মানহানি হোক কিংবা তার নাম বিক্রি করে আমরা কোনো প্রচারণা চাই- সেটা কখনই মাছরাঙা কর্তৃপক্ষ সমর্থন করে না। চিশতি বাউল নিজ উদ্যোগেই এই প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। যেটা তিনি আগেও লিখিয়েছিলেন, কিন্তু সেবার তিনি হাজির হতে পারেননি “

উল্লেখ্য, লোকগান নিয়ে দেশের অন্যতম আয়োজন “ম্যাজিক বাউলিয়ানা”। বর্তমানে এটির চতুর্থ আসর চলছে। এবার মূল বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন বাউল শফি মণ্ডল, শাহনাজ বেলি ও আরিফ দেওয়ান। সারা দেশের ৫০ হাজারের বেশি প্রতিযোগী প্রাথমিক নিবন্ধন করেছিলেন। তবে মূল পর্বে জায়গা পেয়েছেন মাত্র ১৮ জন শিল্পী। এরমধ্যে ৬ জন করে তিনটি গ্রুপে সাজানো হয়েছে স্টুডিও রাউন্ড। যার একটি গ্রুপে আছেন চিশতি বাউল।

About

Popular Links