Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শুভ জন্মদিন, অ্যাশ!

৪৭ বসন্ত পেরিয়ে গেলেও বিশ্বব্যাপী অ্যাশকে নিয়ে মাতামাতি কমেনি একটুও

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:২৪ পিএম

পৃথিবী তার আবির্ভাব টের পায় ১৯৯৪ সালে। সে বছর “মিস ইন্ডিয়া” প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ এবং “মিস ওয়ার্ল্ড” খেতাব অর্জন করেন ঐশ্বরিয়া রায়। সেই শুরু। তারপর ৪৭ বসন্ত পেড়িয়ে গেলেও অ্যাশকে নিয়ে মাতামাতি কমেনি একটুও। তাই আজ এই বিশ্ব সুন্দরীর জন্মতিথিতে তাকে “শুভ জন্মদিন” জানিয়েই শুরু করছি। 

ঐশ্বরিয়া রায়ের পরিবার সংস্কৃতিমনা ও উচ্চ শিক্ষিত। বাবা উদ্ভিদ বিজ্ঞানী। ভাই ইঞ্জিনিয়ার। মা বৃন্দা রাই গৃহিনী। এ সংসারেই ১৯৭৩ সালের ১ নভেম্বর তার জন্ম। মাত্র ৫ বছর বয়সেই ধ্রুপদি সঙ্গীত ও নাচে দীক্ষা শুরু ঐশ্বরিয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় উৎসাহী ছিলেন সবসময়। প্রথমে প্রাণিবিদ্যায় ও পরে স্থপতি হওয়ার সাধ জাগে তার। কিন্তু বলিউডের রঙিন দুনিয়ার ডাকে সেই ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি। 

৯০-এর দশকের শুরু থেকে মডেলিং ক্যারিয়ার শুরু অ্যাশের। একের পর এক অংশ নিতে থাকেন বিউটি কনটেস্টে। জনপ্রিয়তা পান ৯৩ সালে একটি পেপসির বিজ্ঞাপন দিয়ে। বিজ্ঞাপনে অ্যাশের সহশিল্পী ছিলেন আরেক বলিউড তারকা আমির খান। এরপর থেকেই এই বিশ্ব সুন্দরী হয়ে ওঠেন “ভারতের ঐশ্বর্য”।

 মডেলিংয়ে ক্যারিয়ার দৃঢ় হওয়ার পর বড় পর্দায় নাম লেখান অ্যাশ। প্রথম ছবি তামিল ভাষায়। বরেণ্য নির্মাতা মনি রত্নমের আইয়ুভার। এটি ১৯৯৭ সালের কথা। এরপর নানা ভাষায় বহু পরিচালকের নির্দেশনায় ঐশ্বরিয়ার চলচ্চিত্র যাত্রা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। দেবদাসে “পারু” চরিত্রে তার অভিনয় দর্শক আজও মনে রেখেছে। সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত এ ছবিকে টাইম ম্যাগাজিন আখ্যায়িত করেছে সহস্রাব্দের সেরা ১০টি চলচ্চিত্রের একটি হিসেবে। 

তবে শুধু গ্ল্যামার সর্বস্বতা অ্যাশের ধরন নয়। ভারতীয় চলচ্চিত্রের “নক্ষত্র”খ্যাত প্রয়াত নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “চোখের বালি” উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রে “বিনোদিনী” চরিত্রে ঐশ্বরিয়ার বলিষ্ঠ অভিনয় সে সাক্ষ্যই বহন করে। 

দুনিয়ার তাবত চলচ্চিত্রবোদ্ধারা ঐশ্বরিয়াকে সমীহ করতে থাকেন তার “ব্রাইড এন্ড প্রিজুডিস” চলচ্চিত্রের কারণে। বিশ্বজুড়ে ২৪ মিলিয়ন ডলার আয় করে ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রটি। 

একই সঙ্গে রোলিং স্টোনস, গার্ডিয়ান, ভ্যারাইটি’র মতো প্রকাশমাধ্যম প্রশংসায় মুখর হয় এই ভারত সুন্দরীর। একের পর হলিউড ভেঞ্চারে কাজ করে নিজের বৈচিত্র্যময়তা প্রকাশ করেন অ্যাশ। সিনেমা যে কোনো নির্দিষ্ট দেশ, সমাজে বন্দি নয় বরং সর্বজনীন। ঐশ্বরিয়ার ক্যারিয়ার তারই প্রামাণ। রঙিন দুনিয়ায় তিনি হয়ে ওঠেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। 

ঐশ্বরিয়ার ব্যক্তিগত জীবনও পর্দার মতোই বৈচিত্র্যময়। ২০০৭ সালে অভিষেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বলিউডের বচ্চন পরিবারে অন্তর্ভুক্তি ঐশ্বরিয়ার ক্যারিয়ার আরও শক্তিশালী করে। এ দম্পতির একমাত্র মেয়ে আরাধ্য বচ্চন। 

সংবেদনশীল মা হিসেবেও বরাবরই আলোচিত অ্যাশ। তবে বিয়ে কিংবা সন্তান কোনো কিছুই তার ক্যারিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে প্রথম বারের মতো কান চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি বোর্ডে ঠাঁই পেয়েছেন ঐশ্বরিয়া। বিশ্বসেরা সব ব্যক্তিদের সঙ্গে এই ভারত সুন্দরীর ভাস্কর্যও শোভিত আছে মাদাম তুসো মিউজিয়ামে। অপরাহ উইনফ্রে’র তুমুল জনপ্রিয় শোতেও তিনি অংশ নিয়েছেন একাধিকবার। 

এখন পর্যন্ত ৪৬ টি চলচ্চিত্র ও অসংখ্য বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করা ঐশ্বরিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্টও উপচে পড়েছে মুদ্রায়। হয়েছেন জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত। 

চলচ্চিত্র দুনিয়ার বহু পুরস্কারের পাশাপাশি, ২০০৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে “পদ্মশ্রী” খেতাবে ভূষিত করেছে। 

অনন্য গুণ ও শারীরিক সৌন্দর্য্যরে অধিকারী ঐশ্বরিয়া রায়ের নীল নয়নের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। সেই চোখ জোড়াও মরণোত্তর দান করেছেন অ্যাশ। বিনোদন জগত তো বটেই, অ্যাশের মানবিকতার আলোয় পৃথিবীও বাঁচবে আরও বহু কাল।


ফ্রিল্যান্স লেখক ও সাংবাদিক হাসান শাওনের জন্ম, বেড়ে ওঠা ঢাকার মিরপুরে। পড়াশোনা করেছেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বাঙলা কলেজ, বাংলাদেশ সিনেমা ও টেলিভিশন ইনিস্টিটিউটে। ২০০৫ সাল থেকে তিনি লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত। কাজ করেছেন সমকাল, বণিক বার্তা, ক্যানভাস ম্যাগাজিন ও আজকের পত্রিকায়। 

২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর হাসান শাওনের প্রথম বই “হুমায়ূনকে নিয়ে” প্রকাশিত হয়।


 

About

Popular Links