Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পশ্চিমবঙ্গে প্রশংসিত নিশো ও ‘সুড়ঙ্গ’

মুক্তির দিন টলিউডের প্রথম সারির তারকারা ছবিটির জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৩, ০৪:৩৮ পিএম

ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত “সুড়ঙ্গ” সিনেমা দিয়ে রূপালি পর্দায় পা রেখেছেন আফরান নিশো। বাংলাদেশের কাঁটাতারের সীমান্ত পেরিয়ে “সুড়ঙ্গ” পৌঁছে গেছে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও। 

শুক্রবার (২১ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের ৩১টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের (২৭) চেয়েও বেশি।

শুধু মুক্তির মাধ্যমেই “সুড়ঙ্গ”র ভারত অভিযান থেমে যায়নি। মুক্তির দিন টালিগঞ্জের প্রথম সারির তারকারা ছবিটির জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশি সিনেমাটির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে কলকাতার জনপ্রিয় কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল। এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণ।

ভারতে “সুড়ঙ্গ” মুক্তি দিয়েছে শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস। এ উপলক্ষে শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় কলকাতার অ্যাক্রোপলিস মলে ছবিটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তারা। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে “সুড়ঙ্গ”র পরিচালক রায়হান রাফী বলেন, “শোয়ের আগে গিয়ে দেখি, শত শত মানুষের ভিড়। অন্য দেশে নিজের ছবি দেখতে দর্শকদের এমন আগ্রহ দেখে অন্য রকমের ভালো লাগা কাজ করছিল।”

মুক্তির দিন টুইট করে সুড়ঙ্গ টিমের প্রতি শুভকামনা জানান টলিউডের প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও শুভশ্রী গাঙ্গুলি। বুম্বাদা খ্যাত প্রসেনজিৎ বলেন, “‘সুড়ঙ্গ' টিমের প্রত্যেককে জানাই অসংখ্য শুভেচ্ছা।” অন্যদিকে, শুভশ্রী বলেন, “‘সুড়ঙ্গ' টিমের জন্য শুভকামনা।”

মুক্তির পর কলকাতার জনপ্রিয় কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল, সুড়ঙ্গ সিনেমার রিভিউ প্রকাশ করা হয়। চলচ্চিত্রবিষয়ক ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেল ফিল্ম কম্প্যানিয়ন লোকালে  বলিউডের (হিন্দি) বাইরে অন্য ভাষার সিনেমাগুলোর রিভিউ করা হয়। চ্যানেলটিতে রিরিভিউসহ সুড়ঙ্গ সিনেমার পর্যালোচনা করেছেন অরিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে সুড়ঙ্গ সিনেমার হল তালিকাসংগৃহীত


সিনেমাটি ক্ষণিকে ক্ষণিকে নিজের ঘরানা পাল্টাতে থাকে উল্লেখ করে অরিত্র জানান, “সুড়ঙ্গ” কিছুক্ষণ পরপর নিজের জনরা বদলাতে থাকে। ছবিটি শুরু হয় রোমান্টিক কমেডি হিসেবে। তখন পর্দায় রঙের ব্যবহার, দৃশ্যায়ন সবই ছিল রোমান্টিক কমেডির মতো। প্রথম আধঘণ্টা পর রোমান্টিক কমেডি থেকে রোমান্টিক ড্রামায় রূপ নেয়, সেখানেও শট নেওয়া থেকে রং বদলে যায়। 

তিনি আরও জানান, চরিত্রের মনের অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়ে একটি ওয়ান টেক দৃশ্যে পরিচালক লাল রঙের ব্যবহার করেছেন। পুরো ছবিতে জনরা বদলানোর সঙ্গে ছবির মুড, ক্যামেরা, কালার বদলের ব্যাপারটি দারুণভাবে করেছেন পরিচালক। এছাড়া পুরো সিনেমায় ওয়ান টেক শটের ব্যবহার, সিনেমাটোগ্রাফি, শিল্প নির্দেশনা, শব্দ গ্রহণ-কারিগরি দিকের প্রশংসা করেছেন অরিত্র।

আফরান নিশোর পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে অরিত্র বলেন, তিনি এমন এক অভিনেতা, যিনি বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন। পর্দায় মাসুদ চরিত্রটিকে বাস্তবের সঙ্গে আপনি মেলাতে পারবেন। পর্দায় মাসুদ যা করেছেন, সেটা আপনি কখনো না কখনো বাস্তবে হতে দেখেছেন। ছবিটিকে এককথায় বলতে গেলে বলতে হয়- এটা আফরান নিশো শো।”

তমা মির্জাসহ সিনেমার অন্যান্য শিল্পী, বিশেষ করে পুলিশ কর্মকর্তা আপেল খান চরিত্রে শহীদুজ্জামান সেলিমের অভিনয়েরও প্রশংসা করেছেন অরিত্র। চরিত্রটি দেখে অনুরাগ কশ্যপের “আগলি” সিনেমার পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করা গিরীশ কুলকার্নির কথা তার মনে পড়েছে।

তবে “সুড়ঙ্গ” সিনেমার একটি বিষয় নিয়ে সমালোচনাও করেছেন অরিত্র। সেটি অবশ্য পরিচালক রায়হান রাফির বাকি সিনেমাগুলোর সঙ্গে মিলিয়েই। সঙ্গে তুলনা করেছেন বলিউড পরিচালক লাভ রঞ্জনের সঙ্গেও। অরিত্র বলেন, “লাভের মতো রাফীর সিনেমায়ও নারী চরিত্রকে নেতিবাচকভাবে দেখানো হয়।”

কলকাতার আরেক জনপ্রিয় ইউটিউবার রূপমও “সুড়ঙ্গ” সিনেমার প্রশংসা করেছেন। আফরান নিশোর অভিনয়কে “সুড়ঙ্গ” সিনেমার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক উল্লেখ করে নিজের চ্যানেল রূপমস রিভিউয়ে তিনি বলেন, “যারা ছবিটি দেখেননি, তারা অনুমানও করতে পারবেন না ছবিতে তিনি কী পর্যায়ের পারফরম্যান্স করেছেন। আমি জানি না, আমাদের এখানে (পশ্চিমবঙ্গে) কোন অভিনেতা এই চরিত্রে অভিনয় করতে পারবেন।”

অরিত্রের মতো রূপমও নির্মাণসহ সিনেমাটির কারিগরি দিকের প্রশংসা করছেন। সুড়ঙ্গের ভেতর ওয়ান টেক শটের ব্যবহারের প্রশংসা করেছেন তিনি। তবে রুপমের ধারণা, প্রথমার্ধে দুর্দান্ত শুরুর পর দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটি কিছুটা গতি হারায়। কিন্তু শেষদিকটা এতই দুর্দান্ত যে সিনেমাটি আবার আগের ফর্মে ফিরে আসে।

আরেক ইউটিউবার সাগরনীল তার আর্টিস্টিক সেভেনথ সেন্সে দেওয়া রিভিউয়ে “সুড়ঙ্গ” নিয়ে বলেন, “কেবল ভিজ্যুয়াল দিয়ে বিচার করলে আমি সেসব বাংলাদেশি সিনেমা দেখেছি, ‘সুড়ঙ্গ' সেগুলোর অন্যতম। কালার, সাউন্ড ডিজাইনও ভালো-সব মিলিয়ে এটি যে বাংলাদেশের কাজ, দেখার সময় তা মনেই থাকে না। ক্যামেরার কাজ দুর্দান্ত। একটা দৃশ্য আছে, মাসুদ একটা কিছু দেখছে; সেই দৃশ্যটি ওয়ান টেকে যেভাবে শুট করে কালারের ব্যবহার হয়েছে, বাংলা সিনেমায় তা বিরল।”

অন্য সবার মতো আফরান নিশোর প্রশংসা ঝরেছে সাগরনীলের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “ছবিটি যারা দেখেছেন, তাদের মনে হবে, মাসুদ চরিত্রটি আফরান নিশো ছাড়া আর কেউই করতে পারতেন না। নিশো নিজের পুরো শরীর দিয়েই যেন অভিনয় করেছেন। বাঙালি অভিনেতারা শরীর দিয়ে অভিনয় করেন না, যেটা বলিউড বা দক্ষিণি তারকারা করেন। কিন্তু নিশো তা করে দেখিয়েছেন। ছবিতে তার হাত-পাও কথা বলে।”

তবে ছবির কিছু নেতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন সাগরনীল। তিনি বলেন, “রায়হান রাফীর সিনেমার নারী চরিত্রের পরিণতি কী হবে, সেটা অনেক দর্শক আগেই অনুমান করায় টুইস্টের শকিং ভ্যালু কিছুটা কমে গেছে।”

About

Popular Links