Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

একদিন হলিউড শিল্পীদের সঙ্গে আন্দোলনে নেমেছিলাম, দেশে ফিরে বললেন জায়েদ

নিজের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বেশ আলোচনায় আছেন জায়েদ খান

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৩, ০৩:৫১ পিএম

সিনেমার চেয়ে বাইরের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় বেশি থাকেন জায়েদ খান। মাসখানেক আগেই “ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড”-এ অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান এ চিত্রনায়ক। মার্কিন মুলুকে নিজের এ সফর নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বেশ আলোচনায় আছেন জায়েদ খান।

দীর্ঘ এক মাসের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে রবিবার (৩০ জুলাই) ভোরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন এ অভিনেতা। বাংলাদেশে ফিরে যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি।

দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হলিউডের লেখক ও অভিনয় শিল্পীদের ধর্মঘট চলছে। এ ধর্মঘটে নিজের শামিল হওয়ার কথা জানিয়ে জায়েদ খান বলেন, “হলিউডে এখন আন্দোলন চলছে। ওই সময় আমি লস অ্যাঞ্জেলসে ছিলাম। আমি তাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “একদিন দেখলাম হলিউডের সব শিল্পী রাস্তায় নেমে আন্দালন করছে। আমিও তাদের সঙ্গে আন্দোলনে রাস্তায় নামলাম। সেখানে স্থানীয় চ্যানেলগুলো আমার কাছে এসেছিল। আমি বলেছি, শিল্পী সব জায়গায় শিল্পী। এখানে কোনো দেশ নেই।”

জায়েদ খানকে ঘিরে আলোচনার অধিকাংশই তার ব্যক্তিগত জীবন বিষয়ক মন্তব্যকে ঘিরে। যার বেশিরভাগ জুড়েই রয়েছে প্রেম, বিয়ে এবং নারী ভক্ত সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য। “নারীরা তার জন্য পাগল”- এ ধরনের কথাবার্তা বলে সম্প্রতি অনেকবারই খবরের শিরোনামে এসেছেন ঢাকাই সিনেমার এ অভিনেতা-সংগঠক।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জায়েদ খান জানান, নারীদের কাছ থেকে তিনি যত প্রেম নিবেদন পেয়েছেন- তা অবিশ্বাস্য। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে তিনি বলেছিলেন, “নিউইয়র্কের ২৫ জন নারী একসঙ্গে হয়ে তাকে ভিডিও কল দিয়েছেন। তো মার্কিন মুলুকে নারী ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলেন, “আপনারা ফেসবুকে দেখেছেন যে যেখানেই গেছি, সবাই ঘিরেই ধরে ছবি তুলেছে। ফেসবুকে অসংখ্য ছবি হয়েছে।”

জায়েদ খানের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আলোচনার একটি বড় অংশ ছিল পুরস্কারপ্রাপ্তি। গত ২১ জুলাই বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করে, যুক্তরাষ্ট্রে “ইনস্টিটিউট অব পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি রিসার্চ” এবং "হিউম্যানিটারিয়ান ফোকাস ফাউন্ডেশন" নামে দুটি সংস্থা যৌথভাবে সারা বিশ্ব থেকে ৪০ জন ব্যক্তিকে "দ্য হিউম্যানিটারিয়ান লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড" দিয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ডেলিগেটদের ডাইনিং রুমে এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

খবরটি ঢালিউডের এই অভিনেতা নিজেও তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করেন। তিনি জানান, কোভিড -১৯ মহামারি চলাকালীন শিল্পীদের জন্য খাদ্য সহায়তাসহ তার বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমের কারণে সংস্থাটি তাকে এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত করেছে। যদিও পরবর্তীতে জানা যায়, জায়েদ খানকে পুরস্কৃত করা “ইনস্টিটিউট অব পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি রিসার্চ” জাতিসংঘের অনুমোদিত কোনো সংস্থা না।

এতে আরও বেশি করে জায়েদ খানকে নিয়ে সমালোচনা ও হাস্যরস শুরু হয়। এমনকি এ ঢালিউড অভিনেতা অর্থের বিনিময়ে পুরস্কার কিনেছেন বলে অভিযোগ করেন অনেকে। তবে দেড় দশকের ক্যারিয়ারে ২০টির মতো সিনেমায় অভিনয় করা জায়েদ খান বলেন, “টাকা দিয়ে পুরস্কার কেনার সামর্থ্য আমার নেই। আর এই টাকা দিয়ে পুরস্কার কিনে আমার কিছু করারও নেই। কেননা আমি কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করব না।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকে নানা কথা বলছেন। এসব নিয়ে আমি কোনো কথা বলব না। ভালো কিছু করতে গেলে কথা হবেই। আমি শুধু একটা কথাই বলব, সমালোচনা করে তারাই, যারা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না। আমি অর্জন করেছি, এই অর্জন আমার। যারা সমালোচনা করে তারা সমালোচনা করবে। আপনি পৃথিবীতে শত ভালো কাজ করলেও কোনো আলোচনা হবে না। সবার উৎসাহিত করা উচিত ছিল যে, আমার বাঙালি ভাই তো পেয়েছে।”

৩০ জুলাই জায়েদ খানেন জন্মদিন। জীবনের ৪৩টি বসন্ত পার করে ৪৪ বছরে পা দিলেন এ ঢালিউড তারকা। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে জন্মদিনে দেশে ফেরা নিয়ে এ অভিনেতা বলেন, “আমার জন্মদিন আজ (রবিবার)। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় পর আজ দেশে এলাম। জন্মদিনের সবচেয়ে বড় চমক হলো বিমানবন্দরে আমার জন্য অনেক মানুষ অপেক্ষা করছেন। শুভেচ্ছা, ভালোবাসা জানিয়েছেন। এটিই জন্মদিনে আমার বড় পুরস্কার।”

About

Popular Links