Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সরে দাঁড়ানোর কারণ জানাতে এসে আলম বললেন, ‘নির্বাচন করব’

‘মাঠ থেকে সরে গেলে কথা উঠছে, হিরো আলম নাকি লাখ লাখ টাকা নিয়ে মাঠ থেকে সরে যাচ্ছে’

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:২৫ পিএম

কদিন আগেই নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) সরে দাঁড়ানোর কারণ জানানোর কথা ছিল। কিন্তু এদিন তিনি ফের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বললেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের প্রার্থী হিরো আলম। রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করলেও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি।

রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম বলেন, “কোনো চাপের কারণে নির্বাচনের মাঠে থাকছি এমনটা নয়। কারণ হিরো আলমের কোনো উপদেষ্টা নেই, কারো কথা শুনে হিরো আলম নির্বাচন করেনি, অতীতেও হিরো আলম নির্বাচনে মাঠে একা ছিল, এখনও একা আছে। কারও কথায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করিনি। আমার মনে হয়েছে এই নির্বাচন করে কোনো লাভ হবে না।”

হিরো আলম বলেন, “সরকার যে ৩০০ আসনের নির্বাচন করছে তার মধ্যে দলীয় প্রার্থীও দিয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীও দিয়েছে। তাহলে আমরা আমজনতা যারা নির্বাচন করছি তাদের কিন্তু কোনো আসনই নেই। সবকিছু মিলিয়ে মনে হয়েছে, আমি নির্বাচন করব না। এটা পাতানো নির্বাচন। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।”

বৃহস্পতিবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেন হিরো আলম। তিনি বলেছিলেন, “এবার আর নির্বাচন করব না। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করব। আগামী ১৭ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করব। প্রত্যাহারের কারণ এখনই কাউকে বলব না। ১৭ ডিসেম্বর সব কারণ সবাইকে বলব।”

তবে ফের সিদ্ধান্ত বদলানোর ব্যাপারে হিরো আলম বলেন,  “এই নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে গেলে কথা উঠছে, হিরো আলম নাকি লাখ লাখ টাকা নিয়ে মাঠ থেকে সরে যাচ্ছে। আমার এলাকার মানুষজন জানতে চাচ্ছে, আমি টাকা নিয়ে কেন নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছি। এই কথার কারণে আমি আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে থাকছি। আমি নির্বাচন করব।”

নির্বাচন নিয়ে নানা সময়ে সিদ্ধান্ত পাল্টিয়েছেন হিরো আলম। এবারের সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন হিরো আলম। এর আগে, বাংলাদেশ জনদলের (বিজেডি) প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা জানিয়েছিলেন হিরো আলম। এই দলের হয়ে মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে হিরো আলম মনোনয়নপত্র জমা দেন।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া-৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (একতারা প্রতীক) হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন হিরো আলম। এর মধ্যে বগুড়া-৪ আসনে ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাসদের এ কে এম রেজাউল করিমের কাছে ৮৩৪ ভোটে হেরে যান তিনি। এরপর ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে আবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরে গেলেও নির্বাচনের দিন তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তখন এ হামলার প্রতিক্রিয়ায় হিরো আলম আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আর নির্বাচন করবেন না বলে মন্তব্য করেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন হিরো আলম। যাচাই-বাছাইয়ের দুই দফায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। পরে উচ্চ আদালতে গিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি। সেবার সিংহ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন হিরো আলম। তবে নির্বাচনের দিন কারচুপি ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ নামের একটি সংগঠনে হিরো আলমের যোগদানের কথা জানা যায়। যোগদানের পর সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধাও জানাতে যান।

About

Popular Links