পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বনের নাম বললে অনেকেই আমাজনের কথা ভাবেন। তবে বাস্তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বন আমাজন নয়, বোরিয়াল বন বা তাইগা। প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বন পৃথিবীর মোট বনভূমির প্রায় এক-তৃতীয়াংশজুড়ে রয়েছে, যা আয়তনে আমাজন রেইনফরেস্টের চেয়েও অনেক বড়। প্রায় ৫৫ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আমাজন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৃষ্টিপ্রধান অরণ্য (রেইনফরেস্ট) হলেও সব ধরনের বন বিবেচনায় এটি বোরিয়াল বনের তুলনায় অনেক ছোট।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই বন উত্তর গোলার্ধজুড়ে একটি সবুজ বলয়ের মতো বিস্তৃত। রাশিয়া, কানাডা, আলাস্কা, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ডসহ মোট আটটি দেশে এর বিস্তার রয়েছে। এর সবচেয়ে বড় অংশ রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত, যা একাই আমাজনের চেয়েও বড়।
অনেকেই বোরিয়াল বন সম্পর্কে জানেন না, কারণ এটি বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম বনাঞ্চলগুলোর একটি। বিশাল এই বনভূমির অধিকাংশ এলাকায় মানুষের বসতি নেই। ফলে বনটি এখনো তুলনামূলকভাবে প্রাকৃতিক অবস্থায় টিকে আছে।
উত্তর আমেরিকার বোরিয়াল বন আলাস্কা থেকে কানাডা হয়ে নিউফাউন্ডল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অঞ্চলে রয়েছে ১০ লাখেরও বেশি হ্রদ, নদী ও জলাভূমি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিঠাপানির বাস্তুতন্ত্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই বন পরিযায়ী পাখি ও অসংখ্য বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।
বোরিয়াল বন বিশ্বের অন্যতম শীতল পরিবেশের একটি। পূর্ব সাইবেরিয়ার তাইগা অঞ্চলের ওইমিয়াকন এলাকায় শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে নেমে যায়। বছরে মাত্র প্রায় ৮০ দিন গাছপালার বেড়ে ওঠার সুযোগ থাকে। এখানকার প্রধান বৃক্ষ স্প্রুস, পাইন, ফার ও লার্চ।
‘তাইগা’ শব্দটি রুশ ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘ছোট লাঠির দেশ’। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে এখানকার গাছগুলো তুলনামূলক চিকন ও সোজা হয়ে বেড়ে ওঠে বলেই এমন নামকরণ।
কঠিন আবহাওয়া সত্ত্বেও এই বন নেকড়ে, বাদামি ভালুক, বনবিড়াল, উলভারিনসহ নানা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। তবে বোরিয়াল বনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রাণী হলো সাইবেরিয়ান বাঘ। পৃথিবীর একমাত্র বাঘ, যাকে বরফে ঢাকা বনভূমিতে বিচরণ করতে দেখা যায়।



