Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মঙ্গলে মানুষ যেতে আর কতো দেরি?

প্রতিবেশী এই গ্রহটিতে মানুষ পাঠাতে কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে? কতো সময়েই বা লাগতে পারে সেখানে পৌঁছাতে?

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৪০ পিএম

চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন মানুষের অনেক আগে থেকেই ছিল। মহাকাশে মানুষের বিচরণের কয়েক বছরের মধ্যেই সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এরপর মানুষ চোখ রাখে মঙ্গলের দিকে। লাল রঙের এই গ্রহটিতে পৌঁছানোর ইচ্ছাও মানুষ বহুবছর ধরে লালন করে আসছে। কিন্তু খুব সহসাই সে ইচ্ছা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নাসা মঙ্গলে ইতোমধ্যে একাধিক রোবট পাঠালেও মানুষের পায়ের ছাপ সেখানে কবে পড়বে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। 

প্রতিবেশী এই গ্রহটিতে মানুষ পাঠাতে কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে? কতো সময়েই বা লাগতে পারে সেখানে পৌঁছাতে? চলুন দেখা যাক-

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানাচ্ছে, মঙ্গলে মানুষের পদার্পণ বাস্তবে পরিণত করতে আগামী অন্তত দুই দশক সময় লাগতে পারে।

সূর্যের চারপাশে পৃথিবী ও মঙ্গলগ্রহের ঘুর্ণনের গতি ও অবস্থানের কারণে পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্ব ৩ কোটি ৪০ লাখ মাইল থেকে ২৫ কোটি মাইলের মধ্যে থাকে। গড়ে এই দুই গ্রহের দূরত্ব ১৪ কোটি মাইল। 

বর্তমানে মহাকাশযানগুলোর যে গতি, তাতে পৃথিবী থেকে মঙ্গলে পৌঁছাতে মোটামুটি নয়মাসের মতো লাগবে। 

মঙ্গলে নাসা যে মনুষ্যবিহীন মহাকাশযান পাঠিয়েছে সেগুলো পৌঁছাতে ১২৮ দিন থেকে ৩৩৩ দিন সময় নিয়েছে।

তবে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রেইগ প্যাটেন বললেন, মঙ্গলে যাত্রার এই সময়টি আরও সংক্ষিপ্ত করা সম্ভব অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়ানোর মাধ্যমে, তবে এটিও খুব গ্রহণযোগ্য উপায় না। 

নাসা এখন মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর মিশনে পাঁচ ধাপ বিশিষ্ট এক পরিকল্পনা করছে যেখানে গ্রহটিতে যাওয়া ও পৃথিবীতে ফিরে আসাসহ মোট তিনবছর সময় লাগবে। 

মঙ্গলের মিশনে নভোচারীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কেমন হবে তা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। 

ট্রান্সল্যাশনাল রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর স্পেস হেলথ- এর পরিচালক ডরিট ডোনোভিয়েল জানালেন, চ্যালেঞ্জের প্রথম কারণটি হলো যাত্রার দৈর্ঘ্য। 

যেহেতু নভোচারীরা ৩টি বছর পৃথিবীর বাইরে থাকবে, সেক্ষেত্রে যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান মহাকাশে থেকেই করতে হবে। আর তাই ছোটখাটো যে কোনো সমস্যাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ধরা দেবে। 

"সাধারণ একটি কিডনির পাথরের সমস্যাও সেখানে জীবন-মৃত্যুর ব্যাপার হতে পারে," বলেন ডোনোভিয়েল। 

তিনি আরও বলেন, "মিশনে নিয়মিত ঘটা সাধারণ সমস্যাগুলো ছাড়াও মহাকাশ ও মহাকাশযানের পরিবেশে পরিস্থিতি খুবই প্রতিকূল হয়ে উঠতে পারে। তাই আমরা এমন এক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে যাচ্ছি যেখানে নভোচারীরা তাদের স্বাস্থ্যের যত্ন যেন নিজেরাই নিতে পারে।"

এত দীর্ঘদিন মহাকাশযানের ভেতরে ছোট্ট পরিসরে থাকার ফলে নভোচারীদের মানসিক অবস্থা কেমন হবে তা নিয়েও ভাবতে হবে গবেষকদের। 

মঙ্গলের মাটিতে যখন তারা পৌঁছাবে, তখনও স্পেসস্যুটের ভেতরেই তাদের থাকতে হবে। কারণ, মঙ্গলের তাপমাত্রা খুবই চরমভাবাপন্ন এবং তা একদিনের মধ্যেই ১৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত বদলে যেতে পারে। 

এসব ছাড়াও, গড় তাপমাত্রা শূন্যের নিচে থাকা এই গ্রহটির বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণই বেশি। 

আর তাই এত সব চ্যালেঞ্জের কারণেই কবে ও কীভাবে মানুষের পক্ষে সফলভাবে মঙ্গল মিশন করা সম্ভব হবে সে ব্যাপারে অনেক হিসেব-নিকেশ বাকি আছে। 




About

Popular Links