Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শীতে খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখবেন যেসব খাবার

শীতকাল ভোজনরসিকদের জন্যও আদর্শ সময়। শীতের কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:১৮ পিএম

শীত উপভোগ করতে ও শরীর সুস্থ রাখার জন্য খাদ্যতালিকায় রাখা চাই পুষ্টিকর খাবার। শীতের সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ঠাণ্ডা-কাশির মতো রোগবালাই দূর করতে শীতের খাদ্যতালিকায় গমের তৈরি রুটি, ননীবিহীন দুধ, চর্বিহীন প্রোটিন ইত্যাদি রাখা উচিৎ। পাশাপাশি দরকার পর্যাপ্ত ঘুম।শীতকাল ভোজনরসিকদের জন্যও আদর্শ সময়। শীতের কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। চলুন দেখে নেই সেসব শীতের খাবার।

পানি

শরীর ভেতর থেকে সুস্থ থাকলেই ত্বক উজ্জ্বল রাখা সম্ভব। শীতের শুরু ও শেষের সময়ে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দেয়। কারণ, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে আমাদের পানি পান করা কমে যায়। শীত বাড়লেও আমাদের পানি পান করা যেন কমে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যারা ঠাণ্ডাপানি খেতে পারেন না তারা হালকা কুসুম গরমপানি খেতে পারেন। শীতে চুল পড়া বেড়ে যায়, চুলে খুশকি হয়। চুলের যত্নে প্রয়োজনীয় পানি পান করুন। মাঝেমাঝে ডাবের পানি, ফলের রসও পান করতে পারেন। সারাদিনে তিনবেলার খাবারের মেন্যুতে রাখতে পারেন গরম দুধ, লিকার চা, তিন-চার ফোঁটা লেবুর রস। এটি পানির সঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও কাজ করবে। শীতে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে।

স্যুপ

শীতে শরীর সুস্থ রাখতে স্যুপ বা ঝোল দারুণ উপকারী। শীতেই মেলে স্যুপের আসল মজা। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় গরম-গরম চুমুক। শীতের বিকেলে বা রাতের খাবারে ধোঁয়া ওঠা এক বাটি স্যুপ হলে কিন্তু মন্দ হয় না। এতে শরীর থেকে একটু হলেও কাটবে ঠাণ্ডার রেশ। শরীর সুস্থ রাখতে শীতের সময় নানা সবজি আর মুরগির মাংস বা ডিম দিয়ে বানিয়ে খেতে পারেন স্যুপ।

পালংশাক

শীতে বাজারে পালংশাক প্রচুর পাবেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও শীতে সুস্থ থাকতে পালংশাক খেতে পারেন। পুষ্টিতে ভরপুর পালংয়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্যানসার প্রতিরোধী গুণের কারণে এটি “সুপারফুড” হিসেবে পরিচিত। সবুজ পাতার এ শাক দ্রুত পেটের চর্বি কমাতে পারে। পালংয়ে ভিটামিন ও মিনারেল আছে, এতে ক্যালরি থাকে কম। তাই ওজন কমাতে খাবারে বেশি করে পালং রাখতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ওজন বেশি, তারা নিয়মিত পালংশাক খেলে বাড়তি ওজন কমে যায়।

মূলজাতীয় সবজি

শীতের রোগবালাই দূর করতে মৌসুমের মূলজাতীয় সবজি দারুণ কার্যকর। বিট, মিষ্টি আলু, গাজর, শালগমের মতো নানা সবজি শীতে আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। এসব সবজিতে থাকা ভিটামিন ও নানা পুষ্টি উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। এগুলো ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়াতে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এসব সবজি শীতকালে দেহের উষ্ণতা বাড়াতে সাহায্য করে।

টক ফল

শরীরে ফাইবার বা আঁশের ঘাটতি মেটাতে ও ভিটামিন সির জোগান দিতে শীতের সময় বেশি করে টকজাতীয় ফল খেতে পারেন। কমলা, বরই, পেয়ারা হতে পারে ভিটামিন সির দারুণ উৎস। পেয়ারায় আরও অনেক বেশি ভিটামিন সি থাকে, যা অনেক বেশি প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এতে আরও থাকে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। 

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি ও পথ্যবিদ শামছুন্নাহার নাহিদের তথ্য অনুযায়ী, বরইয়ে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ আছে নানা কিছু। রোগ প্রতিরোধে যেমন ভূমিকা রাখে, অন্যদিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়। বরই সবার জন্য ভালো হলেও ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য কিন্তু না। পাকা বরইয়ে চিনি থাকে তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের পাকা বরই না খাওয়াই ভালো।

কমলা

শীতের খাবার হিসেবে কমলা ভালো একটি সাইট্রাস জাতীয় ফল। এরমধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শীতকালে বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে শরীরকে রক্ষা করবে। আর ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতেও সাহায্য করে।

ডিম

ডিমের মধ্যে রয়েছে নয়টি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও আয়রন। বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে প্রতিরোধে ডিম কার্যকর। ডিমে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন, যেমন—বি২, বি১২, এ ও ই; রয়েছে জিংক, ফসফরাস এবং প্রয়োজনীয় মিনারেল। শীতের খাবার হিসেবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাই ডিম রাখতে পারেন। শুধু শীত নয়, সারা বছরই ডিম আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু ভাল মানের ডিম না খাওয়ার কারণে সেই উপকার থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি প্রতিনিয়ত। ডিমের সমস্ত উপকারীতা পাওয়ার জন্য খান অর্গানিক এগস।

আদা

শীতকালে আদার চা না হলে কী হয়? সকালে এক কাপ রঙ চা আদাসহ – এ যেন এক পরম পাওয়া! অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আদা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। এটি শরীরের রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন ধরনের ফ্লু প্রতিরোধে কাজ করে। প্রতিদিন সকালে শীতের খাবার হিসেবে তাই আদা রাখুন।

কাঠবাদাম

কাঠবাদাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর একটি খাবার। এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই শীতের খাবার হিসেবে এর কদর বেশ।

মাশরুম

মাশরুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শীতে ঠান্ডা ও ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে মাশরুম খুব উপকারী। তাই শীতের খাবার হিসেবে আপনার খাদ্যতালিকায় অবশ্যই মাশরুম রাখুন!

রসুন

জ্বর ও ঠাণ্ডার জাতীয় রোগব্যাধির জন্য রসুন খাওয়া ভালো। রসুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে কাঁচা রসুন সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তবে হজমে সমস্যা হলে রসুন রান্না করেও খেতে পারেন। শীতের সময় তাই রসুন সেবন করুন।

মধু

জ্বর ও ঠাণ্ডা প্রতিরোধে মধু সবচেয়ে নিরাপদ খাবার। শীতের খাবার হিসেবে তো মধুর কোন জুড়িই নেই। মধুর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে। ঘুমানোর আগে বা সকালের নাশতার সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। ভালো হয় এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলেও। মধু শুধু শীতকালে নয়, সারাবছরই আমাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম। 

হরেকরকম সবজি

শীতকাল মানেই হরেকরকম সবজির সমাহার। শীতের খাবার হিসেবে প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় সবুজ পাতার সবজি রাখুন। এতে প্রচুর ভিটামিন “এ”, ‘সি’ ও ‘কে’ থাকে। এছাড়া হালকা হলুদ ও ফ্যাকাসে সবুজ পাতা বা শাকে প্রচুর ফলেট থাকে, যা গর্ভবতী মা ও বাড়ন্ত শিশুদের জন্য অনেক ভালো। শীতের সবজিতে আরো রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা পলিস্যাকারাইড নামের শর্করা। সাধারণত হালকা সিদ্ধ সবজিতে পরিপূর্ণ পুষ্টি পাওয়া যায়। তবে সবজি সিদ্ধ করে পানি ফেলে দেওয়া যাবে না। রান্নার সময় চেষ্টা করতে হবে যেন সবজির রং নষ্ট না হয়। এই সবুজ রঙের সবজির মধ্যে আছে পুঁইশাক, বাঁধাকপি, পাটশাক, পালংশাক ইত্যাদি।

গ্রিন টি

গ্রিন টির মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। শীতেরদিনে দুই থেকে তিন কাপ গ্রিন টি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। কিন্তু বাজারে যে গ্রিন টি পাওয়া যায় তা অনেকক্ষেত্রেই ভেজালযুক্ত থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী নয়। 

About

Popular Links