Friday, June 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করবে যেসব খাবার

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি, কেবলমাত্র কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার কারণে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:১৯ পিএম

হৃদযন্ত্র মানুষের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি আমাদের সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ করে থাকে। বাংলাদেশসহ বিশ্বে বর্তমানে যেসকল রোগে মানুষের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক (হৃদরোগ)।

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি। কেবলমাত্র কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার কারণে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। পাশাপাশি হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের মতো কার্ডিওভাস্কুলার রোগ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ লোক হৃদরোগের কারণে মারা যায়। হৃদযন্ত্রের অসুখের আশঙ্কা বাড়ায় রক্তের ভেতরে ভাসমান তরল চর্বি কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড। তাই এসব চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেতন থাকা জরুরি। তবে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে সাহায্য করে কিছু খাবার।

কোলেস্টেরলকে “ভালো” আর “খারাপ” দু’ভাগে ভাগও করেছেন চিকিৎসকরা। এমনিতে প্রতিদিনই মানুষের শরীরে কোলেস্টেরল তৈরি হয়। প্রতি গ্রাম কোলেস্টেরল তৈরিতে পুরো একটাদিন সময় নেয় যকৃত। তার ওপর প্রতিদিনের খাবার থেকেও অল্প পরিমাণ কোলেস্টেরল শরীরে প্রবেশ করে। তাই খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড, ধূমপান, অ্যালকোহল, শরীরচর্চায় অনীহা, মানসিক চাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির অসুখ এসব কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়িয়ে দেয় অনেকটা।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের দিকে খেয়াল রাখলে এ সমস্যাকে অনেকটাই আয়ত্তে আনা যায়। শরীরচর্চা না করতে পারলেও অন্তত হাঁটাহাঁটি করুন প্রতিদিন। খারাপ কোলেস্টেরলকে কমিয়ে ফেললে এমনিই শরীরে ভালো কোলেস্টেরল তার ভূমিকা পালনে অনেকটা সক্রিয় হয়ে উঠবে।

আসুন জেনে নেই কোন খাবারগুলো খেলে কোলেস্টরেল দ্রুত কমবে।

ওটস

আপনি যদি আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত কমাতে চান, শুধু সকালের নাস্তাটা পরিবর্তন করে ফেলুন। প্রতিদিনকার নাস্তার পরিবর্তে ওটস খাওয়া শুরু করুন। এটি ৬ সপ্তাহের মধ্যে ৫.৩% পর্যন্ত কোলেস্টেরল কমিয়ে দিতে সক্ষম। ওটসে বিদ্যমান ফাইবার লিপিড বা চর্বি কমায়। ওটসে রয়েছে অতিউচ্চ মাত্রার সহজে দ্রবণীয় বেটা-গ্লুকান যাশরীরেরজন্যে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে বেশ সহায়ক ভুমিকা পালন করে। ওটসের ডায়েটারিফাইবার কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, খিদে কমায় এবং পেট পরিষ্কার রাখে।

স্যামন ও ফ্যাটি ফিশ

ওমেগা-থ্রি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর অন্যতম উপাদান। লোমা লিন্ডা ইউনিভার্সিটিরএক গবেষণায় দেখা গেছে সাধারণ চর্বি জাতীয় খাবারের চেয়ে ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ ফ্যাটি অ্যাসিড যেমন স্যামন মাছ, অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ কোলেস্টেরলের মাত্রা শতকরা ৪ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়ে থাকে।

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট-সম্বৃদ্ধ ফল ও সবজি

সব ধরনের সবজি ও ফল আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমাতে সাহায্য করে। বিশেষত যেসব সবজিতে ভিটামিন সি ও বিটা ক্যারোটিন রয়েছে সেগুলো বেশি খেতে হবে।

ভিটামিন সি: ভিটামিন সি রয়েছে সব ধরনের সাইট্রাস ফলে। যেমন : কমলা, গ্রেপফল, লেবু ইত্যাদি। সব ধরনের বেরি জাতীয় ফল। যেমন : ক্র্যানবেরি, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরিইত্যাদি। পেয়ারা ও আমের মধ্যেও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ক্যাবেজ বা বাঁধাকপি পরিবারের খাবারেও আছে ভিটামিন সি। যেমন : সবুজ বা চায়নিজ বাঁধাকপি, ব্রকোলি ইত্যাদি। ভিটামিন সি-এর আরেকটি ভালো উৎস হচ্ছে মরিচ।

বিটা ক্যারোটিন : গাঢ় হলুদ ফলে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। যেমন : আম, হলুদ পিচফল, কাঁঠাল ইত্যাদি। সবজির মধ্যে যেমন : কুমড়া, মিষ্টি আলু, কাঠবাদাম, গাজর ইত্যাদির মধ্যেও বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। এ ছাড়া গাঢ় সবুজ সবজি যেমন : ব্রকোলি, বাঁধাকপি ইত্যাদি খেতে হবে শরীরে বিটা ক্যারোটিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য।

যদি আপনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় তবে অবশ্যই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এগুলো রাখতে হবে।

বাদাম

অনেকের ধারণা বাদাম কোলেস্টেরলের লেভেল বৃদ্ধি করে থাকে। কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। অ্যামেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন এক পরীক্ষায় দেখেছেন যারা১.৫ আউন্স কাজুবাদাম সপ্তাহে ৬ দিন করে এক মাস খেয়ে থাকেন, তারা তাদের কোলেস্টেরলের লেভেল ৫.৪ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারেন। কাজুবাদাম, কাঠ বাদাম উভয়ই শরীরে জন্য স্বাস্থ্যকর। তবে বাদামে ক্যালরির পরিমাণ বেশি হওয়ায় এর ১.৫ আউন্সের বেশি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

গ্রিন টি

গ্রিন টিতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা শরীরের ২% পর্যন্ত কোলেস্টেরল কমিয়ে দিতে পারে। অন্যান্য চায়ের তুলনায় গ্রিন টি বেশি উপকারী।আলগা চা পাতা দিয়ে চা তৈরি করার চেয়ে টি ব্যাগ দিয়ে তৈরি চা বেশি কার্যকর।৬। রসুন

রসুন কোলেস্টেরল হ্রাস করে, রক্তের জমাট বাঁধা, ব্লাড প্রেসার হ্রাস করে ইনফেকশন প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন ২ থেকে ৪ কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটি হার্ট সুস্থ রাখার পাশাপাশি কোলেস্টেরল হ্রাস করে।

অলিভ অয়েল

রান্নায় সাধারণ তেল ব্যবহারের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন। এটি আপনার কোলেস্টেরল কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পেটের মেদ কমিয়ে দিতে সাহায্য করে।

এছাড়া মাছের তেলে প্রচুর ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। তাই এই তেল শরীরের জন্য ভালো। খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ ও মাছের তেল রাখতে হবে।



About

Popular Links