Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাধারণ জ্বর না নিউমোনিয়া, বুঝবেন যেভাবে

সাধারণ জ্বর-সর্দি-কাশি সময়ের সঙ্গে ওষুধপত্র খেতে খেতে কমে। এই অসুখে জ্বর তো কমেই না, উল্টে তা উচ্চ তাপমাত্রায় থেকে যায় বা বাড়তে থাকে

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২০, ১২:২৬ পিএম

শীতে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ে। ব্যাকটিরিয়া ছাড়াও ছত্রাক ও ভাইরাসঘটিত কারণেও শরীরে দানা বাঁধতে পারে নিউমোনিয়া। তাই নিউমোনিয়ার নানা প্রকারভেদও রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, হেমন্তে শীত পড়তে শুরু করলেই এই অসুখের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে ব্যথা হয় অনেকের ক্ষেত্রেই। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে রোগীর ভাল হওয়ার সম্ভাবনা ততই বাড়বে। মূলত ক্রনিক ঠাণ্ডা লাগা, বুকে শ্লেষ্মা জমে থাকার সূত্র ধরেই এই অসুখ ছড়ায় বলে বর্ষার পর হঠাৎই শরতের আবহাওয়া পরিবর্তন ও হিম পড়া শুরু হওয়ার সময়টাই এই অসুখের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। শীতকালে উপযুক্ত আবহাওয়া পেয়ে নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। সামান্য ঠাণ্ডা লাগা থেকেও কেউ কেউ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন।

নিউমোনিয়ার উপসর্গসমূহ

১। এই অসুখের মূল লক্ষণ ধুম জ্বর। জ্বর কখনও একটু কমলেও কিছু সময় বাদেই ফের তীব্রভাবে ফিরে আসে। সঙ্গে শ্বাসকষ্ট ও শ্বাস নিতে বুকে ব্যথা।

২। ঠাণ্ডা থেকে হয় বলে মাথা যন্ত্রণা, কাশি এসবও থাকে।

৩। শরীর খুব দুর্বল থাকে। বমি ভাব, খাওয়ায় অনীহাও থাকতে পারে।

সাধারণ জ্বর থেকে কীভাবে আলাদা

সাধারণ জ্বর-সর্দি-কাশি সময়ের সঙ্গে ওষুধপত্র খেতে খেতে কমে। এই অসুখে জ্বর তো কমেই না, উল্টে তা উচ্চ তাপমাত্রায় থেকে যায় বা বাড়তে থাকে। শ্বাসকষ্ট ও কাশির সমস্যাও বাড়ে। সাধারণ ওষুধে রোগী আরাম পান না। একমাত্র চিকিৎসকের পক্ষেই বোঝা সম্ভব যে আক্রান্ত ব্যক্তির সাধারণ ঠাণ্ডা লাগার শিকার, না নিউমোনিয়া দানা বেঁধেছে শরীরে।

রোগ প্রতিরোধে করণীয়

১। ধূমপান থেকে অবশ্যই দূরে রাখতে হবে রোগীকে। এমনকি কোনভাবে প্যাসিভ স্মোকিংও চলবে না।

২। ফুসফুসের কোনও রোগ থাকলে এর পাশাপাশি সে চিকিৎসাও করতে হবে।

৩। ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলে বা লিভারের কোনও অসুখ থাকলে চিকিৎসকের কাছে তা আড়াল করবেন না।

৪। অ্যাজমা থাকলে ইনহেলার রাখতে হবে কাছে।

৫। দূষণ থেকেও দূরে থাকতে হবে রোগীকে। ধুপকাঠির ধোঁয়া, ধুনো, মশা মারার কয়েল রোগীর ঘর থেকে বাদ দিতে হবে।

৬। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা সব সময়ই উচিত। অসুখের সময় রোগের জীবাণু রুখতে সেদিকে আরও বেশি করে সময় দেওয়া উচিত।

৭। কোনভাবেই ঠাণ্ডা লাগানো যাবে না।

৮। যে শিশু এখনও কথা বলতে শেখেনি বা কথা বলতে পারলেও নিজের সমস্যার কথা বুঝিয়ে বলার বয়সে পৌঁছয়নি, তাদের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়াতে হবে অভিভাবকদের। ঠাণ্ডা লাগলেও শিশু স্বাভাবিক আছে কিনা, খুব দুর্বল হয়ে পড়ছে কিনা, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছে কিনা, সাধারণভাবে খেলাধুলো করছে কিনা অতিরিক্ত ঘ্যানঘ্যান করছে কি না এসব দেখাও জরুরি।

নিউমোনিয়ার টিকা

শিশুদের বেলায় আগাম রোগ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে নিউমোনিয়ার টিকা দেওয়া হয়। নিউমোনিয়ার টিকা সাধারণত দু’প্রকারের হয়। বছরে একবার নেওয়া যেতে পারে। আবার পাঁচবছর অন্তর বুস্টার ডোজেও নেওয়া যায় নিউমোনিয়ার টিকা। 

যারা ইতোমধ্যেই নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত বা আক্রান্ত হতে পারেন এমন মানুষদের ক্ষেত্রে অন্যধরনের টিকা দেওয়া হয়। তবে সব টিকা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুবই দরকার। অবশ্য এই ধরনের টিকায় তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

About

Popular Links