Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

করোনায় সংক্রমণ সবার দেহে একই হয় না কেন!

এর মূল কারণ বের করতে মানুষের ডিএনএ‌’র ভান্ডার ব্যবহার করছেন বিজ্ঞানীরা। এর নাম ‘ইউকে বায়োব্যাংক’ যেখানে ৫ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবকের রক্ত, থুথু ও প্রস্রাবের নমুনার তথ্য সংরক্ষিত আছে

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২০, ০৭:২৭ পিএম

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন পৃথিবীর নানা দেশের অসংখ্য লোক। তবে সবার দেহে ভাইরাসটি সমানভাবে গুরুতর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না।

প্রথম প্রথম বলা হয়েছিলো, যাদের আগে থেকে কোনও স্বাস্থ্যসমস্যা আছে তাদেরই করোনাভাইরাসে গুরুতর অসুস্থ হবার ঝুঁকি বেশি। পরে দেখা গেছে, এমন লোকও করোনাভাইরাসে সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়েছেন যাদের আগে থেকে কোন স্বাস্থ্যসমস্যা ছিলো না।

আবার এমন লোকও আছেন যাদের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনও লক্ষণই দেখা যায় না। কত শতাংশ লোকের ক্ষেত্রে এটা হয় তা এখনো জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। অন্যদের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রতিক্রিয়া হয় মৃদু থেকে মাঝারি। প্রতি পাঁচজনের একজনের বেলায় দেখা দেয় গুরুতর অসুস্থতা এবং আক্রান্তদের আধা থেকে এক শতাংশের মৃত্যু হয়ে থাকে।

এর কারণ কী? 

এর মূল কারণ বের করতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ডিএনএ‌’র ভান্ডার ব্যবহার করছেন বিজ্ঞানীরা। এর নাম “ইউকে বায়োব্যাংক” যাতে ৫ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবকের রক্ত, থুথু ও প্রস্রাবের নমুনা এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এক দশকব্যাপী সময়ের তথ্য সংরক্ষিত আছে। এতে এখন যোগ হচ্ছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত উপাত্ত।

এসব তথ্য আগে ক্যান্সার, স্ট্রোক বা স্মৃতিভ্রংশ সম্পর্কে জানার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এবার তাতে যোগ হচ্ছে করোনাভাইরাস পজিটিভ টেস্ট সম্পর্কিত তথ্য এবং হাসপাতাল ও স্থানীয় ডাক্তারের দেওয়া উপাত্ত। এই তথ্যভাণ্ডারে ঢুকতে পারেন পৃথিবীর নানা দেশের ১৫ হাজারেরও বেশি বিজ্ঞানী।

প্রকল্পের প্রধান তদন্তকারী অধ্যাপক রোরি কলিন্স বলেন, “আমরা হয়তো খুব দ্রুত কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করে ফেলতে পারি‍। এটা হতে পারে গবেষকদের জন্য এক স্বর্ণখনি।“

তিনি বলেন, “আমরা কোভিড ১৯ সংক্রমিতদের মধ্যে পার্থক্যগুলো কী তা জানার জন্য ইউকে বায়োব্যাংকের উপাত্তসমূহ পরীক্ষা করছি। তাদের জিনগত গঠনে কী পার্থক্য আছে? এই পার্থক্যের সাথে কি তাদের রোগ-প্রতিরোধী বা ইমিউনিটি ক্ষমতা সম্পর্কিত? তাদের পূর্ববর্তী স্বাস্থ্যগত অবস্থার মধ্যে কি কোনও ভিন্নতা আছে? এসবই জানতে চাচ্ছি আমরা।”

বিজ্ঞানীরা কী দেখবেন?

গবেষকরা একেকজনের পুরো জিনোমটাই পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে দেখবেন ডিএনএ’র মধ্যে কোথায় কোথায় অতি ক্ষুদ্র সব পার্থক্য আছে।

বিশেষ করে তারা পরীক্ষা করে দেখবেন এসিই-টু নামে একটি জিনকে যা একধরনের রিসেপটর তৈরিতে সহায়তা করে।যার মাধ্যমে করোনাভাইরাস শ্বাসতন্ত্রে ঢুকে সেখানকার কোষগুলোকে সংক্রমিত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রকেফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জঁ-লরেন্ট কাসানোভার নেতৃত্বে আরেকটি দলও এমন এক গবেষণা করছে।

অধ্যাপক কাসানোভা জানান, অতীত গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু লোকের ক্ষেত্রে যাদের ইমিউনিটির জন্মগত কোনও ত্রুটি আছে, তাদের ফ্ল বা হারপিসের মত কিছু রোগ হলে তা গুরুতর চেহারা নিতে পারে।

তিনি বলেন, “এমন হতে পারে যে এই জন্মগত ত্রুটি দশকের পর দশক দেহে সুপ্ত থাকতে পারে। যতদিন পর্যন্ত না তিনি ওই বিশেষ মাইক্রোবে সংক্রমিত হন, ততদিন এটা কেউ জানতেই পারে না। আর আমাদের কর্মসূচিতে এটাই দেখা হবে যে কোভিডের ক্ষেত্রেও এমনকিছু ঘটে কিনা।”

About

Popular Links