Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গল্প- দশম ফোঁড়

তিনদিন ধরে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের চোখের জলও বোধহয় শেষ। উঠে দাঁড়ালেন হাসিব, ঘরের ভিতর থেকে কোদালটা খুঁজে নিয়ে সোজা এসে দাঁড়ালেন উঠানের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে

আপডেট : ০১ মে ২০২০, ০৩:৩৬ পিএম

হাসিব সাহেব একটি সরকারি কলেজে লেকচারার পদে মাস খানেক হলো যোগদান করেছেন, পুরো নাম হাসিবুল হক। বাবা মায়ের বড় আদরের সন্তান তিনি। তার জন্মের পরবর্তী ১৫ বছর ওই দম্পতির আর কোনো সন্তান হয়নি। সবেধন নীলমনি ছিলেন হাসিবই। বহুবছর পর একটা কন্যাসন্তান হলেও প্রথম সন্তাদের আদর এতটুকু কমেনি।

মা-বাবা আর এক ছোটবোন এই নিয়েই হাসিবের সংসার, বিয়ে করেননি এখনও। হঠাৎই অপ্রত্যাশিত এক অখণ্ড অবসরে বিষিয়ে উঠেছেন হাসিব। করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী চালাচ্ছে ভয়াল মৃত্যুযজ্ঞ। ভাইরাসটি সমস্ত পৃথিবীর সব দেশের স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, স্টেশন-দোকান সর্বত্র তালা ঝুলছে অনির্দিষ্টকালের জন্য।

কর্মঠ হাসিব ঘরে বসে থাকতে পারেন না কিছুতেই। কিন্তু এখন বাইরে যাওয়াও নিরাপদ নয়। এদিকে সারাদেশে দেখা দিয়েছে করোনাজনিত মৃতদেহ সৎকার করার লোকের অভাব। সৎকারের অভাবে রাস্তার পাশে, হাসপাতালের লাশ ঘরে পচছে দেহগুলো। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে ক'জনই বা উঠতে পারে?

কিছু কিছু স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান শুরুর দিকে এগিয়ে আসলেও লাশের স্রোত দেখে ভয় পেয়ে সরে গছে অনেকে আবার অনেককেই শামিল হতে হয়েছে এই মৃত্যুর স্রোতে। হাসিব বসে থাকতে পারলেন না, যোগ দিলেন নিজ জেলা মেহেরপুরের করোনায় মারা যাওয়া অস্পৃশ্য দেহগুলো সৎকারের কাজে।

তাকে দেখে এগিয়ে আসলো আরো কয়েকজন, গঠিত হলো একটা দল। আগে থেকেই একটা দল কাজ করছিলো জেলায়। হাসিবরা যোগ দেওয়ায় একটা বেড়ে গেলো। দেশে এখন কাতারে কাতারে মানুষ মরছে প্রতিদিন, মেহেরপুরেও মরছে অসংখ্য।

দেশের প্রতিটি আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে গেছে ভাইরাসটির বিষাক্ত ছোবল, রোজই লাখ লাখ লোক আক্রান্ত হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। দম ফেলার সময় নেই এই সৎকারকারীদের। নাওয়া নেই-খাওয়া নেই, করবের পর কবর খুঁড়েই চলেছে ওরা। ঘরে যাওয়ারও সুযোগ নেই এদের কারও, পাছে ভাইরাসটাও ঘরে ঢোকে।

শহরের একটা স্কুলে স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্পে থাকেন রাতে। নিয়মিত ঘুমানো হয় না তাদের, মাঝেমধ্যে দুই-তিনদিনেও একবার ঘুমাতে পারেন না। একের পর এক নিথর দেহগুলো আসে, কেউ কবরস্থানে যায়, কেউ যায় শ্মশানে।

শ্মশান কিংবা কবরস্থান, সবখানেই শেষকৃত্য করাচ্ছেন ওরাই। হিন্দু-মুসলমান মিলিয়েই প্রতিটা দল। ওরাই মৌলভী, ওরাই পুরোহিত। মানবিকতার দাপটে যেন নিমিষে মিলিয়ে গেলো সহস্র বছর পুরনো সব ধর্মীয় কাঁটাতার।

মানুষই কেবল একমাত্র সত্য, মনুষ্যত্বই ধর্ম। এরইমধ্যে কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণ চলছে। ঝুম বৃষ্টির এক রাতে মৃতদেহ কবরে নামানোর কোন ফাঁকে হাসিবের মোবাইলটাও টুপ করে কবরে চলে গেলো, টের পেলেন ক্যাম্পে ফিরে এসে। কিন্তু আফসোস করারও ফুসরত নেই, আবারো ছুটতে হলো নতুন এক মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে। এক জায়গার কাজ শেষ না করতেই ডাক আসে আরেক জায়গা থেকে। যেন এই মৃত্যুর মিছিল কখনো থামবার নয়। আরও একটা দল পরে যোগ হয়েছে, ভাগ হয়ে কাজ করছে তিনটি দল, তবুও কুলিয়ে উঠতে পারছে না কিছুতেই।

তিনদিন পর ক্যাম্পে ফিরে এলো হাসিবদের দল, সবাই ক্লান্ত-শ্রান্ত-ক্ষুধার্ত, অত্যন্ত দুর্বল। বৈশাখী ঝড়বৃষ্টির মধ্যে দিন-রাত একটানা কাজ করে গেছেন গত কয়েকদিন। এবার যেন শরীর আর চলছেনা কারোরই। আজ ওরা বিরতি দিয়েছে কাজে। চোখ ভেঙে ঘুম নামতে চাইলেও ঘুম যেন ঠিক আসছে না হাসিবের, বাড়ির জন্য মন পুড়ছে। কতদিন আপনজনের মুখগুলো দেখা হয় না। মৃত মানুষের শীতল মুখগুলো দেখে দেখে তিনি ক্লান্ত। গোসল-খাওয়া শেষ করেই বাড়ির পথে বেরোলেন তিনি। মেহেরপুর থেকে গোপালডাঙ্গা গ্রাম, সাধারণত দুই ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায়। কিন্তু লকডাউনের এই সময় কদাচিৎ গাড়ির দেখা পাওয়া যায়। অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সময় তো লাগবেই।

দেরি করবেন না তিনি, দূর থেকে সবাইকে একবার দেখেই ফিরে আসবেন আবার৷ তার দলটা ক্যাম্পে বিশ্রাম নিচ্ছে, অন্যদুটো দল কাজে বেরিয়ে গেছে।

বাড়ি পর্যন্ত আর যেতে হলো না হাসিবের; বাজারে পৌঁছতেই শুনতে পেলেন বাবার মৃত্যু সংবাদ। তিনদিন আগে, গভীর রাতে পুরনো শ্বাসকষ্টটা প্রচণ্ড বেড়ে গিয়েছিলো। অনেকদিন থেকেই ভুগছিলেন তিনি, বহু বারণের পরেও সিগারেটটা ছাড়তে না পারায় দিনদিন শ্বাসকষ্টের তীব্রতা বেড়েই যাচ্ছিলো। নিয়মিত ব্যবহারের ইনহেলার দুটো শেষ হয়ে গিয়েছিলো আগেই, হাসিব জানেন। আগেরবার যখন দেখা করতে এসেছিলেন, মা বলেছেন। কাউকে বাসা থেকে বের হতে বারবার নিষেধ করে হাসিব বলেছিলেন পরদিনই পাঠিয়ে দেবেন কারও হাতে অথবা তিনি নিজে এসেই দিয়ে যাবেন। কিন্তু মৃত মানুষের ক্রমবর্ধমান ভিড় আর সৎকারের তাড়ায় বাবার ইনহেলারের কথাটা  ভুলিয়ে দিয়েছিলো।

একটা ভুলের মাশুল যে এত মর্মান্তিক হতে পারে কে জানতো? তিনদিন হয়ে গেছে, লাশ এখনও দাফন করা হয় নাই। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সন্দেহে পাড়া-পড়শি কেউই এগিয়ে আসেনি। শ্বাসকষ্টে মৃত্যু আর ছেলের করোনার সাথেই ওঠা-বসা, এই দুটো কারণেই সবার এই সন্দেহ।

অথচ ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর হাসিব যতবারই দেখা করতে এসেছেন, ঘরে তো ঢোকেনইনি বরং অনেক দূর দাঁড়িয়ে কথা বলেই চলে যেতেন। হাসিবের নম্বরে অনেকবার কল দিয়েছিলেন মা, কিন্তু তার মোবাইল তো কোনো এক শবের সাথে কবরে। ক্যাম্পের আর কারও ফোন নম্বরও বাড়িতে ছিলো না। ক্যাম্পে গিয়েও হাসিবের কোনো খোঁজ পাননি। এতো তাড়াহুড়োতে দলগুলো তৈরি করা হয়েছে আর সবাই এতো দৌড়ের উপর থাকে যে এক দলের সাথে অন্য দলের দেখা হওয়ারই কোনো সুযোগ নাই। এক দলের লোক জানে না অন্য দলে কারা কাজ করছে। পরিচয় পর্বের অবকাশই আসেনি কখনো।

হাসিব উদভ্রান্তের মতো ছুটলেন বাড়ির দিকে।

খাটের উপর বাবার পায়ের কাছে বসে মুখের দিকে অপলক তাকিয়ে আছেন হাসিব। যেন এই বুঝি নড়ে ওঠে বাবার চোখের পাতা! শব পচতে শুরু করেছে, মাংস পচা গন্ধে এই ঘরে ঢোকা যায় না। হাসিবের ছোট বোন ওড়না নাকে চেপে দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। অথচ হাসিব কি নির্বিকারভাবে বসে আছেন বাবার পাশে! চোখে কান্নার ছিঁটেফোঁটাও নেই, প্রচণ্ড রুক্ষ্ম দেখাচ্ছে তাকে। পাথরের মতো। হাসিবের মস্তিষ্কে তোলপাড় চলছে।

ভেতর থেকে কেউ একজন যেন বারবার তাকে বলছে, তুই তোর বাবার হত্যাকারী, তুই-ই খুন করেছিস বাবাকে। সেদিন ইনহেলার‍টা যদি ঘরে থাকতো তবে হয়তো বেঁচে থাকতেন বাবা। কী কষ্টই না হয়েছে বাবার তখন! ভাইরাসে আক্রান্ত অচ্ছ্যুৎ দেহগুলো সৎকারে এতোটাই মগ্ন হয়ে ছিলেন যে, জন্মদাতার অবশ শরীরেই কখন পচন ধরে গেলো। ভালোবাসার দাবির কথা উপেক্ষা করলেও, বৃদ্ধ পিতামাতার ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব সন্তানের ওপরেই বর্তায়। ইনহেলারের কথা ভুলে যাওয়ার কারণগুলো যতই বাস্তব আর মানবিক হোক, তাতে বাবার প্রতি দায়িত্বে যে স্পষ্ট অবহেলা করেছেন তা মিথ্যে হয়ে যায় না।

বৃহত্তর কল্যাণ করতে গিয়ে এককের প্রতি বড় অবিচার করেছেন তিনি!

নষ্ট করার সময় নাই। যত দ্রুত সম্ভব শব সৎকার করতে হবে। হাসিব মনের ভুলে মোবাইল খুঁজতে পকেটে হাত দিলেন। পকেটে হাতটা দিয়েই তার বুকটা খা-খা করে উঠলো, মুখটা আরও কালো হয়ে গেলো। দলের সবার নম্বর তো তার মোবাইলে সেইভ করা ছিলো, মোবাইলটাই তো নাই। কিছু ভাবতে পারছেন না হাসিব, হতভম্বের মতো বসে রইলেন আগের জায়গায়। বাবার পায়ের কাছে।

কীভাবে দাফন হবে বাবার! মনে মনে হিসাব করলেন, মেহেরপুর গিয়ে দলের সদস্যদের নিয়ে ফিরতে ফিরতে রাত শেষদিকে চলে যাবে৷ ততক্ষণে বাবার শরীরের হাড় থেকে মাংস খসে খসে পড়বে। এখনই সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, ক্যাম্পে গিয়ে ফিরে আসার সময় কোনো গাড়ি যে পাবেন না, তা অনেকটা নিশ্চিত।

হাসিব মাথা নিচু করে নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন অনেকক্ষণ। কী করবেন এখন?

এদিকে, বাবার শরীর থেকে গন্ধ ক্রমশ বাড়ছেই। হঠাৎ মনে হলো, তার কলেজেরই এক সহকর্মী কাজ করছেন তারই দলে, ওনার ভিজিটিং কার্ড থাকতে পারে ওয়ালেটে। গাঢ় অন্ধকারে যেন এক বিন্দু আলোর সন্ধান পেলেন হাসিব। ভিজিটিং কার্ডের সাথে নম্বর মিলিয়ে নিয়ে মায়ের মোবাইল থেকে বারবার ডায়াল করতে থাকেন, প্রতিবারই জবাব আসে "আপনার ডায়েলকৃত নাম্বারটি এই মুহুর্তে বন্ধ আছে...।"

মনে পড়ে দলের সবাই ক্লান্ত ছিলো, হয়তো মোবাইল বন্ধ করে ঘুমাচ্ছে। আচমকা যেভাবে জ্বলে উঠেছিলো আলোটি, সেভাবেই দপ করে নিভে গেলো। মা-বোন সবাই ভেঙে পড়েছে, কারও মুখে কোনো কথা নেই। অনেকটা সময় ধরে সবাই চুপ।

তিনদিন ধরে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের চোখের জলও বোধহয় শেষ। উঠে দাঁড়ালেন হাসিব, ঘরের ভিতর থেকে কোদালটা খুঁজে নিয়ে সোজা এসে দাঁড়ালেন উঠানের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে। সন্ধ্যা নেমে গেছে, শুরু হয়েছে তুমুল বৃষ্টি, বৃষ্টিতে সন্ধ্যেটা আরো কালো হয়ে গেছে। বৈশাখের এই সময়ে বৃষ্টি একা আসে না, সঙ্গে করে নিয়ে আসে শিলা। প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টি, ঘুটঘুটে অন্ধকার আর তিনদিন নির্ঘুম পরিশ্রমে ভগ্ন শরীর, কিছুরই যেন পরোয়া করছন না তিনি। শোকই যখন শক্তি হয়ে যায় তখন হয়তো তাকে থামানোর সাধ্য কারো থাকে না। তাছাড়া, এক নিদারুণ অন্তর্জ্বালাও কি নেই তার মনে?!

ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই কবর খোঁড়া শেষ। বৃষ্টি তখনও ঝরেই যাচ্ছে, শিলা পড়া কিছুটা থেমেছে। অন্ধকারে ঘুরে ঘুরে অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র বাঁশ, চাটাই ইত্যাদি যেখানে যা পেয়েছেন যতটা সম্ভব জোগাড় করছেন। ঘর থেকে একটা সাদা কাপড় নিয়ে সেটাকেই কাফন বানালেন। একাই করছেন সব।

মানুষ মরে গেলে শরীরের ওজন বেড়ে যায়। বাবার দেহটা ঘর থেকে একা বের করে আনা সহজ ছিলো না মোটেই। মা একবার এগিয়ে এসে ধরতে চাইলেন একপাশে, হাসিব তৎক্ষণাৎ চিৎকার দিয়ে সরিয়ে দিলেন মাকে। চিৎকার করেই বললেন, আমার প্রায়শ্চিত্ত আমাকেই করতে দাও। একাই করলেন সব কিছু। শেষ হতে হতে রাত প্রায় দু'টা বেজে গেছে। মা এতো করে বললেন রাতটা থেকে যেতে। তাছাড়া এতো রাতে কীভাবেই বা যাবে! হেঁটে যাওয়া ছাড়া তো উপায় নেই। খাওয়া নেই, ঘুম নেই তারপর এমন অমানবিক পরিশ্রম, এ অবস্থায় এক পা হাঁটাও তো দুঃসাধ্য। মা বারবার বারণ করলেন, কিন্তু কে শোনে কার কথা! দাফন শেষ করে কোদালটা ঘরের দরজার সামনে রেখেই চলে গেলেন হাসিব৷ এতোটা সময়ের মধ্যে হাসিবের চোখে এক ফোঁটা জলও উঁকি মারতে দেখা যায়নি। রক্তজবার মতো লাল হয়ে ছিলো চোখদুটো, মনে হচ্ছিলো কাঁদলেই রক্ত ঝরবে। শুধু যাওয়ার আগে মায়ের পায়ে সালাম করে বলেছিলেন, আমি বেঁচে থাকতে আর কোন বাবার লাশ পচতে দিবো না মা, দোয়া করো। মা কিছু বলতে পারেননি, চুপচাপ তাকিয়েছিলেন ছেলের দিকে।

ক্যাম্পে ফিরে গেলেন হাসিব। এখন যেন তার উদ্যম বহুগুণে বেড়ে গেলো, কোনো লাশকে পচতে দেয়া যাবে না। ক্যাম্পের কেউই জানে না তার বাবার মৃত্যুর খবর। কী-ই বা বলবেন হাসিব! নিজের বাবাকে হত্যা করার কথা কি কেউ কখনো বলতে পারে? হাসিবের এখনও মনে হয়, বাবার মৃত্যু এবং পরবর্তী দুরাবস্থার সম্পূর্ণ দায় একমাত্র তার। কিন্তু সেই মৃত মানুষগুলো, যাদের এই সময়ে ঘরে থাকার কথা ছিলো, অথচ তারা হাসিবকেও ঘর থেকে বের করে আনলো, ভুলিয়ে দিলো বাবার ঔষুধের কথা, তাদের কি কোনো দায় নেই?

About

Popular Links