Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জেনে নিন যেসব উপায়ে আপনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন

খুব সামান্য মাত্রায় আক্রান্ত হলেই যে কেউ এতে সংক্রামিত হয়ে পড়তে পারেন

আপডেট : ০৬ জুন ২০২০, ০৩:৫২ পিএম

কোভিড-১৯ সংক্রামিত হতে হলে কোনও ব্যক্তিকে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে হয়। তবে ঠিক কী পরিমাণ ভাইরাস দ্বারা

আক্রান্ত হলে তিনি সংক্রামিত হবেন?

অন্যান্য করোনাভাইরাসের আক্রান্ত করার মাত্রা গবেষণা করে দেখা গিযেছে যে, খুব সামান্য মাত্রায় আক্রান্ত হলেই যে কেউ এতে সংক্রামিত হয়ে পড়তে পারেন।

কয়েকজন বিশেষজ্ঞের অনুমান, ১হাজার সার্স-কোভ-২ সংক্রামিত ভাইরাস-কণাই কাউকে কুপোকাত করতে যথেষ্ট।

ডার্থমাউথের ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটির জীববিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইরিন এস ব্রোমেজের লেখা একটি প্রবন্ধে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। প্রবন্ধটি ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) প্রকাশ করেছে।

 বাথরুম

 এই পরিস্থিতিতে বাথরুম একটি উচ্চমাত্রার ঝুঁকিসম্পন্ন স্থান। বিশেষ করে বাথরুমের মেঝে, দরজার হ্যান্ডেল, কল, পানির

মিটারের দরজা ইত্যাদি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একইসাথে বাথরুমের ফ্লাশের মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 এই অবস্থায়, গণবাথরুম ব্যবহারে অবশ্যই আমাদের সকলকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

 হাঁচি-কাশি

 মাত্র একবার দেওয়া কাশি ৮০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে গিয়ে প্রায় ৩হাজার কণা ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। যদিও এর

বেশিরভাগ অংশই মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে দ্রুতই মাটিতে পড়ে যায়। তবে বাকি অংশ বাতাসের সঙ্গে রয়ে গিয়ে মাত্র

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো কক্ষে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যখন কোনও ব্যক্তি আক্রান্ত হন, তার একবার দেওয়া হাঁচি থেকেই ২০ কোটি ভাইরাস-কণা বহন করে যা দ্রুতই পরিবেশে ছড়িয়ে যায়।

যখন মুখোমুখি বসে কথা বলার সময় কেউ হাঁচি বা কাশি দেয়, তখন খুব সহজেই ১হাজার কণা ভাইরাস নিঃশ্বাসের মাধ্যমে

গ্রহণ করে অপর ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। তবে কেউ যদি সরাসরি কারও সামনে হাঁচি বা কাশি নাও দেয়, তবু তা কয়েক সেকেন্ড পর্যন্ত বাতাসে মিশে থাকে এবং ওইসময়ের মধ্যে সেকক্ষে কেউ প্রবেশ করার পরপরই ভাইরাস আক্রান্ত হন।

 নিঃশ্বাসের মাধ্যমে

একবার ছাড়া নিঃশ্বাস ৫০ থেকে ৫ হাজার কণা ছড়ায়। বেশিরভাগ সঙ্গেসঙ্গেই মাটিতে পড়ে গেলেও সামান্য পরিমাণ নিঃশ্বাস গ্রহণের মাধ্যমে অপরজনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।

হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে অনেকবেশি পরিমাণ ভাইরাস ছড়ায় তবে, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যদিয়ে অল্প পরিমাণে ভাইরাস

ছড়ানোর ঘটনা ঘটে। যার পরিমাণ হয়ত সার্স-কোভ-২ হওয়ার মত নয়, তবে তা ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণ হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত একজন ব্যক্তি প্রতি একমিনিটে ৩৩টি ভাইরাস-কণা ছড়াতে পারেন। একটি ফর্মুলা মনে রাখতে হবে, সফল সংক্রমণ=ভাইরাস প্রবেশ*সময়।

তবে সাধারণ শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে পরিবেশ থেকে প্রতি একমিনিটে ২০টি ভাইরাস-কণা নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে পর্যন্ত যায়, তবে ৫০ মিনিট শ্বাস নিলে একহাজার ভাইরাস-কণা দেহে প্রবেশ করবে।

কথা বলার মাধ্যমে

কথা বললে শ্বাস-প্রশ্বাসের কণাগুলি প্রায় ১০ গুণ বেশি ছড়ায়, যা প্রতি মিনিটে ২০০ ভাইরাস-কণা পর্যন্ত হয়। আবার অনুমান করা যায়, সংক্রামিত হওয়ার মত প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থাৎ ১হাজার কণা শরীরে প্রবেশ করতে মুখোমুখি বসে পাঁচ মিনিট কথা বলার মত সময় লাগবে।

অতএব, ১০ মিনিটেরও বেশি সময় মুখোমুখি কথোপকথনটি অবশ্যই সংক্রমণের দিকে ঠেলে দেবে। তাই অনেকবেশি সময়ের জন্য অফিস বা জনসমাগমে যোগ দেওয়া যেকোনও ব্যক্তিই সম্ভাব্য সংক্রামণের তালিকায় পড়তে পারেন।

একারণেই ভাইরাসের লক্ষণজনিত ব্যক্তিদের ঘরে থাকা বাধ্যতামূলক। কেননা তার হাঁচি ও কাশিতে এত বেশি পরিমাণ

ভাইরাস নির্গমন ঘটে যে এরমাধ্যমে বহু লোকের সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

About

Popular Links