Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বর্ষায় আলমারিতে রাখা জামা-কাপড়ের যত্ন

আলমারি বা ওয়ার্ডরোবের পেছনের দেওয়াল ও আশপাশের মেঝে যেন ভিজে না থাকে তা নিশ্চিত করতে পারলেই অনেকটা স্বস্তি!

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২০, ০১:২৪ পিএম

বর্ষা-বাদল ও ঘরবন্দি এই সময়ে নিজের আলমারির যত্ন কীভাবে নেবেন? কীভাবে রাখলে জামা-কাপড় অনেকদিন পরা না হলেও তা থাকবে নতুনের মতোই ঝকঝকে, তকতকে? আসুন জেনে নিই সেসম্পর্কে কয়েকটি টিপস।

স্যাঁতসেঁতে ভাব চলবে না

যতই বর্ষা এসে চোখ রাঙাক, জামাকাপড় রাখার জায়গা কিন্তু ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে হওয়া চলবে না। আলমারি বা ওয়ার্ডরোবের পেছনের দেওয়াল ও আশপাশের মেঝে যেন ভিজে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে পারলেই অনেকটা স্বস্তি। অনেকে দেওয়ালে ক্যাবিনেট বানিয়ে পোশাক রাখে। সেক্ষেত্রেও ওই দেওয়াল যাতে শুকনো থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ছাতা পড়েছে দেখলে

বাতাসের ভেজা ভাবের জন্য এই সময় কাঠের আসবাবে ছত্রাক বাসা বাঁধে। তেমনটা হচ্ছে দেখলে আলমারি বা ওয়ার্ডরোব থেকে আগে সব পোশাক বাইরে বের করে নিন। তারপর ভেতরটা শুকনো কাপড় দিয়ে ভাল করে মুছে নিন। ভেজা ভাব পুরোপুরি দূর হয়েছে বুঝতে পারলে তবেই আবার পোশাক গুছিয়ে ভেতরে রাখুন। 

আসবাবের তাকগুলোয় কাগজ বিছিয়ে তার উপর জামা-কাপড় গুছিয়ে রাখতে পারেন। জামা-কাপড়কে পোকা-মাকড় ও ভ্যাপসা ভাব থেকে রক্ষা করতে চাইলে আসবাবের ভেতর কোণায়-কোণায় ন্যাপথলিন রাখতে পারেন।

গোছাতে গেলে মাথায় রাখুন

পোশাক ভাল রাখতে চাইলে, অনেকদিন টিকিয়ে রাখতে চাইলে তা সুন্দরভাবে ভাঁজ করে রাখা উচিত। আজকাল যা অবস্থা তাতে অনেককেই রোজ বাড়ির বাইরে বেরতে হচ্ছে না। সপ্তাহে কয়েকদিন বেরলেই চলে যাচ্ছে। ঘরে ফিরেই জামাকাপড় না কেচে অনেকে আলাদা করে সরিয়ে রাখছেন, পরে আবার ওটাই পরে বেরবেন বলে। এটা করা চলবেই না। বাইরের জামা-কাপড় না কেচে কখনওই আবার পরে বেরবেন না। 

ছোট ও বড় কাপড় আলাদা করে গুছিয়ে রাখুন। তা হলে প্রয়োজনে সহজেই খুঁজে পাবেন। মোজা ও অন্তর্বাস আলাদা ড্রয়ারে গুছিয়ে রাখতে পারেন। ব্লাউজ ও পেটিকোটও আলাদা তাকে রাখা যায়। শার্ট রাখার জন্যও আলাদা একটা তাক ব্যবহার করলে তো আর কথাই নেই!

জায়গা বাঁচান হ্যাঙার দিয়ে

কিছু শাড়ি যদি ভাঁজ করা থাকে আর কিছু ঝুলিয়ে রাখা, আলমারিতে জায়গা বাঁচে। সিন্থেটিক কটন শাড়ি ঝুলিয়ে রাখতে পারেন। সুতির শাড়ি ভাঁজ করে রাখা যায়। কোনও শাড়ির সঙ্গে নির্দিষ্ট ব্লাউজ আর পেটিকোট গুছিয়ে রাখতে চাইলে একটিই শক্তপোক্ত হ্যাঙার ব্যবহার করতে পারেন। এভাবে একসঙ্গে পরার পোশাকগুলো এক হ্যাঙারে রাখলে সহজেই খুঁজে পাবেন। 

আর বলি ব্লেজারের কথা। ব্লেজারের সঙ্গে সাধারণত ব্যাগ থাকে, যেন ব্লেজ়ারটা ব্যাগে রেখে একটা হ্যাঙারে ঝুলিয়ে দেওয়া যায়। সুট-জাতীয় পোশাক আলমারির রডে হ্যাঙারে ঝুলিয়ে রাখলে ভাল। সুতির পোশাকও ঝুলিয়ে রাখা যায়। তবে সোয়েটার বা অন্যান্য পশমি কাপড় ঝুলিয়ে রাখতে নেই, ঝোলানো থাকলে ওগুলো বেড়ে লম্বা হয়ে যেতে পারে।

মেঘ কেটে গেলে

আকাশের মুখভার কমলে মাথায় রাখুন, সরাসরি রোদে দিলে অনেকসময় কাপড়ের রং জ্বলে যাওয়ার ভয় থাকে। তাই কাপড় সরাসরি রোদে দিলে অবশ্যই ওগুলো উলটে দিন। সবচেয়ে ভাল হল, যে জায়গায় রোদের তাপ আসছে, সেখানে কাপড় রাখা। আর যদি ঘনঘন পোশাক রোদে দেওয়ার সুযোগ না হয়, সেক্ষেত্রে আসবাব পরিষ্কার করার সময় পোশাকগুলো বের করে একটু ঝেড়ে রাখা ভাল। 

দীর্ঘদিনের জন্য পোশাক সংরক্ষণ করতে চাইলে তাতে মাড় না দেওয়াই ভাল। মাড় দেওয়া কাপড় বেশিদিন রেখে দিলে তাতে পোকা লাগতে পারে বা ভাঁজেভাঁজে ছাতা পড়তে পারে।

ভ্যাকসিন না বেরনো পর্যন্ত নিজের ঘরের চার দেওয়ালই যখন ভরসা, তার ভেতরটা একটু গুছিয়ে রাখুন না কেন। মনটা এতে ভাল বই খারাপ লাগবে না!

About

Popular Links