Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শিশুর মাম্পস হলে

এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ। শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ০৪:০২ পিএম

এটি একটি ভাইরাল অসুখ, যা মাম্পস ভাইরাসের কারণে হয়। রোগের উপসর্গ হিসেবে প্রথম দিকে জ্বর হয়, তারপর কানের পেছনে থাকা প্যারোটিড গ্ল্যান্ড ফুলে ওঠে। এটি একটি স্যালিভারি গ্ল্যান্ডও বটে। এই গ্ল্যান্ড থেকে বেরনো স্যালাইভার মাধ্যমে মাম্পস ভাইরাস ছড়ায়। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ। শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়।

রোগের লক্ষণ

মাম্পসের ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার দু’ সপ্তাহের মধ্যে তার চিহ্নসকল প্রকট হয়ে ওঠে। শরীরজুড়ে একটা ক্লান্তি থাকে। গায়ে ব্যথা, কখনও মাথায়ও ব্যথা থাকে। অনেকেরই একেবারে খেতে ইচ্ছে করে না। খাওয়ার প্রতি অনীহা জন্মায়, সেইসঙ্গে থাকে জ্বর। জ্বর একশো তিন-চার ডিগ্রি পর্যন্তও উঠতে পারে। তার কয়েকদিনের মধ্যে স্যালিভারি গ্ল্যান্ড ফুলে ওঠে। ধীরেধীরে তাতে প্রচণ্ড ব্যথা হতে থাকে।

চিকিৎসা

মাম্পসে জ্বর ও প্রচণ্ড ব্যথা হয় বলে, তা উপশমের জন্য ওষুধ দেওয়া হয়। এই রোগের জন্য আলাদা করে খাওয়া-দাওয়ায় কোনও বিধি-নিষেধ নেই। তবে জায়গাটা ফুলে গেলে, তারজন্য ওষুধ দেওয়া হয়। অনেকসময় মাউথওয়াশও দেওয়া হয়, যাতে স্যালাইভা নিষ্ক্রমণে কোনও বাধা না পড়ে। তবে যদি কারও মাম্পস হয়, অবশ্যই তার থেকে দূরে থাকা দরকার, যাতে ট্রান্সমিশনটা না হয়। এই রোগ হওয়ার পর অনেকেই পেটে ব্যথা বা টেস্টিকুলার পেন নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। তাই এগুলোকে বলা যায়, এই রোগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আরও নানা জটিলতা।

 ভ্যাকসিনেশন

 এই রোগ সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটা বলার, তাহল ভ্যাকসিন প্রিভেনটেবল ডিজিজের মধ্যে মাম্পস অন্যতম। তাই মাম্পসের জন্য এমএমআর ভ্যাকসিন একবছর দু’-তিন মাস বয়সের মধ্যে দেওয়া হয়ে থাকে। আবার পাঁচবছর বয়সে বুস্টার ডোজ অফ এমএমআর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এই রোগের হাত থেকে বাঁচার জন্য সতর্কতা হিসেবে এই দু’টো ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 

তবে এর সঙ্গে এটাও মনে রাখবেন, কোনও ভ্যাকসিনই ১০০% রোগ প্রতিরোধক নয়। তাই এই দু’টো ভ্যাকসিন দিলে যে মাম্পস হবে না তা নয়, তবে রোগ কখনও গুরুতর আকার ধারণ করবে না এবং ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে না। তবে যেহেতু মাম্পসের এত রকম কমপ্লিকেশন রয়েছে তাই ইউনিভার্সাল ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামের মধ্যে এটিকে রাখা হয় এবং ছোটবেলায় ভ্যাকসিনেশন করে এই রোগ প্রতিরোধ করা হয়। যে কোনও বয়সেই এই রোগ হানা দিতে পারে। তবে ছোটবেলায় ভ্যাকসিন দেওয়া থাকলে পরবর্তীকালে মাম্পস হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

About

Popular Links